সমর চক্রবর্তীর কবিতা
খোদাবন্দ সমর চক্রবর্তী ধর্মের ভূত চেপেছে আজ সময়ের ঘাড়ে স্বাধীনতাকে ধরে কষে বাঁধে দেশপ্রেমের খোঁয়াড়ে। জী হুজুর গুরু বলে চেঁচায় ওরা ! বলে জী হুজুর! আপনিই ‘মা-বাপ’এর জবাবে নামে মাথায় মুগুর!
খোদাবন্দ সমর চক্রবর্তী ধর্মের ভূত চেপেছে আজ সময়ের ঘাড়ে স্বাধীনতাকে ধরে কষে বাঁধে দেশপ্রেমের খোঁয়াড়ে। জী হুজুর গুরু বলে চেঁচায় ওরা ! বলে জী হুজুর! আপনিই ‘মা-বাপ’এর জবাবে নামে মাথায় মুগুর!
বেঁচে থাকা মানে এ কে এম আব্দুল্লাহ কখনও কখনও চমক লাগে মনে, যখন দেখি বেঁচে আছি পৃথিবীতে! আজকাল পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে জঙ্গল শহর কিংবা সাগরে কেবল নির্মম মৃত্যুর নৈরাশ্য খেলা ! অবাক লাগে যখন দেখি, অকারণ মৃত্যুভুমির হৃদয় নেড়ে জমাট বাঁধা রক্তের ভেতর হতে বেঁচে থাকার ইশারা করে কোনো কচি প্রাণ কান্নার স্বর ! রুঢ়তার অলক্ষেই ভেজে ওঠে চোখ। আহা! পৃথিবীতে এখন বিকৃতির চরম এক উল্লাসিত সময়। কিছুদিন পর হয়তো মনে হবে ‘বেঁচে থাকা’ মানে পৃথিবীতে মঞ্চস্থ জনপ্রিয় কোনো পালাযাত্রার…
রক্ত গোলাপ রুবেল আহম্মেদ তোমার সাথে কল্পনাতে কথা বলাটা আমার জন্য বড্ড ভোগান্তির বলতে পারো, তোমাকে অনুভব করা, তোমার চোখ, কান, নাখ এতোটা অস্পষ্ট লাগে দ্বিধায় পড়ি মাঝে মধ্যে। অবশ্য তোমার এলোমেলো চুল আমাকে মনে করিয়ে দেয় তোমাকেই দেখছি। তোমাকে এখন সবসময় মনে করার মতো সময় হয় না, সময় হয় না টংয়ের দোকানে দাড়িয়ে চা হাতে এক কাপ চা শেষ করার। একসাথে কতটা সময় যে আমরা নষ্ট করেছি মনে পড়ে তোমার? কতগুলো গোলাপ যে তোমার উছিলায় মৃত্যুর স্বাদ নিয়েছে…
চোখের ভেতর মানচিত্র রওশন রুবী আজ আমার চোখ দুটো ঠিকভাবে খুলছে না— ভেতর থেকে কেউ যেন বলছে, দেখা মানে সবকিছু বিশ্বাস করা না। আমি আয়নার সামনে দাঁড়াই, চোখের ভেতর দেখি— একটা মানচিত্র ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। সীমানাগুলো নিজেদের নাম ভুলে গেছে, দেশগুলো ভেসে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের চোখ- অন্য কারও কাছে বন্ধক রাখা। একটা শিশু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল— হঠাৎ তার চোখ থেকে বেরিয়ে এলো একটা ছোট নদী, আমি হাত বাড়ালাম, সময় ভিজে উঠল। আমি শিহরিত হই আর চোখের পাতা…
ছোট শুভেশ চৌধুরী ছোট আমাদের থেকে দ্রুত চলা ফেরায় ডিজিটাল কার্যক্রমে আমি অবাক হয়ে দেখি তার আবিষ্কার বলে দিতে পারে সব। কিন্তু কেন হলো সব সময় বলতে পারে না তবুও বুঝি তার মন ক্যামেরায় একটি সূর্য। সকাল সাড়ে ছয়টায় যখন তাহারা দেখে তারা সূর্য উঠিলো বড় শুভেশ চৌধুরী বড় যত বড় হন তাহার হাত পা চোখ তাহাকে ফাঁকি দেয়। যদিও তাহারা কেন হয় কেন হবে না ওই সব প্রশ্নে অনেক যথাযথ। তাহাদের দুঃখ ওই একা থাকাটা। ঠিক জড়িয়ে ধরতে…
রামেশ্বরম নিধির রায় এখানেই এসেছিলে তুমি দাশরথি হৃদয়ে জেগেছিল বুঝি পাপ ব্রহ্মহত্যার পরে, এসেছিলে এই সাগরসৈকতে দ্বাবিংশ কুণ্ডস্নান সেরেছিলে পাবন সলিলে, রচেছিলে রামনাথস্বামী বালুকার লিঙ্গরাজ বৈদেহীর হাতে। সমুদ্রপাড়ে আদি দেবতারে পূজিলে যতনে তুমি শুদ্ধবিল্বপত্রপুটে হে বৈদেহীনাথ। ধুয়ে গেল সমস্ত পাপ, সকল সন্তাপ সাগরের নীল জলে মহেশের নির্দেশে। তুমি তো জানো বৈদেহীনাথ প্রিয়পাত্র রাবণের মৃত্যুর পরে কেঁদেছিলেন শোকার্ত মহেশ নিভৃত কৈলাস কন্দরে, অমোঘ নিয়তির টানে যে মরেছে বিফলে তার বিয়োগে কেঁদেছিলেন তিনি আকুল নয়নে, তোমার পাপস্খলনে তাঁরেই পূজিলে তুমি। যে…
মিলমিশ দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ফকির হয়ে আছে অমাবস্যার আকাশ তার আলখাল্লায় আজ উন্মাদ হাসি গানের ভিতর মৃত্যু ভুলে থাকি রাত্রি নাচতে থাকে চারপাশে এইভাবে মহামিলন লিখি কত আম ছড়িয়ে শুধু আমি বাদে দূরত্ব দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল হাঁটছিল শরীর ও চোখ এমন সূর্যাস্তের মুখ আমাদের দু’জন তবুও বেশ দূরে দূরে সুরাস্তা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় কোনো মূর্তি এখন স্পষ্ট নয় এই রাস্তা সঠিক তাও জানি না তবুও ভিতরে রবিগানের সুর যাত্রা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় পাতাগুলো বিবর্ণ হতে হতে মৃত্যুপথযাত্রী নীরব অক্ষরগুলো চোখে…
সন্তাপলিপি সন্তোষ রায় ১. যখন পাঠ করি, দেখি, কতবার যে মরেছো, কতবার এসেছো ফিরে ফিরে— এত ক্ষতের দাগ পান্ডুলিপি জুড়ে। পাশে রক্ত নেই, ছিটকে পড়া অঙ্গ নেই— ঘোরের কলম হাঁটে ভোরের দিকে — ২. এ কেমন ঘোর কেবল শূন্য লেখে! আমার লেখায় সোজা রেললাইন নেই, গভীর বাঁক নেই ছন্দের। শব্দ আসে। কোথায় যাত্রী, পথিক কোথায়! কথারাই যায় দূর গন্তব্যে — ৩. নিচে রেল, উপরে মেঘ — ছুটছে তোমার দিকে। ভোল ভাঙাতেই এই ছুটে যাওয়া। হেমন্ত নিঃস্ব হলো তুমিও ভুলে…
পিঁপড়ে ও আমি সনজিৎ বণিক পিঁপড়ে ও আমার মধ্যে বেশ মিল খুঁজে পাই, আমরা দুজনেই চঞ্চল, কেবল দৌড়োতে ভালোবাসি চারদিকের মাঠঘাট ও জগৎ; ভালো করে পরখ না করেই কেবল হন্তদন্ত ঘুরতে থাকি, দেখলেই মনে হয় বেশ ব্যস্ত কোনো জরুরি কাজের চাপে এদিক সেদিক দৌড়োতে দৌড়োতে কারো কথাই মনে পড়ে না! পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুব থেকে পশ্চিম দিশা আমাদের দু’জনের রাডারে বেশ পরিষ্কার এবং আমরা ছুটতে থাকি এই মায়াবী দুনিয়ায়, ছুটতে ছুটতে পরিচিত মানুষের দেখা পেলেই দু-চার কথা বলা,…
দিনকাল সদানন্দ সিংহ মেঘের গুরু গুরু গর্জনের পর যে শূন্যরাত নামে সেখানে কোনো সূত্রই কাজে লাগে না, ‘দিন আনি দিন খাই’ ভিত্তিতে রাস্তা গড়ি কর্ষণের গভীরতাও দেখি, দেখি বেবাক সূত্র কেমন কাজে লেগে আছে ধ্রুপদি লয়ে তবু হেমন্তের অরণ্যে এখনো পোস্টম্যান ঘুরে যায় ধানসিঁড়ি ভাঙে এখনো দোয়েল বাতাস। উৎসবমুখর দিনে তুলে রাখি সমস্ত বস্তাবন্দি পুতুল খেলা, আর উৎসবমুখর রাতে আহাম্মকি ঠাটবাট কানে কানে কে যেন বলে যায়, ভালোবাসি