এ কে এম আব্দুল্লাহের কবিতা

এ কে এম আব্দুল্লাহের কবিতা

বেঁচে থাকা মানে

এ কে এম আব্দুল্লাহ

কখনও কখনও চমক লাগে মনে, যখন দেখি বেঁচে আছি পৃথিবীতে! আজকাল পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে জঙ্গল শহর কিংবা সাগরে কেবল নির্মম মৃত্যুর নৈরাশ্য খেলা !
অবাক লাগে যখন দেখি, অকারণ মৃত্যুভুমির হৃদয় নেড়ে জমাট বাঁধা রক্তের ভেতর হতে বেঁচে থাকার ইশারা করে কোনো কচি প্রাণ কান্নার স্বর ! রুঢ়তার অলক্ষেই ভেজে ওঠে চোখ।
আহা! পৃথিবীতে এখন বিকৃতির চরম এক উল্লাসিত সময়। কিছুদিন পর হয়তো মনে হবে ‘বেঁচে থাকা’ মানে পৃথিবীতে মঞ্চস্থ জনপ্রিয় কোনো পালাযাত্রার বিস্মৃত স্ক্রিপ্টের এক প্রিয় সংলাপ।

কেউ খুলে দাও পাটাতনের পেরেক

এ কে এম আব্দুল্লাহ

শুনেছি সেখানে একটি অপূর্ব নদী আছে। আর রুপাগলা ঝর্ণার মতো বেয়ে আসে বাল্যকাল। জলকেলি শেষে চাঁদিও তুলতুলে পরশ শুষে নেয় দেহের জলকণা। এখানে অফুরন্ত সময়। চারদিকে জুলেখিও বাসনার আকুতি এবং রক্তহীন লেবুর আগরিও খুশবু। দুধসাদা প্রজাপতির ডানায় বাধাহীন ওড়াওড়ি সাত আঙিনায়।

এখানে কোনো বিদ্যুৎ নেই। সবদিকে কেবল নিজস্ব আলো। ইচ্ছে হলেই মোমের হলদে আলোয় বসতে পারি মুখামুখি। ইচ্ছে হলেই নামবে দুধবৃষ্টি। বেজে ওঠবে ভায়োলিনের নাঙা সুর।

আমি জন্ম থেকেই, কান পেতে বসে আছি মাটির পাটাতনে। কেউ খুলে দাও পাটাতনের পেরেক। এই অরণ্য ছেড়ে ছুটে যাই— ভায়োলিনের সেই সুরের খুঁজে।