প্রিয় পাঠক

# এটা JULY-AUG 2026 সংখ্যা # পরবর্তী SEPT-OCT 2026 সংখ্যা প্রকাশিত হবে SEPT মাসের ২০ তারিখ # আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ # ঈশানকোণ নিয়মিত পড়ার জন্য আপনার প্রতি রইল আমাদের একান্ত অনুরোধ # ফেসবুকে আমাদের পেজ লাইক করুন, আমাদের ফলো করুন # আপনার লেখা আমাদের কাছে অমূল্য, লেখা পাঠান এই ঠিকানায়ঃ singhasada4@gmail.com # ঈশানকোণ-এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড করুন # পরবর্তী SEPT-OCT 2026 সংখ্যা প্রকাশিত হবে JULY মাসের ২০ তারিখ।

মিথ্যে রোগী – চেখভ
মিথ্যে রোগী – চেখভ

মিথ্যে রোগী চেখভ (রাশিয়ান গল্প, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: বিজয়া দেব) মারফা পেত্রনোভা পেটসনকিন, জেনারেলের বিধবা স্ত্রী, যে গত দশ বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে প্রাক্টিস করছে, সে মে মাসের মঙ্গলবারে তার চেম্বারে বসে রোগী দেখছিল। টেবিলের ওপর ওষুধ রাখার বাক্সে হোমিওপ্যাথি ওষুধ, একটি হোমিওপ্যাথি বই, হোমিওপ্যাথি কেমিস্টের দেওয়া ওষুধের বিল রাখা। দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে পিটার্সবার্গের কিছু হোমিওপ্যাথের চিঠি, মারফা পেত্রনোভার মতানুসারে এঁরা অত্যন্ত স্বনামধন্য ও উন্নতমানের চিকিৎসক, চিঠিগুলো সোনালি ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে এছাড়াও ফাদার আরিস্টার্কের একটি পোর্ট্রেট…

Read More

অবলম্বন – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য
অবলম্বন – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য

অবলম্বন       (ছোটোগল্প) ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য ঠাকুর দালান থেকে দৌড়ে এসে ফোনটা ধরে মলয়। বুক কেঁপে ওঠে ভয়ে। তাহলে কি বাবার কিছু হয়েই গেল! — হ্যালো। — মিস্টার সুধাময় রায়ের বাড়ির লোক বলছেন? — হ্যাঁ আমি সুধাময় রায়ের ছেলে বলছি। — জাস্টিন মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল থেকে বলছি। — কিছু হয়েছে বাবার? গলা শুকিয়ে আসে মলয়ের। কি শুনতে হবে এইবার কে জানে। গতকাল থেকে একদম ভালো নেই সুধাময়। পোস্ট অপারেটিভ রেসপিরেটরি প্রবলেম। সঙ্গে প্রেসার ফ্লাকচুয়েশন বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও শতগুণ।…

Read More

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে – শাশ্বত বোস
এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে – শাশ্বত বোস

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে       (ছোটোগল্প) শাশ্বত বোস জঙ্গলের গা ঘেঁষে পাহাড়চুড়োর মতন অনন্ত নরম আকাশে, বসন্ত যেন ওড়ে এসেছে মিহি রঙের গুঁড়ো আবিরের মতো। ওপাশে আপার তেন্দু ফরেস্ট আর এপাশে পরপর চা বাগান পেরিয়ে গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক। মাঝে বিগত যৌবনা কোন স্থানীয় রমণীর মতন, নিমগ্ন আলোড়নে ক্ষীণ রেখাটি হয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে মূর্তি নদী! শরীর জুড়ে তার অসংখ্য যাযাবর নুড়িপাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেন কুচিকুচি জোনাকির দানা! হিমালয়ের পাদদেশে আষ্টেপৃষ্টে জড়ানো আবছা কুয়াশা ঘেরা বিস্ময় আর মহাশূন্য…

Read More

আরেক হর্ষবর্ধনের সুখদুঃখ – সদানন্দ সিংহ
আরেক হর্ষবর্ধনের সুখদুঃখ – সদানন্দ সিংহ

আরেক হর্ষবর্ধনের সুখদুঃখ     (ছোটোগল্প) সদানন্দ সিংহ এক আকাশে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। দেখে বেশ আনন্দ হয় হর্ষবর্ধনের। কবিতার খাতা খুলে আঁকাবুকি কাটে। কবিতা তাকে কুরে কুরে খায় না, সে-ই কবিতাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ইদানীং। কারণ হর্ষবর্ধনের খুব ইচ্ছে একটা কবিতার বই বের করবে আর নিজের নামের একটা কার্ড বানাবে, যে কার্ডে লেখা থাকবে কবি হর্ষবর্ধন। কবি হওয়ার সাধ বহুদিনের তার। কবিতাটা ঠিক আসেনি এখনো, তা সে নিজেও জানে। কী লিখবে ছাতা-মাথা সে প্রায়সময়েই খুঁজে পায় না। কলম নিয়ে বসে…

Read More

মহিলাবৃন্দ – চেখভ
মহিলাবৃন্দ – চেখভ

মহিলাবৃন্দ চেখভ (রাশিয়ান গল্প, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: বিজয়া দেব) ফিওদর পেত্রোভিচ, উত্তরাংশের এক প্রদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিরেক্টর। সে নিজেকে এক প্রশস্ত হৃদয়ের উদার মনোভাবাপন্ন মানুষ বলেই ভাবে। এখন তাঁর অফিসঘরে সে একজন স্কুলমাস্টারের মুখোমুখি। কথা চলছে। ব্যাপারটা খানিকটা ইন্টারভিউ পর্যায়ের। স্কুলমাস্টারের নাম ভ্রিমেন্সকি।— না না, ভ্রিমেন্সকি, তোমার অবসরে যাওয়াটা অনিবার্য। এই কণ্ঠস্বর নিয়ে ছাত্রদের পড়ানোর কাজটা আমি অসম্ভব বলে মনে করছি। তুমি কাজটা চালিয়ে যেতে পারবে না। গলা দিয়ে এখনও পর্যন্ত যতটুকু আওয়াজ বেরোচ্ছে, সেটিও হারিয়ে ফেলতে চাও? —…

Read More

বিচ্ছিন্ন বারীন – সদানন্দ সিংহ
বিচ্ছিন্ন বারীন – সদানন্দ সিংহ

বিচ্ছিন্ন বারীন          (ছোটোগল্প) সদানন্দ সিংহ বি টেক পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশান্ত ছেলেটা নতুন চাকরি পেয়ে এখানে জয়েন করেছে ট্রেনি হিসেবে। মাইনেপত্র অবশ্য বেশি পায় না, ট্রেনি বলে। কেটেকুটে মাসে পঁচিশ হাজারেরও কম পায়। কিন্তু চলনে তার ঠাটবাট সাংঘাতিক। সবসময় সে ব্র্যান্ডেড কোম্পানির দামি পোশাকআশাক, দামি জুতো, হাতে আইফোন নিয়ে চলাফেরা করে। এসব দেখে একটু অবাক হয় বারীন। বারীন এ অফিসের বস নয়, তবে সিনিয়র আর্কিটেক। আর প্রশান্তের পোস্টিং হয়েছে তারই আন্ডারে। প্রশান্ত বারীনকে স্যার…

Read More

মরুদ্যান – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য
মরুদ্যান – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য

মরুদ্যান     (ছোটোগল্প) ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য ডোরবেলের শব্দ শুনে দরজা খোলে দীপা। প্রফুল্লর দমকা কাশির শব্দ তখনই কানে আসে অলোকের। মনের মধ্যে চলতে থাকা সারাদিনের উদ্বিগ্নতা বাতাস পায় যেন। “বাবা কেমন রয়েছে?”, দীপাকে জিজ্ঞাসা করে অলোক। দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে দীপা। স্বামীর প্রশ্নের উত্তরে বলে, “ভিতরে এসো, তারপরেই না হয় শুনবে। নাকি বাবার খবর নিয়েই আবার ফিরে যাবে অফিসে, সত্যি! আর সব বিষয়ে যদি তোমার এমন চিন্তা থাকতো তাহলে…।” দীপার বলা অসম্পূর্ণ বাক্য সম্পূর্ণ অর্থ নিয়েই সূচের মত বেঁধে অলোকের…

Read More

সাইকেল – বিল্লাল হোসেন
সাইকেল – বিল্লাল হোসেন

সাইকেল       (ছোটোগল্প) বিল্লাল হোসেন ঘুম থেকে ওঠেই জব্বার সাইকেলটা নিয়ে বসে। সাফসুতরো করে। জয়েন্টে জয়েন্টে নারকেল তেল লাগিয়ে একটু রোদে রাখে। সাইকেলটা তখন চকচক করে। জব্বার দাঁড়িয়ে তার রূপ দেখে। একমনে কথা বলে — তুই না থাকলে কি যেখানে সেখানে কাজের জন্য ছুটে যেতে পারতাম ! সংসারটা কি চলত? চলত না। পথঘাটের অবস্থা তো ভাল নয়। খুব কষ্ট হয় তোর, নারে ! রাস্তায় দাঁড়িয়ে তখন রাসমনি হাঁকে, কৈরে জব্বার ! দেরি হয়ে যাচ্ছে তো ! — আসছি,…

Read More

ছন্দপতন – অর্জুন শর্মা
ছন্দপতন – অর্জুন শর্মা

ছন্দপতন অর্জুন শর্মা যেখানে সেখানে যখন তখন যার তার সঙ্গে পেরপেরির স্বভাবটা গেল না মনোহরের। মহিমা বলে, “যার হয় নাই নয়-এ, তার হবে না নয় নং একাশিতে।” মনোহর টিপ্পনি কাটে, “একাশির বাকি এখনও নয় দু’গুণে আঠারো বছর। দেখো, একাশির পর ঠিক হবেই হবে।” স্ত্রীকে আগে অর্থাৎ মহিমের জন্মের পর ‘মহিমের মা’ বলে ডাকত। একদিন ‘মহিমের মা’কে সন্ধি করে ‘মহিমা’ করে দিল মনোহর। বলল, “তুমি তো আসলে মহিমাময়। তোমার মহিমায় আমি মুগ্ধ, ধন্য, আপ্লুত।” এতটুকু শুনে মহিমের মা না হেসে…

Read More

যে গল্পের শেষ নেই – চেখভ
যে গল্পের শেষ নেই – চেখভ

যে গল্পের শেষ নেই           (ছোটোগল্প) চেখভ (রাশিয়ান গল্প, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: বিজয়া দেব) সে অনেক আগের কথা, এক রাতে রাত দুটো বেজে যাওয়ার ঠিক পর পরই আমার রাঁধুনি, ফ্যাকাসে মুখে উদ্বিগ্ন চেহারায় অপ্রত্যাশিতভাবে আমার পড়ার ঘরে ছুটে এল এবং আমাকে জানাল, মাদাম মিমোতি, বৃদ্ধা মহিলা, যে আমার লাগোয়া বাড়ির মালকিন, বসে আছে তার কিচেনে। সে কাতর হয়ে আপনাকে ডাকছে স্যার…। রাঁধুনি হাঁফাতে হাঁফাতে আরো বলল — তার বাড়ির ভাড়াটে খুব খারাপ ঘটনা ঘটিয়েছে স্যার, সে…

Read More