সদানন্দ সিংহের ছড়া
খিচুড়ি সদানন্দ সিংহ যায় যে দিন যায় যে ক্ষণ সামলে কানাই। হায় রে মন যখের ধন আগলে বেড়াই। কুলপতি ডন পা-চাটা হন ভাইরে ভাই। সুতোর পণ পলাশ বন খিচুড়িই বানাই।
খিচুড়ি সদানন্দ সিংহ যায় যে দিন যায় যে ক্ষণ সামলে কানাই। হায় রে মন যখের ধন আগলে বেড়াই। কুলপতি ডন পা-চাটা হন ভাইরে ভাই। সুতোর পণ পলাশ বন খিচুড়িই বানাই।
অন্দরে প্রভঞ্জন ঘোষ চোখের দেখাই দেখি যা বোঝার তা বুঝি চন্দ্র দেখি, সূর্য দেখি দেখি নীহারিকা, তারও নীচে নীল আকাশের কোন্ অজানা কোণে কি যে গ্রহ, কি যে তারা বিরাজে সেখানে কেউ কি তাহা জানে? ঢেউও দেখি, জলও দেখি দেখি অযুত ফেনা, হাঙর দেখি, কাছিম দেখি কাঁকড়া, মৎস্য নানা তারও নীচে, আরও নীচে মহাসাগর তলা কি থাকে, কি নাই বা থাকে কেউ কি জানে মেলা! হাসি দেখি, ঠাট্টা দেখি দেখি রসিকতা মনখোলা, প্রাণখোলা দেখি গল্প, কত কথা! তারও নীচে,…
অসমতা সন্তোষ উৎসুখ সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আবারো বিদেশিদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমার মন এটাকে না ভেবেই বলা মিথ্যা মনে করলো। এই প্রতিবেদনের নাম বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন। এটা ভুলভাবে বলা হচ্ছে যে ব্রিটিশ শাসনামলের তুলনায় আমাদের ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য বেশি ছিল। এটা কতটা ভুল, স্বাধীনতার প্রায় পঁচাত্তর বছর পর কী ধরনের কথা বলা হচ্ছে। মনে হয়, বিদেশের ষড়যন্ত্র কমেনি। তিনি বলতে শুরু করেছেন দেশের চল্লিশ শতাংশ সম্পদ এক শতাংশ ধনীর কাছে। একশো বছরের মধ্যে এই প্রথম এমনটা হয়েছে বলেও…
চেয়ার (ছোটোগল্প) গুলশন ঘোষ বাড়ি থেকে বার হবে তখনই টিকটিকি ডেকে উঠল। দাঁড়িয়ে পড়লেন সদাশিববাবু। একটা শালিখের চিৎকারধ্বনি তাঁর কানে এলো। শালিক পাখিটা ডানা ফুলিয়ে কিছুটা নীচু দিয়ে উড়ছে। মোটর বাইক দাঁড় করিয়ে এগিয়ে গেলেন সদাশিববাবু। গিয়ে দেখেন একটা গোখরো সাপ। সদাশিববাবু খুব বেশি বিচলিত হলেন না। তিনি শান্ত প্রকৃতির মানুষ। ধীর স্থির তাঁর কথা বলা। চাল চলন। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সাপটার গতিবিধি লক্ষ করে একটা লাঠি আনতে গেলেন। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে…
খ্যাতি এবং নগ্নতা সন্তোষ উৎসুখ আমরা নগ্ন হয়ে জন্মগ্রহণ করি কিন্তু আমাদের বাবা-মা ইতিমধ্যে আমাদের পছন্দের পোশাক কিনে দেন। এটা ভিন্ন কথা যে কারো ভাগ্যে সাধারণ জামাকাপড় আর কারোর ভাগ্যে ডিজাইনার কাপড়। শিশু ঘরের পরিবেশ, পারিবারিক অর্থনীতি ও বাবা-মায়ের রুচি অনুযায়ী পোশাক পরা শুরু করে। যখন সে বড় হয়, তার বাবা-মা তাকে জিজ্ঞেস করে যে সে কোন পোশাক পছন্দ করে। কঠোর পরিশ্রম এবং ভাগ্যের সংমিশ্রণে যদি কেউ বিখ্যাত হয়ে ওঠে, তবে এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে একজনকে নগ্ন হতে…
সমস্যা শুভেশ চৌধুরী শারীরিক কিছু সমস্যা আছে মানুষের রেশন দোকান থেকে হাসপাতালে ভিড় বেশি ঔষধের দোকান-এ ভিড় বেশি হ্যাঁ, সুস্থ থাকি চাই ভালো খাওয়া দাওয়া খেল কুদ তাহাও চাই। রেশন দোকান থেকে কিনে না এনে সবাই যেন ভালো সাবান ও দুধ মাখন মাছ মাংস ডিম খেতে পারেন দেশকাল কে বলি ফুল দিয়ে যা হয় শুভেশ চৌধুরী বলতে হয় না। মন ভালো হয়ে যায়। ফুলের তোড়া পেয়ে পীড়িত সুস্থ হয়ে ওঠেন মনে প্রাণে দেশে ফুল চাষ হোক মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন…
আজাদি কে লাড্ডু ডাঃ মুকেশ ‘আসেমথি’ আসছে স্বাধীনতা দিবস। সংবাদপত্র যেমন বর্ষার পূর্বাভাস দিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্যোগের তথ্য এবং সরকারি কর্মচারিদের ত্রাণ দিয়ে থাকে, তেমনি এখন আবহাওয়া দফতরেরও স্বাধীনতা দিবসের পূর্বাভাস দেওয়া উচিত। এবার স্বাধীনতা দিবস ঠিক সময়ে আসবে, তাই না? কীভাবে আসবে, কতটা আসবে? যেন স্বাধীনতাকে সারা বছর খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয় এবং এই দিনে শুধু খাঁচার দরজা খুলে স্বাধীনতার তোতাপাখি দেখানো হয়। পঁচাত্তর বছর ধরে খাঁচায় বন্দি স্বাধীনতার তোতাপাখি তার উড়ান ভুলে গেছে। মানুষ বিশ্বাস করে…
মুক্ত বয়ান শুভেশ চৌধুরী মুখ বন্ধ করুন। Shut up। অর্গল মুক্ত বয়ান যেন পরিশ্রুত খাবার জল হয়। খেলে উপকার হয়। অসুস্থ বোধ যেন কেউ না করেন। এদিকে আমিও আমার নিজের পরিবার পরিজন ভালো আছি। এতোটুকু বললে হবে না, অন্যদের বিষয়ে জানুন। কথা বলুন তাহাদের বিষয়ে। সবাই জানেন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো। তাই আদর করতেও শিখুন। সবচেয়ে ভালো — ভালো থাকা ও ভালো রাখা। সহমত পোষণ করেন যদি বলিবেন। আমরা পক্ষের জোর বাড়াতে চাই
গুঞ্জন সনজিৎ বণিক এখানে স্বপ্নের গুঞ্জন নেই, নেই আলোর অধিক কোনো আলো কিংবা ফর্সা সকাল, পাড়ার একজন মাসিমণি রোজ ভোরের সকালে সাদা ধবধবে ইস্ত্রি করা শাড়ি পড়ে বেড়ায় হেঁটে চারদিক, ফুলেরা সব কান পেতে শুনে পায়ের আওয়াজ। স্বপ্নে পাওয়া মানুষেরাও কাঁচাঘুম থেকে জেগে চোখ রগড়ে দ্রুত বেরিয়ে পরে ভোরের রাস্তায়। এখানে ভৌতিক স্বপ্নের গুঞ্জন নেই, আছে শুধু মৌলিক কথাবার্তা রোজ সকালে। কারা যেন হেঁটে হেঁটে চারদিক মাত করে চোখে দেখা যায় না সে সব ছবি, শুধু শব্দের পিঠে কান…
চোখ বনাম হৃদয় বলাই দে দেখা কি যায় খালি চোখে হৃদয় ছাড়া ? হৃদয়হীনের জীবনব্যাপী কেবল তাড়া! ‘আমি আমি’ ভাবের ঘোরে জীবন কাটে, হৃদয়বান হেঁটেই চলেন জীবন হাটে। চোখ থেকেও দেখেন কেবল নাকের ডগা, সবকিছু তার হাতের মুঠোয় হায় দারোগা! হৃদয়বান খোঁজেন কেবল মুক্ত হাওয়া, হারজিতের আজব খেলায় নেই পরোয়া। গায় যে গীতি হৃদয় দিয়ে এতেই বাঁচে, ফুরফুরে রয় ভিতর ভুবন সদাই নাচে। মনুষ্যত্বের পতন হলে বুকটা ভারী, হৃদয়হীন চিরদিনই চালায় হুকুমদারি! ঢেউয়ে ঢেউয়ে বলাই দে পার হয়ে যায়…