সদানন্দ সিংহের ছড়া
কত্তা সদানন্দ সিংহ রাশভারী কত্তা আপিসের বস, সর্বদা মনটা ছন্দহীন ধস। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, নায়কী জুন্টা সুনামের যশ। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, ভালোবাসে ভর্তা আলুর রস। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, বৌয়ের গোট্টায় ইজ্জত লস।
কত্তা সদানন্দ সিংহ রাশভারী কত্তা আপিসের বস, সর্বদা মনটা ছন্দহীন ধস। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, নায়কী জুন্টা সুনামের যশ। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, ভালোবাসে ভর্তা আলুর রস। রাশভারী কত্তা আপিসের বস, বৌয়ের গোট্টায় ইজ্জত লস।
ব্যায়ামে রক্তে শর্করার মাত্রা সদানন্দ সিংহ ভূমিকা ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা তাদের গ্লুকোজ নিরীক্ষণ করে তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনি যখন শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন, তখন আপনার পেশীগুলি শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রাথমিক ড্রপ হতে পারে। যাইহোক, ব্যায়ামের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া জটিল এবং কখনও কখনও গ্লুকোজের মাত্রায় অস্থায়ী বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ-তীব্রতার ওয়ার্কআউটের সময়। এটি অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণের…
গোবর্ধনের দাওয়াই (ছোটোদের গল্প) সদানন্দ সিংহ সাতসকালে গোবর্ধনদা আমার বাড়িতে এসে উপস্থিত। না, বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেননি, রাস্তা থেকেই আমার নাম ধরে ডাকাডাকি করছেন। জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম গোবর্ধনদা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি তখন স্কুলের পড়া তৈরি করছি। বুঝলাম আমাকে খুব দরকার, নইলে কে আবার সাতসকালে ডাকাডাকি করে ? আমাকে জানালায় দেখে গোবর্ধনদা আমাকে নিচে রাস্তায় নেমে আসতে বললেন। রাস্তায় নেমে আসার পর গোবর্ধনদা আমাকে বললেন, বড্ড মুশকিলে পড়েছি। তোমার মতামত জানতে চাই। শুনে আমি খুশি হলাম,…
একতরফা প্রেম প্রসেনজিৎ রায় প্রতিটি রাতের তারারা জানে একতরফা প্রেমের কাতর আর্তি, প্রতিটি রাতের নীরবতা জানে একতরফা প্রেমের দগদগে ক্ষতচিহ্নের যন্ত্রণা, তবু পৃথিবী আশা করে না সেই ক্ষতচিহ্ন থেকে ঝরে পড়ুক রক্ত, বরং সে ক্ষত জন্ম দিক হাজার হাজার কল্পনা প্রকাশের শব্দগুচ্ছ। প্রেম সে তো ক্ষণিকের, ব্যর্থ প্রেম বরং অমরত্ব পায় বিশ্বাসের বিষবাষ্পে, প্রেমিকার উষ্ণ নিঃশ্বাস বদলে যায় কোনো দূষিত জীবননাশী গরলে মৃতদেহ পড়ে থাকে প্রেমিকের ব্যস্ত শহরের কোনো এক নর্দমায় অলক্ষ্যে, তবু সবার উৎসাহে অন্য কোথাও গড়ে উঠে…
শ্যামাপোকার সন্ধানে (ছোটোগল্প) বিজয়া দেব লোকটা এদিক ওদিক তাকিয়ে চলেছে। যেন কিছু একটা খুঁজছে। কালীপুজোর পরের দিনের ভিড়, একটা পুজো প্যান্ডেলের সামনে লোকটা দাঁড়িয়ে রইল। প্যান্ডেলের চারপাশ দেখছে। ফাস্ট ফুডের দোকান দিয়েছে কালু। তার মহা ব্যস্ততার মধ্যে লোকটার দিকে নজর পড়ল। কি খুঁজছে তখন থেকে? কিছু কি হারিয়েছে? বিক্রিবাটায় ব্যস্ত কালু থেকে থেকে লোকটার দিকে তাকায়। কাজ করতে করতে ভাবে — লোকটা কে হতে পারে? বেশ ভদ্র গোছের চেহারা, মোটেই পাগল বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু সেই থেকে…
চুপিচুপি ‘চুপি’ ঘুরে এলাম সুদীপ ঘোষাল আমার এক বন্ধু পক্ষীপ্রেমী। তিনি মাঝে মাঝে পাখি দেখে বেড়ান সবুজ পোশাক পরে। আমি জিজ্ঞেস করি, সবুজ পোশাক কেন? বন্ধু বলেন, সবুজ রংকে পাখি ভয় পায় না। কারণ ওরা তো সবুজের সন্তান। আমি ওদের কাছে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করি আর লিখে রাখি হৃদয়ের পাতায়। বন্ধু বললেন, চলো আমরা চুপিচুপি পাখিরালয় চুপি যাই। পূর্বস্থলী কাটোয়া থেকে বেশি দূরে নয়। হাওড়া থেকে পূর্বস্থলী রেলস্টেশনে নেমে টোটো চাপতে হবে। টোটোয় চেপে, চুপি গিয়ে দেখি খুব ভিড়। পূর্বস্থলী…
যেদিন সময়ের সময় হবে না আসার ব্রতীন বসু অনেকদিন কথা হয় না সময়ের সাথে। সময় ভোরবেলার সবুজ চায়ের কাপটার পাশে এসে চুপ করে বসে থাকে কিছুটা, আমি ঘড়িতে ব্যস্ততা দেখি, যাবার সময় বলে যায় কাল হয়ত আসব আবার। রাতে ঘুমতে যাবার আগে ভাবি কিছুই তো দেওয়া হল না বলা হল না কোন কথা তাকে। কাল আসবে তো অপেক্ষায় চোখ বুঝি। এইভাবে একদিন সময়ের খুব অভিমান হবে, আর আসবে না, ভোরে রাতে কখনো। সেদিন আমার অনেক কিছু বলার থাকবে জানি…
প্রতিমা সোহেল রানা সেই কবে সরকারবাড়ি ভিসিয়ার দেখার ছলে তোমাকে দেখেছিলাম – হে প্রতিমা মনের আল্পনায় এঁকেছিলো মোনালিসা আজ আমার চোখের পাতাজুড়ে রোমন্থন- দাশপাড়া থেকে বড়োপাড়া পূজামণ্ডপ বড়োপাড়া ঘুরে ছোটবাজার বড়োবাজার, বানিবহ-স্কুল মোড়, সৈয়দপাচুরিয়া, লক্ষীনারায়ণপুর দ্যাখা এ দেখায় বাদ পড়েনি বাড়িগ্রাম মণ্ডপও সেই কবে লিওনার্দোর তুলিতে ধরা দিয়েছিলো পৃথিবী বর্ণময়, মোনালিসা। আর আমি আঁকলাম প্রতিমা আন্দোলন সোহেল রানা আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে, ঘর থেকে বাইরে, বাইরে থেকে ঘরে! এমন কি প্রেয়সী তার না-পাওয়া হিস্যাগুলো বুঝে পেতে…
আমি বলি ভাল (অনুগল্প) ব্রতীন বসু এক বন্ধু গান লেখে, গান গায়। আমায় পাঠায়, বুঝি না বিশেষ, বলে দিই — ভাল। কেউ কিছু উপহার দিলে, বলে দিই — ভাল। কেউ ঘর সাজিয়ে ডাকলে, বলি — কি সুন্দর, খুব ভাল। কারুর রান্না খারাপ বলি না, ভাল শুনতে সবার ভাল লাগে। হপ্তাখানেক আগে আমার এক প্রিয় বান্ধবী কবিতা লিখে পাঠাল আমাকে। মজার কথা, জানতে চাইল না কেমন হয়েছে। তার ছেলে প্রীতমকে নিয়ে লেখা, দু বছর আগে ছেলেটা আর…
বড়োদিনে (ছোটোগল্প) শুভংকর নিয়োগী অনেকদিন পর চমকাইতলায় কাদড়া গ্রামে বেড়াতে গেল অভয়। কথায় বলে, ‘জননী জন্ম-ভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরীয়সী।’ জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের থেকেও বড়ো। তাই জন্মভূমির টানে মাঝে মাঝে যেতেই হয় গ্রামে। যত অ্যাডভেঞ্চার, দুরন্ত ও রোমাঞ্চকর স্মৃতিগুলো সব যে ওখানেই! অতীত স্মৃতি কখনো কখনো হয় বড়ো সুমধুর আবার কখনো কখনো হয় বড়ো তিক্ত। স্মৃতি-রোমন্থনে মনের আয়নায় ভেসে আসে কত কী! এই সেই ঘোষালদের খামার। এই খামারে একেবারে ছোটবেলায় কত ফুটবল ম্যাচ খেলেছে। ঘোষাল পাড়া পেরিয়ে বাড়ুজ্জে পাড়া।…