সমর চক্রবর্তীর কবিতা
যাপন সমর চক্রবর্তী হে করমের গাছ! দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে রোজ রোজ, যতবার আমি তোর কাছে আসি; মুখ ফুটে বলা প্রতিটি কথা আশ্চর্য গান হয়ে উঠে! আর পা বাড়ালেই শুরু হয় আমাদের সমবেত নাচ। আমি আর কখনো যাবো না শহরে।
যাপন সমর চক্রবর্তী হে করমের গাছ! দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে রোজ রোজ, যতবার আমি তোর কাছে আসি; মুখ ফুটে বলা প্রতিটি কথা আশ্চর্য গান হয়ে উঠে! আর পা বাড়ালেই শুরু হয় আমাদের সমবেত নাচ। আমি আর কখনো যাবো না শহরে।
ফুটবলে অনন্ত প্রেম (ছোটোগল্প) শুভংকর নিয়োগী চমকাইতলায় ‘কাদড়া ফুটবল ক্লাব’-এর ফুটবল মাঠটি বড়োই উপযুক্ত। ঘন সবুজ ঘাসে ভরা মাঠ, যেন সবুজ গালিচা পাতা। প্রতি বছর বর্ষার শেষে আরম্ভ হত শিল্ড-টুর্নামেন্ট। সেখান থেকেই ফুটবলে প্রেম অনন্তর। সে সুযোগ ও সময় পেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা-একাই বল নিয়ে প্র্যাকটিস করত। সে এক অনাবিল, অনির্বচনীয় আনন্দে কী এক অমোঘ নেশায় অবশ হয়ে থাকত তার মন! ফুটবলে কিছু একটা করতে হবে, এই ভাবনায় ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে মন কেমন ব্যাকুল হয়ে থাকত!…
স্বপ্নবিলাসী (ছোটোগল্প) সদানন্দ সিংহ সাত সকালের বিভ্রান্ত হাওয়ায় এক কাপ কড়া চায়ের সাগরসম তেতো-মিষ্টির দুধ-জলে তিন ফোটা পরিমান কফির সঙ্গম হলে মনটা হয়ে ওঠে সত্যিই স্বপ্নবিলাসী। তখন কাঠখোট্টা কাজ আর কাঠখোট্টা মনের অতলে লুকিয়ে থাকা কত কিছু বেরিয়ে এসে চোখের ওপর নাচে। তাতে এক মই নিয়ে দিশা খোঁজে চন্দ্রকান্ত। একমাত্র পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিশাল স্বপ্ন দেখে। যে মেয়ে একদিন তিলোত্তমার জালকে কেটে ছিন্নভিন্ন করবে এবং মাথা উঁচু করে বাঁচবে। এই স্বপ্ন নিয়েই সাত সকালে পান্তা ভাত খায়…
টাইগার শিকার সুদীপ ঘোষাল সুমন্তদা তোতনকে বললেন, এবার টাইগার হিল যাব, বুঝলি তোতন। তোতন বলে, যাবে না উঠবে। যাইহোক তার আগে টাইগার হিল সম্বন্ধে একটু বলো সুমনদা। সুমন্তদা ওরফে সুমনদা বলতে শুরু করলেন, সূর্যোদয়ের সময়, কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরগুলি কম উচ্চতায় সূর্যকে দেখার আগে আলোকিত করা হয়। টাইগার হিল থেকে মাউন্ট এভারেস্ট, 8848 মি উঁচু, সবেমাত্র দৃশ্যমান। কাঞ্চনজঙ্ঘা 8598 মিটার,মাউন্টের চেয়ে উঁচু দেখায় এভারেস্টের চেয়ে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত হওয়ায় এভারেস্ট পৃথিবীর বক্রতার কারণে। টাইগার হিল থেকে এভারেস্টের সরলরেখার দূরত্ব 107…
টেলিপ্যাথি সদানন্দ সিংহ এই তোর সুসময়, বিস্তারিত অবগাহন আর ধান ভানতে শিবের গান আর আমি এই চরাচরেই আটকে আছি। চিনচিন বেদনার সংকটময় সময় এক হাত দান কবে মেরে বসে আছি সুশীতল স্থান — কোথায় কেন কবে আর ভাবি না ভাবি না আর কোনো গুপ্ত অসম্পৃক্ত কথা কিংবা সাজানো মরূদ্যান জাগতিক চিন্তায় কাটানো জীবন, রক্তমাংসে গড়া পথ চলে গেছে বহুদূর, এক অজানায় বন্ধু, আমার এই টেলিপ্যাথি কি শুনতে পাচ্ছো ?
মনের মানুষ (অনুগল্প) সুদীপ ঘোষাল অসীম গরীব হলেও সুখী। সে দশটা ছাগলের মালিক। ফাঁকা মাঠের ধারে মাটির ঘর। সেখানেই সে তিরিশ বছর ধরে বাস করে একা। দরজা খুলতেই দেখে তার মনের মানুষ, পিয়া, মাথায় সিঁদুর পরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে তার জল। অসীম যখন কুড়ি বছর বয়সের যুবক তখন ভালোবেসেছিল পিয়াকে। কিন্তু একজন চালচুলোহীন অপদার্থ ছেলের হাতে পিয়াকে দেয় নি,তার বাবা, মা। পিয়ার বিয়ে হয়েছিল রোজগেরে মদনের সঙ্গে। তারপর থেকেই পিয়া সংসারের বোঝা টানতে টানতে হাঁপিয়ে ওঠে। পান থেকে…
খয়ের খাঁ সদানন্দ সিংহ লোকটি হলেন খয়ের খাঁ। হুজুর হুজুর বললেই যিনি হাসিমুখী হয়ে তিনি পিঠে দেন খুশির ঘা। কেউ যদি বলে, মামা। বা হুজুর হুজুর না বলে দেখেও না দেখার ভান করলে রাগে তিনি অগ্নিশর্মা। হিসেব চলে, কে শত্রু কে মিত্র কাকে জমাবে, কাকে দমাবে মালার ভাগী কে হবে আঁকেন তিনি চিত্র-বিচিত্র। উঠোন ধ্বংসে মত্ত তিনি তোয়াক্কা করেন না কাউকে দুর্গন্ধ খুঁজেন শুঁকে বাঞ্ছারামেরও আপদ ইনি।
ঘুণপোকা (ছোটোগল্প) সুদীপ ঘোষাল রতনের স্ত্রী সাতসকালে জানিয়ে দিলো জানালায় ঘুণ ধরেছে। প্রায় চারমাস বর্ষাকালে পশ্চিম ধারের জানালাটা খোলা হয়নি। ঘুণ এমনভাবে ধরেছে, জানলার একটা পাটা খুলে নিচে পড়ে গেছে। রতন বললো, তোমাকে রোজ একবার করে খুলে যত্ন করতে হতো। আমি তো বাইরে কাজে থাকি। বউ বললো, কি করবো। আমি দেখিনি। নিচের জানালাটা বন্ধই থাকে। যাই হোক ঘুণ তো কেউ ইচ্ছে করে ধরায়নি। কালে কালে সব কিছু সময়ের ঘুণে খেয়ে নেয়। রতন ভাবলো, জানালাটা পুরোটা বন্ধ…
ফ্রেণ্ডস (ছোটোদের গল্প) সদানন্দ সিংহ রবিবার বিকেলে হঠাৎ দেখলাম আমাদের বাড়ির ঠিক পেছনে কাঁঠাল গাছের নিচে একটা শিশু কাঠবিড়ালী মাটিতে পড়ে আছে। ভাল করে লক্ষ করে দেখি ওটা নড়ছে এবং আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগোচ্ছে। আমাদের কাঁঠাল গাছটা বিরাট বড়। অনেক কসরৎ করে আমি মাঝে মাঝে এই গাছে চড়ি। তারপর অনেক ওপরে উঠে বসে থাকি। ওপরে উঠে বসে থাকলে আমাকে আর কেউ খুঁজেও পায় না। এই গাছে অনেক কাঠবিড়ালী দৌড়াদৌড়ি করে প্রায়সময়েই। হয়তো এই গাছের কোন কোটরে ওদের…
মৃণাল ও একটি অনবহিত সিনে সংবাদ (ছোটোগল্প) শাশ্বত বোস খুব ভোরের জেদি একগুঁয়ে ধোঁয়া আর ছেঁড়া ছেঁড়া বাক্স পুঁটুলি থেকে ভেসে আসা ভ্যাপসা গন্ধের মিশেলে, ভিজে যাওয়া সংস্কৃতিশূন্য সকালটার একটা নিজস্ব গন্ধ আছে। গরম ভাতের ফ্যান, ডাস্টবিনে ফুলে ওঠা মাছ কিংবা সারা রাত জেগে বাজারটার এক কোণায় পড়ে থাকা মুটে মজুরের গায়ের তেতো ঘামের গন্ধ, সব কিছু মিলে মিশে গিয়ে একটানা পচা একটা গন্ধ তৈরি হয় এই সকালটার গায়ে। মশলা বাজারটা খুলতে এখনো দেরি আছে, এখন শুধু মাছের বাজারটা…