প্রিয় পাঠক

# এটা MAY-JUNE 2026 সংখ্যা # পরবর্তী JULY-AUG 2026 সংখ্যা প্রকাশিত হবে JULY মাসের ২০ তারিখ # আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ # ঈশানকোণ নিয়মিত পড়ার জন্য আপনার প্রতি রইল আমাদের একান্ত অনুরোধ # ফেসবুকে আমাদের পেজ লাইক করুন, আমাদের ফলো করুন # আপনার লেখা আমাদের কাছে অমূল্য, লেখা পাঠান এই ঠিকানায়ঃ singhasada4@gmail.com # ঈশানকোণ-এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড করুন # পরবর্তী JULY-AUG 2026 সংখ্যা প্রকাশিত হবে JULY মাসের ২০ তারিখ।

তৈমুর খানের কবিতা
তৈমুর খানের কবিতা

ভাষাহীন আজ তৈমুর খান আজ হৃৎপিণ্ড কথা বলতে চাইছে কিন্তু আশ্চর্য সে কথার কোনও শব্দ নেই নিষ্পলক চোখ কোনও দূরের দিকে তাকিয়ে আছে একা কাকে খুঁজছে ? কাকে ? কার সঙ্গে তার বহুদিন হয়নিকো দেখা? অনুভূতি একা একা কাঁদে ভাষা নেই তার, কোথা পাবে ভাষা? নীরবতা নিরুত্তর প্রশ্নের কাছে আসে প্রশ্ন শুধুই ব্যাকুল হয় উদাসীন বিকেলের কাছে একখণ্ড মেঘ ভেসে গেলে অলৌকিক ওড়নার গান মনে হয় সন্ধ্যা নামার ছায়ায় হেসে ওঠে আবছা মুখ দু-একটা নিশাচর অলক্ষে ফেলে যায় শ্বাস…

Read More

অমিতাভের বন্ধু – সদানন্দ সিংহ
অমিতাভের বন্ধু – সদানন্দ সিংহ

অমিতাভের বন্ধু        (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ গিন্নির শাকসবজির ফর্দ নিয়ে আমি বাজারের দিকে হেঁটেই যাচ্ছিলাম। এই সময় সিকিউরিটি গার্ডের পোশাক পরা একজন বৃদ্ধলোক আমার সামনে এসে সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কি রে, আমাকে চিনতে পারছিস? আমি একটু ভাল করে লক্ষ্য করলাম। চিনতে পারলাম, শ্যামলদা। শ্যামলদা লোকটা প্রথমে খারাপ ছিল না। হয়তো গরীব ছিল। সিনেমা হলে টিকিট চেকারের কাজ করত। তখন আমাদের শহরের তিনটে বড় সিনেমা হল ছিল এবং শহরতলিতে ছোটো ছোটো বেশ কিছু সিনেমা হল…

Read More

মংলুর একদিন – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য
মংলুর একদিন – ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য

মংলুর একদিন   (ছোটোগল্প) ডঃ নিতাই ভট্টাচার্য্য ওর বাপের হাতেই খুন হোলো ঠুমকি। ধারালো হাঁসুয়ার এক কোপে কচি বাঁশের মতো লিকলিকে ঘাড়টা ঝুলে পড়েছিল। তিন বছরের ঠুমকি, হাড় জিলজিলে চেহারায় অনাহারের সহাস্য উপস্থিতি সর্বাঙ্গে। আর পাঁচটা গণ্ড বাচ্চাদের মতই কোমরে বাঁধা থাকত এক টুকরো কাপড়, লজ্জাবস্ত্র বলতে এইটুকুই। ঠুমকি মারা গেছে আজ বিকালে। হাঁসুয়াটা ছুঁড়েছিল ওর বাপ, মংলু। উঠানে বসে কাঁদছিল ঠুমকি। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে এমন দৃশ্য দেখে মেজাজ হারায় মংলু। আর পাঁচটা দিনের মতো তো আজকের দিনটা শুধুই…

Read More

স্পীড ডায়াল – সমিত রায় চৌধুরী
স্পীড ডায়াল – সমিত রায় চৌধুরী

স্পীড ডায়াল      (অনুগল্প) সমিত রায় চৌধুরী “শর্মিষ্ঠা আর কুণাল’কে এই সব জ্ঞান দিতে কে বলেছিল? তুমি জানো না তাদের পেটে ভালো কথা সয় না!” ভাস্বতী হাতে লোশন মাখতে মাখতে কথাগুলো বলল। এই কথা শুনে বিবেকের এই শীতের রাতে ঘাম বেরোনোর অবস্থা। শর্মিষ্ঠা আর কুণালের সাথে আজ অফিস ছুটির পর চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে একটু আড্ডা দিয়েছিল। সন্ধ্যায় তো ভাস্বতী বাড়িতেই ছিল। শর্মিষ্ঠাকে যে ভাস্বতী সহ্য করতে পারে না সেটা বিবেক জানে। সে কিছু আন্দাজ করতে না পেরে শুধু…

Read More

যেমন কর্ম – সুদীপ ঘোষাল
যেমন কর্ম – সুদীপ ঘোষাল

যেমন কর্ম       (অনুগল্প) সুদীপ ঘোষাল বিজন একটা স্কুলে প্যারাটিচারের কাজ করে। পড়ে, পড়ায়। বেশ ভাল চলছিল। হঠাৎ ভোটের দিন এগিয়ে এল। বিজন ভোটের থার্ড পোলিং অফিসার হিসেবে ট্রেনিং নিল। ট্রেনিং হল কাটোয়া কে ডি আই স্কুলে। তারপর শেষ ট্রেনিং হল বর্ধমানে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্যান্য সকলের সঙ্গে পরিচয় হল। ভোটের দিন এগিয়ে এল। বুথ তিরিশ কিলোমিটার দূরের এক অজ পাড়াগ্রামে। বিজন ঘুরল গ্রাম। বেশ ভাল লাগল। তারপর সন্ধ্যাবেলায় মুড়ি খাওয়ার সময় প্রিসাইডিং অফিসার বললেন, বিজন, সামনে বাজার থেকে…

Read More

খেলা খেলায় –  সদানন্দ সিংহ    
খেলা খেলায় –  সদানন্দ সিংহ    

খেলা খেলায়               (ছোটোগল্প) সদানন্দ সিংহ কালিচরণ জানে, খেলা হবে। রবিরাই বলেছে। তবে এখন গ্রীষ্মকাল। এ বছর দুপুরে তীব্র গরম। তার ওপর রুজি-রোজগার নেই। বাতাস নেই। আকাশে মেঘ নেই। এখন বৃষ্টির আশাও তাই কেউই করে না। অন্তত এক টুকরো ঝড় এলেও যেন ভালো হত। কালিচরণ মুণ্ডা গাছের ছায়ায় বসে গরমে হাঁসফাঁস করে আর এসব ভাবে। বিকেলে তাপমাত্রা একটু কমে যায়। হয়তো তখন রবিরাই আসবে। কালিচরণকে জিজ্ঞেস করবে, “খবর কী” ? কালিচরণ হয়তো আগের…

Read More

খাটো মেয়ে – সন্তোষ উৎসুক
খাটো মেয়ে – সন্তোষ উৎসুক

খাটো মেয়ে       (ছোটোদের গল্প) সন্তোষ উৎসুক আন্নু ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা একজন ব্যাংক অফিসার ছিলেন, তাই তার বদলি হয়ে যেত তিন বছর পর। এবার বাবা বিলাসপুরে বদলি হয়ে গেলেন। বিলাসপুর একটি ছোট শহর ছিল, কাকতালীয়ভাবে সে যে স্কুলে আগে পড়াশুনা করেছিল সেই স্কুলের একটি শাখাও ছিল না। আন্নু এবং তার বড় ভাই আভাস একটি নতুন স্কুলে ভর্তি হল। নতুন স্কুলের সিলেবাস আলাদা ছিল তাই নতুন সিলেবাস বুঝতে তাকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। আন্নু সেশনের সময়…

Read More

পাহাড় চুড়োয় – সুদীপ ঘোষাল
পাহাড় চুড়োয় – সুদীপ ঘোষাল

পাহাড় চুড়োয় সুদীপ ঘোষাল আমরা চারজন গ্রামের ছেলে আর একজন মেয়ে। থাকি প্রত্যন্ত গ্রামে। তবুও আমরা বছরে একবার করে বেড়াতে যাই। এবার আমরা ঠিক করলাম পাহাড় দেখব। এক মাস ধরে সব তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। টাকা পয়সা জোগাড়, লাগেজ — সমস্ত কিছু জোগাড় করে ফেললাম। আগে থেকেই টিকিট বুক করে ফেললাম। একদম রিটার্ন টিকিট পর্যন্ত। তারপর শুরু করলাম যাত্রা। প্রথমে গ্রাম থেকে এলাম কাটোয়া। তারপর কাটোয়া থেকে কলকাতা। কলকাতা থেকে চলে এলাম সোজা দার্জিলিং। নিউ জলপাগুড়ি স্টেশনে বসেছিলাম অনেকক্ষণ।…

Read More

নিরুত্তরের যন্ত্রণা – গুলশন ঘোষ
নিরুত্তরের যন্ত্রণা – গুলশন ঘোষ

নিরুত্তরের যন্ত্রণা   (অনুগল্প) গুলশন ঘোষ দাঁড়িয়ে মীনু। হাতে বরফ। প্রচণ্ড গরমে তা দ্রুত গলে গড়িয়ে পড়ছে। ১৩, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট। দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যান-রিকশায় দু’জন মুটে ধপাস ধপাস শব্দে বইয়ের বান্ডিলগুলো ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে। উদাসীন ভাবে। নিত্য বাধ্যতার বিরক্তি নিয়ে। লাফিয়ে ওঠে ভ্যানে। দাঁড়ায় বইয়ের গাদায়। অসংলগ্ন বান্ডিলগুলো সাজায়। এভাবেই প্রতিদিন পায়ে দলা বই প্রেস হয়ে চলে যায় দোকানে। পাঠকের কাছে। কোন পাঠক বই রাখে যত্নে। কেউ বা অযত্নে। কেউ বুকে। বিছানায় অথবা শেল্ফে। ধর্মীয় বই থাকে নমস্য হয়ে। নবীন…

Read More

বিজয়া দেবের কবিতা
বিজয়া দেবের কবিতা

ও মশাই বিজয়া দেব আপনাকে রোজই দেখি মশাই। বাজারের থলে হাতে গুটি গুটি পায়ে আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যান। চোখেমুখে একটা চাপা মধ্যবিত্তসুলভ উড়ো হাওয়ার ঝাপট লেগে থাকা চাদরের মত। হ্যাঁ, আমি আপনাকেই দেখি রোজ, যদিও আপনি আমাকে দেখতে পান না। উড়ো খইয়ের মত জীবন যাদের, তাদের মধ্যে শুধু আপনি কেন, আমিও পড়ি। বাজারে গিয়ে দরদাম করে যা পছন্দ হয় না, এর একটা আলতো কলঙ্কের ছাপ সারা দেহে সারাদিন জুড়ে জড়িয়ে থাকে। ও মশাই, আপনাকে যা বলছি তা আসলে…

Read More