সমর চক্রবর্তীর কবিতা
ছেলেখেলা সমর চক্রবর্তী যে খেলার ছলে সেদিন মরিচ খেয়ে ফেলেছিলো, সে সেটা ভুলেনি ! কথায় ভুলিয়ে যারা সেই ঝাল খাইয়েছিলো তারা বেমালুম ভুলে গেছে। মেয়েদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে, সে পকেটভর্তি করে নিয়ে যায় পাকনা বড়ই।
ছেলেখেলা সমর চক্রবর্তী যে খেলার ছলে সেদিন মরিচ খেয়ে ফেলেছিলো, সে সেটা ভুলেনি ! কথায় ভুলিয়ে যারা সেই ঝাল খাইয়েছিলো তারা বেমালুম ভুলে গেছে। মেয়েদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে, সে পকেটভর্তি করে নিয়ে যায় পাকনা বড়ই।
যদিও শুভেশ চৌধুরী যদিও অসম্ভব সম্ভব হয় তার পিছনে আছে হাত ভগবান বা তোমার জানি ইহা আমার তোমার অনুভবে আছে কিছু না এই সব সম্ভব হবে তাহা বিপুলা প্রকৃতির দান পুরুষও তো মাথা নত করে সৃষ্টি শুভেশ চৌধুরী সৃষ্টি হচ্ছে তার পিছনে ছিল বৃষ্টি আশীর্বাদ এমন যে পলিমাটি সিক্ত হয়ে গড়ে দিল ধান এবং হরপার্বতী অথচ পুতুল খেলতে গিয়ে দেখি না বাজিগর কে পুতুল নাচের ইতিকথা কার লেখা রচয়িতা কে জানি না বা ভুলে গেছি এমনই হয়
প্রেমের গান সন্তোষ রায় কোকিলের ডাকে আমার নিমগাছটাও মিঠা হইয়া যায়। লগে তুমিও আইলা বুঝি! তুমি আইলে সাদাচুল কালা হইয়া যায়। ঘাট বাইয়া মাঝি নামে নাউ-এ কিনারে বাইও না মাঝি গাঙের মাঝারে যাও— বাউলা বাতাসের গান কোন্ পারে ঠেকাইব তুমি জান না— সকল ঘাটের নাম বাসন্তী ঘাট — সকলেই শ্রীকৃষ্ণ, সকল নারী শ্রীরাধা। মোমবাতি সন্তোষ রায় নিভতে নিভতে মোমবাতি, দাঁড়িয়ে থাকি। পরনে সাদাশার্ট। বুকেপিঠে গলে পড়া কষ্টের দাগ। জ্বলনেই আনন্দ আমার। জ্বালাও — বলতে দাও সব কথা। বলতে বলতে…
ছবি নয় জীবন সনজিৎ বণিক যেমন আকাশ দুর্দান্ত চেহারায় মেঘের সাহচর্য নিয়ে বদলে যায় প্রতি মুহূর্ত তেমন তোমার রূপরেখা টান টান থেকে ধীর লয়ে মেলতে থাকে ডানা পাখির মতো, এ আমার স্বপ্ন নয় মোটেই এই পরিবর্তনের জোয়ার, শুধু বাস্তবের পথ মাড়িয়ে দু দণ্ড রূপটানে থাকে জড়িয়ে, ভাললাগা বেগুনি শাড়ি আগুনের মতো জ্বলে, হলুদ হাত পা, চোখের টানটান দৃষ্টি হাসির মুগ্ধতায় তাড়িত করে আমার যাবতীয় দুঃখ কষ্ট, হৃদয় ভরে পুরে নিই সৌন্দর্য সুধা, মন খারাপের সময় বলে কিছুই থাকে না,…
যেদিন ভুল করে বড় হয়ে গেছিলাম ব্রতীন বসু যেদিন ভুল করে হঠাৎ বড় হয়ে গেলাম, অনেক কিছুর সাথে যা পারিনি নিজের কাছে রাখতে তার মধ্যে ওই মেঘটাও ছিল, ওই মেঘটা যা আজও তোমরা দেখতে পাও, সাদা তুলতুলে গাল কলপ করা চুল ভাব বৃষ্টি নিয়ে যায় ওর কালো মাথায় লুকিয়ে আছে আমার কৈশোরের ছাদ, সব ভুল হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি, দিদার সাথে খেলার লুডোর ঘুঁটি মনের সাথে মন মেলানোর খেলা আছে ওর কাছে আমার সব স্পর্শ তুমি যাকে মেঘ ভাব সে…
অভিজিৎ অভিজিৎ চক্রবর্তী অভিজিৎ নামে অজস্র লোক আছে পৃথিবীতে তারা ঘুষ খায়, গান গায়, চুরি করে কবিতা লেখে, বীমা কোম্পানির দালালি থেকে পার্টি অফিস বেশ্যাঘর থেকে মুদি দোকান সব সামলায় এমন একজন লোক পাওয়া বিরল যার সঙ্গে কোনো না কোনো অভিজিতের পরিচয় নেই পরীক্ষা করে দেখা গেছে যার সঙ্গে যে অভিজিত পরিচিত তার কিছু প্রভাব তার উপরে পড়ে যেমন মুক্তধারা নাটকে বাধ্য হয়ে রবীন্দ্রনাথ অভিজিৎকে ডেকেছিলেন। কৃষ্ণদ্বৈপায়নও যদুবংশের এক রাজার নাম রেখেছিলেন অভিজিত শেক্সপীয়র বলেছিলেন নামে কি আসে যায়…
সবকিছু জ্বলে যা কিশলয় গুপ্ত আমরণ দিব্যি আগমন চাই না আচমন শেষ হোক তার আগে চলে যা হাতে হাত চিতা কাঠ ধূপ দ্বীপ ফুলহার সবকিছু জ্বলে যা একেবারে জ্বলে যা। সুর থাক লুকিয়ে দূর থাক বহুদূর কাছাকাছি কানাকানি ও পড়শি হাওয়ারা ঝিলমিল নীল দিল কিলবিল চলাতে জন্মেই বেওয়ারিশ, জন্মেই আওয়ারা। আজীবন দিব্যি আগমন চাই না নেচে মন বেঁচে থাক সুরদাস, বিন্দাস বুকে বুক থিতু হোক রোদ্দুর, জ্যোৎস্না একলাই হাসবে মুসাফির, দীন দাস। হাসিমুখ বাসি সুখ আর পেতে চাই না…
নাম্বার শুভেশ চৌধুরী রাস্তার নাম্বার বাড়ির নাম্বার ফোন নাম্বার পরিবর্তিত হয় না যাহার তিনি সাচ্চা আদমি কারু কারু ঐ ঠিকানা বদলের কোন সম্ভাবনা নেই আমৃত্যু তিনি পিঠে বহন করেন নং ও তার পরিচয়টি লুকানোর চেষ্টা তিনি করেন না দাপট শুভেশ চৌধুরী ব্রিটিশের খুব দাপট ছিল ক্ষুদিরাম প্রতিস্পর্ধী ছিলেন দাপট মিথ্যে ঘাস সত্য বুট দিয়ে পিষে ফেলা যায় না। ওই শিকড় হৃদয়ে প্রোথিত
তবু তুমি থেকে যাও ঘাম ও ঘুমে রওশন রুবী আমি প্রচণ্ড উত্তেজনা চেপে বাতাসের কানে কানে বলি— স্বীকার কোরো না, যেটুকু তুমি জেনেছো; দেখেছো যতটুকু, দেখোনি কত কিছু নীরবে সয়ে নেয় দৃষ্টির প্রখরতা। প্রত্যেকে বলবে, “তুমি শোনো” আর তুমি শুনলেই একশো বিশ মাইল বেগে ছাই থেকে জেগে উঠবে লস অ্যাঞ্জেলস ক্যালিফোর্নিয়া। দেখো না, যে হারায় সে-ই খোঁজে ক্ষয়িত পাথরে আগের পায়ের ছাপ। আমি তোমাকে থামতে বলবো না— জামার বোতাম লাগিয়ে নাও, যে মিথ্যে গ্রহণ করেছো তা ছুঁড়ে ফেলে দাও।…
স্বপ্ন শিকার সমর চক্রবর্তী চৈত্রের খরার দুপুরে জনকের কাঁধে চেপে আদিম কিশোর জল কাটবে বলে, দাও হাতে নেমে যায় সোনাইছড়ির জলে। হাওয়ায় নিকানো সারা বুনোপথ ধরে নারীদের উলুধ্বনি উড়ে স্বপ্নকে মুঠো ভরে হাঁড়িতে ভরে ফেলার মতো নিষ্কলুষ কিশোর ডুবুস্নানে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ অজানা আহ্লাদে শিহরিত হয়! যেনো সমস্ত না পাওয়া আজ যাবে তার ইচ্ছের এক্তিয়ারে।