রহিত ঘোষালের কবিতা

রহিত ঘোষালের কবিতা

লালপলাশ

রহিত ঘোষাল

১.
যে মাটিতে বহুকাল বর্ষা নেই,
যেখানে সব ফুলের গলিতমুখ,
শ্রান্তিবিহীন বিছানা, বিলাসপণ্য,
ওখানে আমি উপেক্ষিত।

নির্মমতাই আছে, বলছি তোমায়,
ক্ষীণায়ু শ্লথ কায়া, অনিবার দয়িত জীবন,
বিঁধে আছে উপহাস, ঝড়ে আর আশ্লেষে,
একটি নামাবলি শুধু ঝুলছে দেওয়ালে, নির্লিপ্ত।

২.
বঙ্কিমভঙ্গিতে প্রশ্নচিহ্ন কূজন,
সংক্ষোভে আসে মৃত্যুচেতনা,
তারপর আসে ভালোবাসাবাসি,
আসে প্রভাত যৌনতা।

রতি লালসার ছলনা বলয়,
শহরপ্রান্তে আমাদের ঘর,
সীমান্তহীন আমাদের মিলন,
ভীরু আমাদের পদক্ষেপ।

৩.
রেণুতে রেণুতে আলিঙ্গন,
বালিগঞ্জে আজ বর্বর যুগ,
সময়ের উপান্তে অনুরণন,
প্রেমিকা-নিষ্ঠ দশদিক।

দৃঢ়সম্ভব সন্তানের লাশ,
তুমি আমি তখন চক্রবালে,
মানুষ-পোড়া গন্ধ বাতাসে,
করপুটে লালপলাশ।


আমাদের সময়

রহিত ঘোষাল

আমরা যেতাম প্রান্তরের ওপারে
ওখানে আমাদের মুক্তি আঁকা থাকত
পথের দু-ধারে চটপটে খাবার দোকান
আমরা হাত ধুয়ে খেতাম কিনা মনে নেই
তবু আমাদের শরীরে থাকত সুঘ্রাণ
তালা খুলে ঘরে ঢুকিয়ে নিতাম তাপ উত্তাপ
এক অন্যরকম ভিড় নেমে আসত
আমাদের চোখের সামনে ভিড় হালকা হয়ে আসত
আমাদের পকেটে থাকত লাইটার-আগুন
চটের তাঁবুর তলায় উষ্ণ আলিঙ্গন
দোতারা বেজে উঠতো বেখেয়ালি সন্ধে রাত
এক অদ্ভুত দ্যুতি ছড়িয়ে পড়তো
অর্জুন গাছের পাতা লাল হয়ে ঝরে যেত
আমাদের আশ্চর্য যৌবনের বিস্তীর্ণ সীমান্তে।