সমর চক্রবর্তীর কবিতা
খোদাবন্দ সমর চক্রবর্তী ধর্মের ভূত চেপেছে আজ সময়ের ঘাড়ে স্বাধীনতাকে ধরে কষে বাঁধে দেশপ্রেমের খোঁয়াড়ে। জী হুজুর গুরু বলে চেঁচায় ওরা ! বলে জী হুজুর! আপনিই ‘মা-বাপ’এর জবাবে নামে মাথায় মুগুর!
খোদাবন্দ সমর চক্রবর্তী ধর্মের ভূত চেপেছে আজ সময়ের ঘাড়ে স্বাধীনতাকে ধরে কষে বাঁধে দেশপ্রেমের খোঁয়াড়ে। জী হুজুর গুরু বলে চেঁচায় ওরা ! বলে জী হুজুর! আপনিই ‘মা-বাপ’এর জবাবে নামে মাথায় মুগুর!
প্রণাম প্রণাম সমর চক্রবর্তী যেতে যেতে পথে মৃতের উদ্দেশ্যে প্রণাম কার কাছে যায় ? থমকে যাওয়া দণ্ডে এই অস্তিত্বে বুঝি কোন উত্তর মেলে না ! কারণ বারি আকণ্ঠ গিলে চণ্ডাল তাঁর চিতাভস্ম ওড়ায় আর গান গায় ‘মালা জলে পাপী-তাপী সাধু ভাঙে তালা ইহ সা-রা-রা-…’
ফাঁক সমর চক্রবর্তী বন্দুকের ধর্মই হলো সবাইকে খুন করে ফেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বেদীতে নল উলটে দিব্বি তার বিষাদের অভিনয় … আমাকে প্রতারিত করে !
স্বয়ম্ভূষ্ম সমর চক্রবর্তী কত আর পালানো যায় ? প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর থেকে পালাতে পালাতে দেখি, দাঁড়িয়ে আছি নিজেরই কাছে ! সারা আকাশ পাতাল ও পৃথিবী ক্ষতবিক্ষত করতে করতে গোপন কথাটি রটে যায় লাশের কোন ওয়ারিশ নেই !
ছেলেখেলা সমর চক্রবর্তী যে খেলার ছলে সেদিন মরিচ খেয়ে ফেলেছিলো, সে সেটা ভুলেনি ! কথায় ভুলিয়ে যারা সেই ঝাল খাইয়েছিলো তারা বেমালুম ভুলে গেছে। মেয়েদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে, সে পকেটভর্তি করে নিয়ে যায় পাকনা বড়ই।
স্বপ্ন শিকার সমর চক্রবর্তী চৈত্রের খরার দুপুরে জনকের কাঁধে চেপে আদিম কিশোর জল কাটবে বলে, দাও হাতে নেমে যায় সোনাইছড়ির জলে। হাওয়ায় নিকানো সারা বুনোপথ ধরে নারীদের উলুধ্বনি উড়ে স্বপ্নকে মুঠো ভরে হাঁড়িতে ভরে ফেলার মতো নিষ্কলুষ কিশোর ডুবুস্নানে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ অজানা আহ্লাদে শিহরিত হয়! যেনো সমস্ত না পাওয়া আজ যাবে তার ইচ্ছের এক্তিয়ারে।
জ্যোৎস্নায় মারা গেল কেউ সমর চক্রবর্তী, শহর থেকে অনেক দূরে — জ্যোৎস্নায় ডুবে গিয়ে প্রান্তরে, হাত বাড়াতেই মঠো মুঠো উঠে আসে স্বপ্নের বীজ। উজ্জ্বল ! মৃত্যুর বিনিময়ে এক ঝিকমিক ! ঝিকমিক ! ভরা নক্ষত্রের মতো জীবনের আর কোন অভাব থাকে না। (৺সুনীল ভৌমিক, ৺দেবাশীষ ভট্টাচার্য্, দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং শুভেশ চৌধুরীকে মনে রেখে)
নিশুতি সমর চক্রবর্তী তিন চার রকমের ফুল দিয়ে দীপা বাড়িটা সাজালেও, জবা ফুলই বেশি পছন্দের। তাও আবার ভরাট পাপড়ির সহস্র মুখ জবা। কিন্তু রোজ রোজ তা চুরি করে পাড়ার পুরোহিত! তা দিয়ে সে আসন সাজায়। টুং টাং ঘন্টা বাজায়। আমাদের সমস্ত পূজাতেই ফুল চুরি শিখে ফেলে গ্রাম ও শহরের ছেলেরা। এটা ধর্মীয় ব্যাপার আমার শহর থেকে দূরে সরানো হয়েছে কেন্দ্রীয় জেল।
চোয়াল চাপা সমর চক্রবর্তী একান্তের অশ্রুর সাথে দরদর কষ্টটা ধুয়ে না গেলে, মিছে ছুটোছুটি অথবা গায়ের জোর না করে রেখে দেওয়াটাই ভালো। হয়তো কোন একদিন কলসের খাঁজে চকিত চাপড়ে কষ্টটা খুঁজে নিতে পারে শূন্যতা থেকে মুঠো করে আনা দীর্ঘশ্বাসী আনন্দের সুর।
যাপন সমর চক্রবর্তী হে করমের গাছ! দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে রোজ রোজ, যতবার আমি তোর কাছে আসি; মুখ ফুটে বলা প্রতিটি কথা আশ্চর্য গান হয়ে উঠে! আর পা বাড়ালেই শুরু হয় আমাদের সমবেত নাচ। আমি আর কখনো যাবো না শহরে।