সমর চক্রবর্তীর কবিতা
ফাঁক সমর চক্রবর্তী বন্দুকের ধর্মই হলো সবাইকে খুন করে ফেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বেদীতে নল উলটে দিব্বি তার বিষাদের অভিনয় … আমাকে প্রতারিত করে !
ফাঁক সমর চক্রবর্তী বন্দুকের ধর্মই হলো সবাইকে খুন করে ফেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বেদীতে নল উলটে দিব্বি তার বিষাদের অভিনয় … আমাকে প্রতারিত করে !
সম্পর্ক শুভেশ চৌধুরী দুই মিনিট এদিক সেদিক হতে পারে সম্পর্কটি বা সম্পর্ক গুলো ঠিক থাকবে সম্পর্ক নষ্ট হলে বালুর সুজি তৈরি হবে লবণ সুজির পরিবর্তে না না না আমি সুজি খেতে চাই অন্য কিছু নয় নষ্ট শুভেশ চৌধুরী কোন সবজি নষ্ট হয় যদি দুর্গন্ধ হয় মাটি চাপা দিয়ে রাখতে হয় সার তৈরি হয়। এসব আমার চাই কি মূল্য পাবো এই নয় মূল্য পরেও পাওয়া যায় মার্কেটিং বিভাগ দেখবে। যার যা কাজ সেই দেখবে কিছু একটা কনসালটেন্সিকে ভারটি দিয়ে দিলেই…
মুক্ত বয়ান শুভেশ চৌধুরী আকাশে দিকশূন্য হয় না জ্যোতির্বিদ জানেন। কোথায় কার অবস্থান এবং কখন কখন খালি চোখে ০ দেখা যাবে ওই আকাশে আমরা কেন বলি উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম অবশ্যই দিক আছে দিকশূন্য বলে কিছু নেই। অবশ্যই অবস্থানটি জানতে জ্যমিতি পরিমিতি স্থানাঙ্ক অংকের ও বৃত্তের ব্যাস ব্যাসার্ধ পরিধি পরিসীমা এইসব নিয়ে চলতে চলতে ওই অবস্থানে পৌঁছাই। চলুক চলুক অন্বেষণ আমি বা আমরা তো যেতে চাই অন্য কোথাও আমাদেরই আরেকটি বাড়িতে
জন্মদিন ব্রতীন বসু দূর গ্রামের রেল স্টেশনটায় রাত আসে খোলা আকাশ কখনো চাঁদ বা তারা অন্ধকারে অমৃত ঢালে মানুষ কম তাই অপেক্ষা আরও কম রেলগাড়ি দেশলাই কাঠি জ্বলার মত আসে, নিভে যায়। রেললাইন আর প্ল্যাটফর্ম যতদূর চোখ যায় মাটিতে ঘাসে মিশে থাকে। সুখ নেই দুঃখ নেই নির্জনতায় পাশে থাকে। বন্ধুত্ব কেমন হয়, কি ভাবে হয়, কে জানে কে বোঝে ছাই আমি ব্যস্ত জীবনে যাবার পথে ফস করে জ্বলে ওঠা ট্রেনের জানালা দিয়ে শুভ জন্মদিন বলে যাই।
তুলে মূলে বিনাশ বলাই দে “কামের নামে ঠন ঠনাঠন আকামের দোকানদারি”, হাওয়ায় চলে আলোচনা হাওয়ায় হাওয়ায় দেয় পাড়ি। উড়ে বেড়ান ঘুরে বেড়ান তরঙ্গেতে ছড়ান বাণী, ভক্তকূল মাতেন তাতেন কাড়াকাড়ি টানাটানি! জ্ঞানের প্রতীক ধ্যানের প্রতীক মানুষ হারায় স্রোতধারায়, পিছন দিকে ছুটছে ঘোড়া কিসের ভয়ে কিসের তাড়ায়? অন্নদাতা পায় না খেতে হাতড়ে মরে অন্ধকারে, জোড়াতাপ্পি চলছে না আর কোনোমতেই ছেঁড়া তারে। আশার ফানুস ফাঁসলো জবর বিনাশ হলো তুলেমূলে, ভালো রাখার ভালো থাকার বাঁধন খানি গেল খুলে। জীবন যাপন কঠিন কঠোর কোথায়…
গোয়েন্দার নেমপ্লেট (ছোটোদের গল্প) সদানন্দ সিংহ একটা নেমপ্লেট বানাব ভাবছিলাম, যেখানে দু লাইনে লেখা থাকবে — “শখের গোয়েন্দাঃ হাবু / সহকারীঃ গোবর্ধন” এবং এই নেমপ্লেটটা টাঙানো থাকবে আমাদের গেইটে। কিন্তু আমার কথা শুনে মা খুব হাসলেন, পরে বললেন, যা, তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। আমি গিয়ে বাবাকে বলতেই বাবা তো যেন অবাক হয়ে বললেন, সে কি, তুই গোয়েন্দা হলি কবে ? সহকারী আবার গোবর ধন। আমি বললাম, বাবা, গোবর ধন নয়, ওটা হবে গোবর্ধন। — গোবর ধন আর গোবর্ধন,…
ভারতে এক মিনি ইসরায়েল সদানন্দ সিংহ আপনি জানেন কি, ভারতের ভেতরে এক মিনি-ইসরায়েল আছে যেখানে এক ঝলকে দেখলে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন জগত বলে মনে হবে আপনার! যেখানে আপনি পাহাড়ের শীতল বাতাসে হারিয়ে যেতে পারেন এবং ইসরায়েলি সংস্কৃতির অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে তা হল হিমাচল প্রদেশের কাসোল, যা আজ মিনি-ইসরায়েল নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। কাসোলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই যে জিনিসটি আপনার নজরে পড়বে তা হল এখানে ইসরায়েলি সংস্কৃতির এক ঝলক। আপনি এখানে ইসরায়েলি ক্যাফে, হিব্রু…
জেব্রাক্রসিং অভিজিৎ চক্রবর্তী আর উঠে দাঁড়ালে না সোজা হয়ে যতদিন ছিলে সাদাকে সাদা কালোকে কালো না বলে বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে একবার সাদার দিকে একবার কালোর দিকে ঝুঁকে আরো সহমর্মী হয়ে উঠেছিলে তুমি যত নিচু হলে জগৎ আরো উঁচু হে মহান যুদ্ধ তবু শেষ হয়নি তুমি সৎ হলেও যুদ্ধ থামবে না দিকে দিকে নিপুণ অস্ত্র ধরার কৌশল আরো বেশি প্রতিহিংসাময়‐—- জেনো দুঃখে ঘাস মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেও নেমে যাবে বুটের চাপে
জ্যোৎস্নায় মারা গেল কেউ সমর চক্রবর্তী, শহর থেকে অনেক দূরে — জ্যোৎস্নায় ডুবে গিয়ে প্রান্তরে, হাত বাড়াতেই মঠো মুঠো উঠে আসে স্বপ্নের বীজ। উজ্জ্বল ! মৃত্যুর বিনিময়ে এক ঝিকমিক ! ঝিকমিক ! ভরা নক্ষত্রের মতো জীবনের আর কোন অভাব থাকে না। (৺সুনীল ভৌমিক, ৺দেবাশীষ ভট্টাচার্য্, দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং শুভেশ চৌধুরীকে মনে রেখে)
সাদাকালো সন্তোষ রায় এত ছবি কেন আমার ফেসবুকে! আবক্ষ, আপাদমস্তক ? মাসখানেক আগে যে হেসেছিলাম তারও! মৃত্যুচিন্তা করছিলাম বসে গম্ভীর মুখে — সেটাও! প্রেমের সাথে ঘোরাঘুরি ফিরিয়ে দিল ফেসবুক আবার! জানি না, জানি না কেন এত ফটোচ্ছ্বাস! পুরনো সাইকেলটার সাথে দাঁড়িয়ে আছি — এই যেনো ফিরে এলাম গোবিন্দপুর থেকে। সূর্য অস্ত গেল, ঘাম শুকোল না, পিপাসা মিটল না। গলা শুকিয়ে কাঠ। চাঁদের দিকের রাস্তা একদম ভাল নয়, মেঘের ফাঁকে সাঁকো নেই, আসতে যেতে ধকল বড়ো। ওই যে নদীর পার,…