
ছায়ামুখ
গুলশন ঘোষ
সেদিন কেউ ভয় পাচ্ছে, কেউ ফুঁসছে
কেবল সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ
দুপুরের পর থেকেই ক্রমশ হিসাব বলদাতে শুরু করেছে
সন্ধ্যা নামার আগেই বদলে গেল ভীতি ও প্রতিহিংসার সমীকরণগুলি।
ক্ষমতার দম্ভে ভরা উল্লসিত মন
চুপসে গেলো হাওয়াই মিঠাই-এর মত
হুঙ্কার মিলিয়ে যায় রাগ ভূপালির সুরে
আভিজাত্য-প্রতিহিংসার ভাষা রূপান্তরিত হয়
হতাশা, অভিযোগ, আশ্বাসে নেমে আসে সন্ধ্যার মারোয়া- ।
ভীত মেঘ ক্রমে কেটে যায়, আশা জাগে বর্শার ফলার মতো তীক্ষ্ণ
প্রত্যশাপূরণের আবেগে ক্ষোভের উদ্গীরণ ক্রমশ
রূপ নিল ক্ষমা-অহিংসার আহ্বানে-
কী চমৎকার — মহৎ উদ্দেশ্য ছড়িয়েছে দিকে দিকে।
আর এসবের মাঝে স্বার্থমগ্ন বীজাণু জিনের দাপাদাপি
জলহীন মাছের মতো পদহীন পদগৃন্ধুর দল
বদলে ফেলেছে ঢং, মত, পথ আর যত কিছু রাতারাতি-
ক্ষণিক না বাঁচে যারা, না পাওয়ার হাত ধরে — লীনের দুঃস্বপ্নে
ভার্চুয়াল সামাজিক ডাস্টবিনে, উগরানো যত ক্ষোভ-মুখ প্রতিবাদী
উধাও করে দিয়ে; পড়েছে বেরিয়ে— রাজপথে;
পুরানো চিহ্ন যত ছিঁড়ে-ভেঙে করতে নিশ্চিহ্ন- তাদেরই বেশি মাতামাতি
হয়েছে শুরু নবাগত রাজার চিহ্ন হাতে নিয়ে— করতে জয়ধ্বনি
ছায়ামুখ বীজাণুরা প্রমাণ দিতে উল্লাসে কয় — ‘আমি যে তোমারি।’