আঁধারের ভ্রূকুটি – সুদীপ ঘোষাল

আঁধারের ভ্রূকুটি – সুদীপ ঘোষাল

আঁধারের ভ্রূকুটি    (ছোটোগল্প)

সুদীপ ঘোষাল

শহরের শেষ আলোটা যখন নিভে এল, তখন শিউলি জানত অনির্বাণ আর থামবে না। গোরস্থানে সে যাবে, এটা যেন আগে থেকেই লেখা ছিল। তার ফোনের ওপারে অনির্বাণের গলা ছিল শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির মধ্যে এক ধরনের জেদ লুকিয়ে ছিল, যেটা শিউলি খুব চেনা। এই জেদই তাকে প্রথম টেনেছিল, আবার এখন এই জেদই তাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল।
“তুমি সত্যিই যাচ্ছ?” শিউলি জিজ্ঞেস করল।
“একটু দেখেই ফিরব,” অনির্বাণ বলল।
“তোমার ‘একটু’ মানেই ভোর।”
অনির্বাণ হেসে ফেলল, কিন্তু হাসিটা খুব ছোট। “তুমি আমায় এত ভালো করে জানো কেন?”
শিউলি উত্তর দিল না। কারণ সে জানত, উত্তর দিলে ভয়টা আরও সত্যি হয়ে যাবে। সে শুধু বলল, “ফিরে এসো।”
“আসব।”
কিন্তু শিউলি জানত, কিছু রাত মানুষকে ফেরার জন্য তৈরি করে না।

গোরস্থানের গেটটা আধখোলা ছিল। অনির্বাণ ভেতরে ঢুকতেই বাতাসের তাপমাত্রা যেন অনেকটা নেমে গেল। আকাশে মেঘ, মাটিতে ভেজা পাতার গন্ধ, আর চারপাশে এমন নীরবতা, যা কেবল রাতের নয় — মৃত্যুরও হতে পারে।
সে ফোনে শিউলির সঙ্গে ভিডিও কল খুলে রাখল।
“দেখছো?” সে বলল।
শিউলি স্ক্রিনে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। “তুমি কাঁপছ।”
“ঠান্ডা লাগছে।”
“না,” শিউলি বলল, “তুমি ভয় পাচ্ছ।”
অনির্বাণ হেসে ফেলল না। কারণ এই কথাটা ঠিক ছিল। সে ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু ভয়ের চেয়ে বেশি ছিল কৌতূহল। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পুরনো পাথরে নাম পড়তে পড়তে তার মনে হচ্ছিল, এখানে শুধু দেহ শুয়ে নেই — চাপা পড়ে আছে বহু অপূর্ণ গল্পও।
একটা কবরের সামনে সে থেমে গেল।
নাম: অনিবিষা দেবী।
“পেয়েছি,” অনির্বাণ ফিসফিস করল।
ওপাশে শিউলি নিঃশব্দ হয়ে গেল।
তারপর খুব ধীরে বলল, “ফিরে এসো।”

অনির্বাণ কবরটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। টর্চের আলোয় পাথরের লেখাগুলো আরও স্পষ্ট। অনিবিষা দেবী — এ নামটা সে নোটবুকে দেখেছিল, কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে নামটার ওজন আলাদা লাগল। যেন কেউ বহু বছর ধরে এই নামটা মাটির নিচে আটকে রেখেছে।
হঠাৎ তার কানের কাছে একটা ফিসফিস।
“ফিরে যাও।”
সে ঘুরে তাকাল। কেউ নেই।
“শিউলি”
সে বলল, “তুমি কিছু বললে?”
“না।”
ফোনের ওপাশে শিউলির গলা এক ঝটকায় কেঁপে উঠল, “কী হয়েছে?”
“কিছু না,” অনির্বাণ মিথ্যে বলল।
কিন্তু মিথ্যে কথাটা সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারল না। বাতাস বদলে গেছে। আর সেই বাতাসে একটা অদ্ভুত গন্ধ — জুঁইফুল আর স্যাঁতসেঁতে মাটির মিশ্রণ। সে বুঝতে পারছিল, একা নেই।

ওদিকে শিউলি জানলার পাশে বসে ছিল, কিন্তু ঘরে থাকতে পারছিল না। তার বুকের ভেতর অস্বস্তি জমে উঠছিল। একটু আগে সে শিউলি একটি পুরনো ছবি বের করেছিল — একজন মেয়ের ছবি, কবরের পাশে দাঁড়ানো। ছবির পেছনে লেখা ছিল:
“যে ভালোবাসা অসমাপ্ত থাকে, সে কখনও মরে না।”
এখন ছবিটা সামনে রেখে সে অনির্বাণকে ফোন করে ছিল। হঠাৎ তার জানলার বাইরে কিছু নড়ল।
সে উঠে দাঁড়াল।
জানলার কাঁচে সাদা শাড়ি পরা একটা ছায়া দেখা গেল।
শিউলি শ্বাস আটকে গেল। মুখ দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু মাথার কাত হওয়া, স্থির দাঁড়িয়ে থাকা — সব মিলিয়ে ছবির মেয়েটার মতোই লাগছে। সে চোখ বন্ধ করে আবার খুলল। ছায়া নেই।
কিন্তু দরজার কাছ থেকে টুক করে একটা শব্দ এল।
শিউলি ফোনে বলল, “অনির্বাণ, তুমি এখনই বেরিয়ে এসো।”
“কেন?”
“কারণ আমার মনে হচ্ছে, কেউ বাড়িতে ঢুকে গেছে।”

অনির্বাণ গোরস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল, কিন্তু পায়ের নিচে মাটি যেন ভারী হয়ে গেছে। কবরগুলোর সারি তার দিকে তাকিয়ে আছে বলেই মনে হচ্ছিল। সে হাঁটতে হাঁটতে বুঝতে পারল, তার নিজের ছায়াটাও যেন একটু পিছিয়ে আছে।
ফোনে শিউলি কাঁপা গলায় বলছিল, “আমি জানালায় কাউকে দেখেছি।”
“কে?”
“একজন মেয়ে।”
অনির্বাণের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। “চেহারা দেখেছ?”
“না।”
“তবু?”
“তবু মনে হচ্ছে, সে আমাদের চেনে।”
এই কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে গোরস্থানের ভেতর থেকে খুব ধীরে একটা শব্দ এল — টুক… টুক… যেন কেউ কাঠে নখ ঠুকছে। অনির্বাণ ঘুরে তাকাল। অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু অনুভূতি বলছে, কেউ অপেক্ষা করছে।
“আমি বেরিয়ে আসছি,” সে বলল।
কিন্তু সেই রাত তাকে ইতিমধ্যে ধরে ফেলেছিল।

পরদিন তারা মৃণালের বাড়িতে গেল।
মৃণাল শহরের পুরনো প্রান্তে থাকেন। বাড়ির বারান্দায় তেঁতুল গাছের ছায়া, উঠোনে শুকনো তুলসীচারা, আর ভেতরে পুরনো বই আর ধূপের গন্ধ। তিনি তাদের দেখে অবাক হলেন না। যেন তিনি জানতেন, এই দু’জন একদিন সত্যিই চলে আসবে।
“বসো,” তিনি বললেন।
অনির্বাণ সরাসরি বলল, “অনিবিষা দেবী কে ছিলেন?”
মৃণাল একটু চুপ থেকে উত্তর দিলেন, “একজন যাকে মানুষ বাঁচতে দেয়নি।”
শিউলি পাশে বসে ধীরে জিজ্ঞেস করল, “তিনি কি সত্যিই এখানে ছিলেন?”
“ছিলেন,” মৃণাল বললেন। “আর তার সঙ্গে ছিল আরও দু’জন — মালতী আর রূপা।”
এই নাম দুটো শুনে ঘরে বাতাস যেন কেঁপে উঠল।
মৃণাল একটা পুরনো বাক্স খুলে দিলেন। ভিতরে চিঠি, ছবি, আর একটি হলদে খাতা। খাতার প্রথম পাতায় লেখা:
“যদি কেউ কখনও আমার কথা জেনে যায়, তবে তারা জানুক, আমি পালাইনি।”
শিউলির চোখ ভিজে গেল।

গোরস্থান, পুরনো বাড়ি, চিঠি, ছবি — সবকিছু একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে যেতে শুরু করল। কিন্তু এক রাতের ঘটনার পরও শিউলি শান্ত হতে পারছিল না।
সে প্রথম দেখার পর থেকেই ওই সাদা শাড়ির ছায়াকে ভুলতে পারছিল না। রূপার নাম শুনে কেন যেন বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছিল। একদিন সন্ধ্যায় সে দিদিমার পুরনো ট্রাঙ্ক খুলে বসে ছিল।
ভেতর থেকে একটা হলুদ কাগজ বেরোল।
চিঠির নিচে লেখা:
“রূপা বাড়ি ছাড়েনি। ওকে নিয়ে গেছে।”
শিউলি চিঠিটা দেখে জমে গেল। কারণ এ হাতের লেখা সে চিনে ফেলেছে। তার দিদিমার।
সে নিচে দৌড়ে এসে অনির্বাণকে চিঠিটা দেখাল। অনির্বাণ খুব আস্তে বলল, “তোমার দিদিমা কি সব জানতেন?”
শিউলি মাথা নাড়ল। “মনে হয়।”
“তাহলে তুমি কেন জানো না?”
শিউলি চুপ করে রইল। কারণ উত্তরটা ভয়ংকর — অনেক কিছু বড়রা শিশুদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে, কিন্তু সেই লুকোনো জিনিসই একদিন ভূত হয়ে ফিরে আসে।

পরের রাতে শিউলি একা ঘরে ছিল না। অনির্বাণ তার কাছে ছিল, কিন্তু তবু দুজনেই অস্বস্তি বোধ করছিল। সারা বাড়ি জুড়ে এক ধরনের টানটান নীরবতা। হঠাৎ নিচের তলায় পায়ের শব্দ।
অনির্বাণ প্রথমে ভেবেছিল ভুল। কিন্তু শব্দটা আবার এল।
শিউলি ফিসফিস করে বলল, “শুনলে?”
সে মাথা নাড়ল।
তারপর দরজার বাইরে খুব মৃদু কণ্ঠে একটা ডাক এলো।
“অনির্বাণ…”
কণ্ঠটা শিউলির মতো শোনালেও ঠিক শিউলির নয়। অনির্বাণ আর শিউলি দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল।
“আমি তো এখানে,” শিউলি বলল।
কিন্তু ডাকটা থামল না।
“অনির্বাণ…”
এবার আরও কাছে।
অনির্বাণ ধীরে দরজার দিকে এগোল। শিউলি তার হাত ধরল। বাইরে কিছু নেই। তবু করিডরের শেষে একটা ভেজা ছাপ, যেন কেউ খালি পায়ে হেঁটে গেছে।
পরদিন শিউলি অনির্বাণের ব্যাগে একটা নীল ডায়েরি খুঁজে পেল।
প্রথম পাতায় লেখা:
“আর যদি কখনও সত্য আমার সামনে দাঁড়ায়, আমি কি দাঁড়াতে পারব?”
শিউলি চুপচাপ পড়তে লাগল। একে একে সব লেখা বেরিয়ে আসছে — অনির্বাণের সন্দেহ, তার পরিবারের পুরনো ইতিহাস, গোরস্থান নিয়ে তার কৌতূহল।
“তুমি আমাকে বলোনি,” শিউলি খুব ধীরে বলল।
অনির্বাণ মাথা নামিয়ে নিল। “আমি চাইনি তোমাকে টানতে।”
“কিন্তু টেনে এনেছ।”
“আমি জানি।”
“তুমি ভেবেছিলে, আমি বুঝব না?”
অনির্বাণ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আমি শুধু ভয় পেয়েছিলাম।”
শিউলি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বলল, “আমিও ভয় পেয়েছি। কিন্তু আমি পালাইনি।”
এই কথায় অনির্বাণের চোখে অল্প একটা নরম আলো দেখা গেল। কারণ শিউলির সাহসই তাকে বারবার ফিরিয়ে আনছিল।

মালতী তখনও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল না। একদিন নিজেই এসে দাঁড়াল। তার মুখে ক্লান্তি, হাতে একটা পুরনো শাড়ির অংশ।
“এটা রূপার,” সে বলল।
শিউলি শাড়ির টুকরো হাতে নিয়ে কেঁপে উঠল।
মালতী ধীরে বলল, “রূপা, অনিবিষা, আর আমি—আমরা তিন বোন। কিন্তু আমাদের তৃতীয় বোনকে কেউ মনে রাখতে চায়নি।”
“কেন?” অনির্বাণ জিজ্ঞেস করল।
মালতীর চোখে জল দেখা গেল। “কারণ সে যা দেখেছিল, সেটা তাদের ধ্বংস করতে পারত।”
“কী দেখেছিল?”
“সেই রাত,” মালতী বলল, “যে রাত অনিবিষা মরেছিল, রূপা সেদিন বেঁচে ফিরেছিল। কিন্তু তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে কেউ আর তাকে খুঁজে পায়নি।”
ঘরে নীরবতা।
শিউলি কাঁপা গলায় বলল, “তাই সে ফিরে আসে?”
“হয়তো,” মালতী বলল। “অথবা কখনও যায়ইনি।”

রাতে আবার কণ্ঠ এলো।
এবার বাড়ির ভিতর। শিউলি বিছানায় বসে ছিল, হঠাৎ দরজার বাইরে হালকা টোকা।
টক টক।
সে ডাকল, “কে?”
কেউ উত্তর দিল না।
দরজাটা একটু ফাঁক হল। শিউলি চিৎকার করতে যাচ্ছিল, কিন্তু দরজার ওপারে যে মুখটা দেখা গেল, তার নিজের মুখের সঙ্গে ভয়ংকরভাবে মিল।
একই চোখ, একই ভ্রূ, কিন্তু ফাঁকা, নিঃশ্বাসহীন।
শিউলি পেছিয়ে গেল।
“অনির্বাণ!” সে চেঁচিয়ে উঠল।
অনির্বাণ ছুটে এল। দরজা খুলতেই বাইরে কেউ নেই। কিন্তু মেঝেতে জলের দাগ, আর তার ঠিক মাঝখানে একটা সাদা চূড়ি।
মালতী সেটি দেখে চুপ হয়ে গেল।
“এটা রূপার ছিল,” সে ফিসফিস করল।

পুরনো বাড়ির নিচে একটা গোপন ঘর আছে, এমন কথা আগে থেকেই শোনা যেত। কিন্তু কেউ নিশ্চিত ছিল না। অবশেষে অনির্বাণ, শিউলি, আর মালতী সেই ঘরের খুঁজে নামল।
সিঁড়ির নিচে একটা আলগা ইট। ইট খুলতেই ছোট ঘর।
ভেতরে একটা দোলনা, ভাঙা আয়না, আর দেয়ালে আঁচড়ের দাগ। এক পাশে লাল কালি দিয়ে লেখা:
“আমাকে মাটি দাও।”
শিউলি পিছিয়ে এসে অনির্বাণের হাত ধরে ফেলল। ঘরটায় একটা ভেজা শীতলতা, যা শুধু বাতাসের নয়। যেন কোনো দম আটকানো অপেক্ষা এখানেই জমে আছে।
মালতী কাঁদতে কাঁদতে বলল, “এখানেই ওকে আটকে রাখা হয়েছিল।”
“কে?” অনির্বাণ জিজ্ঞেস করল।
“রূপা।”

ঠাকুরমা আর বেশিদিন চুপ থাকতে পারলেন না।
এক সন্ধ্যায় তিনি নিজে এসে বসলেন। দীর্ঘ নীরবতার পর প্রথমবার সত্যি কথা বলার মতো করে বললেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম।”
কেউ কিছু বলল না।
তিনি বললেন, “অনিবিষা, রূপা, আর আমি—আমরা সবাই জানতাম কী হচ্ছে। কিন্তু আমরা চুপ থেকেছি। তোমার দাদুও চুপ ছিল। কারণ সত্য বললে আমাদের সংসার ভাঙত।”
শিউলি ঠান্ডা গলায় বলল, “আর ওদের জীবন?”
ঠাকুরমার চোখে জল। “সে প্রশ্নের উত্তর আমার নেই।”
এই ভাঙা স্বীকারোক্তির পর ঘরে আরও ভারী নীরবতা নেমে এল। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যে এখন অন্তত মিথ্যে নেই।

রাতের গভীরে বাড়িটা কেঁপে উঠল।
দেয়ালের ভেতর থেকে শব্দ, মেঝের নিচ থেকে শীতল বাষ্প, আর বাইরে গাছের পাতার মধ্যে অচেনা ফিসফিস। অনির্বাণ জানালা বন্ধ করলেও শব্দ থামল না। শিউলি কাঁপছিল, কিন্তু পালাচ্ছিল না।
অচমকা নিচের ঘর থেকে একটা কণ্ঠ উঠল।
“নাম দাও…”
শিউলি দাঁড়িয়ে গেল। “কী নাম?”
কণ্ঠ বলল, “আমাদের।”
মালতী হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। “রূপা,” সে ফিসফিস করল।
তারপর অনিবিষা। তারপর আরও এক-দু’টি নাম, যেগুলো আগে কেউ উচ্চারণ করেনি। একে একে নামগুলো উচ্চারিত হতে থাকল। আর প্রতিবার নাম উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরকার শীতলতা একটু কমে আসছিল।
অনির্বাণ বুঝল, এই কাহিনির ভয় শুধু মৃত্যু নয়। নামহীনতা, ভুলে যাওয়া, আর অবমাননা।

শেষবার তারা গোরস্থানে গেল।
এবার ভয় নিয়ে নয়, সত্য নিয়ে। অনির্বাণ হাতে পুরনো খাতা, শিউলি হাতে চিঠি, মালতীর হাতে রূপার শাড়ির টুকরো। ঠাকুরমাও গিয়েছিলেন, মাথা নত করে।
নামহীন কবরের সামনে দাঁড়াতেই বাতাস থেমে গেল।
শিউলি ধীরে বলল, “যদি এখানে কেউ থাকে, তবে আমরা শুনছি।”
অনির্বাণ মাটির ওপর কাগজ রাখল। “নামগুলো লিখে দিলাম।”
এক মুহূর্ত পরে মাটি একটু কেঁপে উঠল।
তারপর একটা ঠান্ডা হাওয়া উঠল। কিন্তু ভয়ের হাওয়া নয়। বিদায়ের মতো। কবরের চারপাশে ভেজা মাটির গন্ধ কমতে লাগল, আর তার জায়গায় এক ধরনের শান্তি।
মালতী কাঁদতে কাঁদতে বলল, “শুনতে পাচ্ছো?”
শিউলি মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ।”
খুব দূর থেকে যেন একটা কণ্ঠ ভেসে এল — হালকা, নরম, পরিষ্কার।
“ধন্যবাদ।”
অনির্বাণ চোখ বুজল। শিউলির হাত শক্ত করে ধরল।
কারণ রাত শেষ হয়েছিল।
কিন্তু গল্প শেষ হয়নি।
এটাকে আমি চাইলে এখন আরও উপন্যাস-আকারে অধ্যায়ভিত্তিক সম্পূর্ণ একটি ফাইনাল ভার্সন হিসেবে পরিশীলিত করে দিতে পারি।