
সবই বুঝি
বলাই দে
মোদকবাবু ‘গোদক’ খান
নিয়ম করে প্রতিদিন,
বাকিতে আনেন বস্তু
দিনেদিনে বাড়েই ঋণ।
ডাঁটা কেনেন সবজি কেনেন
কেনেন সজনে ফুল,
সজনে ডাঁটা সোনার দামে
ঋণের সেও কারণ মূল!
মোচা কেনেন অহরহ
ঘণ্ট টণ্ট খাবেন বলে,
আর্ধেক মেটান ধার-বাকিতে
টিকে আছেন সুকৌশলে।
মোদকবাবু লোকটা ভালো
থাকেন বেশ সাদাসিধে,
ফুর্তি করেন ফুর্তি ধরেন
উৎফুল্লতা পূর্ণ হৃদে!
বলেন তিনি বুকটা ঠুকে
ঘাটতিতেই অর্থনীতি,
জোড়াতালির এই বাজারে
ঋণের দিকেই ঝোঁকার রীতি!
ঘাটতিতে লাগাম দিতে
ঋণের দিকেই নিত্য ঝোঁকা,
সবই বুঝি হিসেবটুকুন
‘নইকো আমি অবোধ খোকা’!

আবার গ্রামে
বলাই দে
উন্নয়নের সুযোগ কম
তাই ছেড়েছি গ্রাম,
যৎকিঞ্চিৎ ভালো থাকার
এই কী পরিনাম!
রোজগার’টা ভালো হলে
মিলবে সুখের দেখা,
দলে দলে ছেড়েছে গ্রাম
ঘুরবে ভাগ্যরেখা।
সঞ্চয় কিছু নাইবা হলো
চলছিলো তো বেশ,
খাটুনিতে রোজগার’টা
দিচ্ছে আমার দেশ।
সুখেই ছিলো ছেলেমেয়ে
স্কুলের আঙিনায়,
দেশ-বিদেশের নানান কথা
শোনাতো আমায়।
আচম্বিতে বদলে গেলো
থমকে জীবন ধারা,
যে যেখানে সে সেখানে
জীবন রুদ্ধকারা।
আজকে আবার শহর ছেড়ে
ফিরছি আমার গ্রামে,
গ্রামের বাতাস জীবন জুড়ায়
স্নিগ্ধ সন্ধ্যা নামে।

স্বঘোষিত
বলাই দে
জগৎসভায় মানুষ সেরা
আগ্রাসী অগ্রণী,
কেউতো আছেন সবজান্তা
সব খানে সেই ধনী।
তাতিয়ে আগুন কেউতো আছেন
উপরে দেন হাওয়া,
এই ভাবেতে ‘রাবড়ি’ পাকে
স্বাদটি বেড়ে যাওয়া!
শয়তানের ভুল হলেও
তেনার নৈব নৈব,
মতবাদ আর আদর্শতে
তিনিই যেন দৈব!
বাকি সব নড়বড়ে খুব
হিসেব তাঁরই জ্ঞানে,
ফুৎকারে উড়িয়ে বলেন
‘এ’ এমন কী আর জানে?
পারিষদে মান্য করে
ভেতর যাদের ফাঁপা,
জ্ঞানবিহারী জ্ঞানীর কাছে
যেতেই হাঁটু কাঁপা।
একদিন তো ধরাশায়ী
তেনার হতেই হয়,
যুক্তি তর্কের ধার ধারেনা
ভেতরে মস্ত ভয়!

হাতুড়ির ঘা
বলাই দে
হাতুড়ি’টা ছোট্ট বটে
আঘাত ভীষণ বড়,
মানবজাতি হিমসিম খায়
আঘাত, কেমনতর!
গ্রাম, পাহাড়, নদী, সাগর,
শহর, নগর, জেলা,
একসারিতে দাঁড় করালো
প্রকৃতির এই খেলা!
অর্থবল আর পেশীশক্তির
কতই আস্ফালন,
হার মেনেছে নুইয়ে মাথা
তারাও যে এখন।
যে নামেই ডাকো তারে
ভয় যে ভেতর ঘরে,
করোনা’র এ ‘আবহাওয়াতে
কাঁপছে বিশ্ব জ্বরে।
কে’বা গরিব কেইবা ধনী
সব হিসেব একাকার,
প্রকৃতির এই বিষম খেলা
তার যে ভীষণ মার।
দাবিয়ে রেখে শাসিয়ে রেখে
ফুরফুরে মেজাজে,
হাতুড়ির ঘা ঠুকে দিতেই
ছত্রভঙ্গ সাজে।