দলিল রহস্য – সুদীপ ঘোষাল

দলিল রহস্য – সুদীপ ঘোষাল

দলিল রহস্য       (অনুগল্প)

সুদীপ ঘোষাল

কান্দির পাশের গ্রামে এক পুরনো বাড়িতে রাত আটটা বাজার আগে ফোনটা বাজল। ফোন ধরেই সুমন শুনল, “তুমি এখন যেখানে আছ, সেখানে থেকে যাও… বাইরে এসো না।” কণ্ঠটা চেনা, কিন্তু নাম বলল না। সুমন ভাবল, হয়তো কেউ মজা করছে। সে তো এই পুরনো বাড়িতে বাবার জমিদার পৈতৃক দলিল খুঁজতে এসেছে, কেউ জানে না। তবু কথাটা শুনে গা ছমছম করে উঠল। সে দরজা বন্ধ করে আলমারির পেছনে একটা লুকোনো তাক খুলল, ভিতরে একটা পুরনো নোটবুক, আর একটা ছোট চাবি। নোটবুকের প্রথম পাতায় লেখা: “যদি কেউ এই বাড়িতে এসে থাকে আমার মৃত্যুর পর, সে যেন রাত আটটা বাজার আগে এখান থেকে বের হয়ে যায়। নইলে সে ফিরে আসবে না।” সুমন ঘড়ির দিকে তাকাল — রাত সাতটা বিশ। হঠাৎ বাইরের গেটে কে যেন ধাক্কা দিল। আর ফোনটা আবার বাজল, এবার সেই একই কণ্ঠ বলল, “তুমি এখনও ভেতরে আছ… সময় কম।” সুমন দৌড়ে দরজার দিকে গেল, কিন্তু দরজার লোহার গোয়াল নিজে থেকে নেমে গেল। বাইরে অন্ধকারে কেউ দাঁড়িয়ে আছে — আকৃতি মানুষের মতো, কিন্তু মুখ নেই। শুধু একটা বড় ঘড়ি ঝুলছে তার গলায়, আর ঘড়ির কাঁটা রাত আটটা বাজার ঠিক আগে থেমে আছে। ফোনে কণ্ঠটা ধীরে ধীরে বলল, “তুমি এখন আমার সময়ে ঢুকে পড়েছ। আটটা বাজলে আমি ফিরে আসব… আর তুমি থাকবে না।” সুমন নোটবুকের চাবিটা হাতে নিয়ে ভাবল, হয়তো এই চাবিই তার একমাত্র পথ খুলবে — কিন্তু চাবিটা কোন্ দরজা খুলবে, তা সে জানে না…।