প্রিয় পাঠক

# এটা JULY-AUG 2025 সংখ্যা # পরবর্তী SEPT-OCT 2025 সংখ্যা প্রকাশিত হবে SEPT মাসের ২০ তারিখ # আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ # ঈশানকোণ নিয়মিত পড়ার জন্য আপনার প্রতি রইল আমাদের একান্ত অনুরোধ # ফেসবুকে আমাদের পেজ লাইক করুন, আমাদের ফলো করুন # আপনার লেখা আমাদের কাছে অমূল্য, লেখা পাঠান এই ঠিকানায়ঃ singhasada4@gmail.com # ঈশানকোণ-এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড করুন # পরবর্তী SEPT-OCT 2025 সংখ্যা প্রকাশিত হবে SEPT মাসের ২০ তারিখ ।

লাইন – সদানন্দ সিংহ
লাইন – সদানন্দ সিংহ

লাইন         (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ যেতে যেতে হরপ্রসাদের সাইকেলটা ব্রাস্ট মেরে দিল। সামনে-পিছে দু’কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সাইকেল-রিক্সা সারাইয়ের দোকান নেই। অতএব কী আর করে সে। সাইকেল ঠেলে এগিয়ে যেতে থাকে। এমনিতেই তার অনেক দেরী হয়ে গেছে। ঘন্টা খানেক পর সে এক সাইকেল-রিক্সা সারাইয়ের দোকান দেখল। সেখানে একজন লোক এক রিক্সার ব্রেক ঠিক করছে। সামনে আরো কয়েকটা রিক্সা দাঁড়ানো। সাইকেলটাকে দাঁড় করিয়ে সে লোকটিকে বলল, ভাই আমার সাইকেলের পেছনের টিউবটা সারাই করে দেবে? লোকটা হরপ্রসাদকে একনজর দেখে বলল,…

Read More

বিশ্বজিতের স্বপ্ন – সদানন্দ সিংহ
বিশ্বজিতের স্বপ্ন – সদানন্দ সিংহ

বিশ্বজিতের স্বপ্ন        (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ আর মাত্র কিছু পোঁচ। বড় জোর আধ ঘন্টার কাজ। কাজ শেষ হলেই সে মানে বিশ্বজিৎ বাড়ি চলে যাবে সন্ধ্যের আগেই। ইচ্ছে আছে বাড়ি গিয়ে ছেলে-মেয়ে-বৌকে নিয়ে ওরা চারজনে হেরিটেজ পার্কে একটু সময় কাটাবে। তাই তাড়াতাড়ি হাত চালায় সে। এবং অনুমান মতো আধা ঘন্টার আগেই হাতের কাজ শেষ হয়ে যায়। বিশ্বজিৎ রংমিস্ত্রি। সাতদিন ধরে সে এখানে এই ফ্ল্যাটবাড়ির এক ঘরের দেয়াল রং করছে। আজ কাজ শেষ করে সে সব কিছু গুছিয়ে রেখে…

Read More

ফারাক – সদানন্দ সিংহ
ফারাক – সদানন্দ সিংহ

ফারাক   (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ রাগিনী চারিদিকে ভগবানকে খুঁজে পায়। কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ, তর্কে বহুদূর। রাগিনীর স্বামী অরিন্দম আবার তর্কে সবসময় এগিয়ে, বিজ্ঞানে বিশ্বাসী। মাঝে মাঝে রাগিনীর সঙ্গে অরিন্দমের বেশ জোরালো তর্ক হয়। বলাই বাহুল্য, সে তর্কযুদ্ধে রাগিনী সবসময় হেরে যায়। রাগিনী একসময় রণে ভঙ্গ দিয়ে চলে যায়, কিন্তু রাগে গোঁ গোঁ করে যায়। অগত্যা তখন অরিন্দমকেই কাছে গিয়ে নানা কায়দা করে রাগিনীর মান ভাঙাতে হয়। সারাবছর ঘরে একটা পূজাপাল্লি কিংবা ঘরের বাইরের কোনো মঠে দানধর্ম লেগেই থাকে…

Read More

পরি – সদানন্দ সিংহ
পরি – সদানন্দ সিংহ

পরি          (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ দশ মাসে বছর হয় না। কিন্তু ছোট্টুবাবুর হয়ে যায়। ছোট্টুবাবুর অনেক কিছুই হয়ে যায়। দিনটাকে কখনো রাত কিংবা রাতকে কখনো দিন। চালচুলোহীন মানুষ সে, একা এক কুটিরে বসবাস করে। কোনো এক কালে ওর পূর্বপুরুষরা নাকি জমিদার ছিল। এখন সে কোনোদিন খায়, কোনোদিন খায় না। গভীর রাতের জ্যোৎস্না রাতে সে নাকি পরিও দেখে। শনিতলার বিশাল বট গাছের ঝুরি বেয়ে নাকি পরিরা নামে গভীর রাতে। ছোট্টুবাবু তক্কে তক্কে থাকে এক অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে,…

Read More

শনির দশা – সদানন্দ সিংহ
শনির দশা – সদানন্দ সিংহ

শনির দশা      (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ সাতসকালেই মোবাইল বেজে উঠল। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম, এক বন্ধু ফোন করেছে। বললাম, হ্যালো। ফোনের অপরপ্রান্ত বন্ধুর বিষণ্ণ গলা ভেসে এলো, ভাই আমার এখন শনির দশা চলছে। বললাম, তা শনিতলায় একটা নমো দিয়ে এসো। সব ঠিক হয়ে যাবে। বন্ধুটি বললো, না ভাই, এতো সহজে শনির দশা যায় না। এর জন্যে অনেক কিছুই করতে হয়। আচ্ছা, তুমি হরজিতের ঠিকানা, নাম্বার কিছু জান? হরজিৎ আমাদেরই কবিবন্ধু। একসময় সে নাকি এক ছোট্ট দোকান খুলে সেখানে…

Read More

দৃষ্টিবিভ্রম – সদানন্দ সিংহ
দৃষ্টিবিভ্রম – সদানন্দ সিংহ

দৃষ্টিবিভ্রম    (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ দৃষ্টিবিভ্রম চতুরতাকেও ছাড়িয়ে যায়। হয়তো এভাবেই একটা মিথ তৈরি হয়। সে মিথের নির্যাসটুকু সত্যি কিনা মিথ্যা তার বাছবিচার করেনি। ধ্বনিলাল তাই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে প্রায়ই এক যুদ্ধক্ষেত্রের। সে বন্দুক হাতে একা এক যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বন্দুকটা কীসের তৈরি তার কাছে অস্পষ্ট। সেটা কী দো নলা নাকি এ কে ফোরটি সেভেন কিংবা লাইট মেসিনগান সেসব উহ্য থাকে। তবু তার কাছে এসব স্বপ্ন ভালোই লাগে। এবার কিন্তু ধ্বনিলাল অন্যরকম একটা স্বপ্ন দেখল। সে দেখল জনারণ্যে…

Read More

ঝিলিক – সদানন্দ সিংহ
ঝিলিক – সদানন্দ সিংহ

ঝিলিক          (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ দীপ আর সীমা সকালের ব্রেকফাস্ট সারছিল। বাবাইয়ের ব্রেকফাস্ট আগেই হয়ে যাবার পর স্কুলের ইউনিফর্ম পরে সে স্কুলবাসের অপেক্ষা করছে। স্কুলবাসটা তাদের বাড়ির কাছে আসতে প্রায় দশ মিনিট লাগবে। টিভিতে তুরস্কের ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলা ও উদ্ধারকার্য দেখানো হচ্ছিল। ব্রেকফাস্ট করতে করতে টিভি দেখছিল ওরা। এইসময় বাবাই তাদের সামনে এসে বলল, বাবা আমি টার্কি যাবো। শুনে ওরা যেন আকাশ থেকে পড়ল। দীপ বলে উঠল, বলিস কী! সেখানে কেন যাবি? সে তো অনেক দূরে। বাবাই…

Read More

প্রতিদান – সদানন্দ সিংহ
প্রতিদান – সদানন্দ সিংহ

প্রতিদান    (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ পাশ থেকে শ্রাবণী চেঁচাচ্ছে ক্রমাগত, আস্তে যাও, আস্তে। কী হচ্ছে এসব! মরতে চাও তুমি? আমি চাই না। কিন্তু রাজ গাড়িটা কিছুতেই থামাচ্ছে না। স্পিডোমিটারটা শুধু উঠছে তো উঠছেই, মনে হচ্ছে যেন তাদের কারটা হাওয়ার ওপর ভেসে যাচ্ছে। চল্লিশ থেকে ষাট, ষাট থেকে সত্তর, সত্তর থেকে আশি। তারপর আশি ওপরও ওঠে যাচ্ছে। নতুন গাড়ির একটা শখ রাজের ছিল অনেকদিন ধরে। মাস ছয়েক আগে গাড়িটা নিয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে। এই ছ মাস ধরে একটা লার্নার…

Read More

বিহারিলালের উল্টোরথ – সদানন্দ সিংহ
বিহারিলালের উল্টোরথ – সদানন্দ সিংহ

বিহারিলালের উল্টোরথ সদানন্দ সিংহ ঘর ছাড়িয়ে চারুবাঁক পেরিয়ে ডানদিকে মোড় নিলে প্রথমেই যে একমাত্র তেঁতুলগাছটা নজরে আসে, সে গাছটা আরো কতোদিন বেঁচে থাকবে বিহারিলাল সেটা জানে না। যে জালালি কবুতরটি তার ঘরের টিনের চালে একা একা বসে থাকে, সে কবুতরটি কোনোদিন সঙ্গী জোটাতে পারবে কিনা তা সে জানে না। যে ফানুসটা একটু আগে তার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেছে, সেটা যে কেন গেছে তা সে জানে না। আজ এতোদিন পরে তার তাপ্পিমারা চপ্পলের একটা কী করে যে দু টুকরো…

Read More

ঝাল – সদানন্দ সিংহ
ঝাল – সদানন্দ সিংহ

ঝাল    (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ মেজাজ কার নেই? একটু কম-বেশি মেজাজ সবারই থাকে। কিছুদিন আগেও একটু মেজাজ চড়লেই সুকান্ত বলে উঠতো, লে-লে-লে-লে। এই লে-লে-লে-লে জিনিসটা কি সেটা অবশ্য সুকান্ত নিজেও জানতো না। আর এই লে-লে-লে-লে আওয়াজটা শুনলেই সুকান্তর বৌ রেবা একদম ক্ষেপে লাল, ছিঃ তুমি অভদ্রের মতো কীসব শুরু করলে! তাতে সুকান্ত আরো বেশি করে রেবাকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্যে এই আওয়াজটা আবার করে যেতো। সুকান্ত-রেবার সংসারটা প্রায় পনের বছরের। একমাত্র ছেলে পিকুর বয়স বারোর কাছাকাছি এবং সে এবার দুপুরের…

Read More