সমর চক্রবর্তীর কবিতা
ফাঁক সমর চক্রবর্তী বন্দুকের ধর্মই হলো সবাইকে খুন করে ফেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বেদীতে নল উলটে দিব্বি তার বিষাদের অভিনয় … আমাকে প্রতারিত করে !
ফাঁক সমর চক্রবর্তী বন্দুকের ধর্মই হলো সবাইকে খুন করে ফেলা শহরের মোড়ে মোড়ে, বেদীতে নল উলটে দিব্বি তার বিষাদের অভিনয় … আমাকে প্রতারিত করে !
গোয়েন্দার নেমপ্লেট (ছোটোদের গল্প) সদানন্দ সিংহ একটা নেমপ্লেট বানাব ভাবছিলাম, যেখানে দু লাইনে লেখা থাকবে — “শখের গোয়েন্দাঃ হাবু / সহকারীঃ গোবর্ধন” এবং এই নেমপ্লেটটা টাঙানো থাকবে আমাদের গেইটে। কিন্তু আমার কথা শুনে মা খুব হাসলেন, পরে বললেন, যা, তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। আমি গিয়ে বাবাকে বলতেই বাবা তো যেন অবাক হয়ে বললেন, সে কি, তুই গোয়েন্দা হলি কবে ? সহকারী আবার গোবর ধন। আমি বললাম, বাবা, গোবর ধন নয়, ওটা হবে গোবর্ধন। — গোবর ধন আর গোবর্ধন,…
সম্পর্ক শুভেশ চৌধুরী দুই মিনিট এদিক সেদিক হতে পারে সম্পর্কটি বা সম্পর্ক গুলো ঠিক থাকবে সম্পর্ক নষ্ট হলে বালুর সুজি তৈরি হবে লবণ সুজির পরিবর্তে না না না আমি সুজি খেতে চাই অন্য কিছু নয় নষ্ট শুভেশ চৌধুরী কোন সবজি নষ্ট হয় যদি দুর্গন্ধ হয় মাটি চাপা দিয়ে রাখতে হয় সার তৈরি হয়। এসব আমার চাই কি মূল্য পাবো এই নয় মূল্য পরেও পাওয়া যায় মার্কেটিং বিভাগ দেখবে। যার যা কাজ সেই দেখবে কিছু একটা কনসালটেন্সিকে ভারটি দিয়ে দিলেই…
মুক্ত বয়ান শুভেশ চৌধুরী আকাশে দিকশূন্য হয় না জ্যোতির্বিদ জানেন। কোথায় কার অবস্থান এবং কখন কখন খালি চোখে ০ দেখা যাবে ওই আকাশে আমরা কেন বলি উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম অবশ্যই দিক আছে দিকশূন্য বলে কিছু নেই। অবশ্যই অবস্থানটি জানতে জ্যমিতি পরিমিতি স্থানাঙ্ক অংকের ও বৃত্তের ব্যাস ব্যাসার্ধ পরিধি পরিসীমা এইসব নিয়ে চলতে চলতে ওই অবস্থানে পৌঁছাই। চলুক চলুক অন্বেষণ আমি বা আমরা তো যেতে চাই অন্য কোথাও আমাদেরই আরেকটি বাড়িতে
ভারতে এক মিনি ইসরায়েল সদানন্দ সিংহ আপনি জানেন কি, ভারতের ভেতরে এক মিনি-ইসরায়েল আছে যেখানে এক ঝলকে দেখলে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন জগত বলে মনে হবে আপনার! যেখানে আপনি পাহাড়ের শীতল বাতাসে হারিয়ে যেতে পারেন এবং ইসরায়েলি সংস্কৃতির অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে তা হল হিমাচল প্রদেশের কাসোল, যা আজ মিনি-ইসরায়েল নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। কাসোলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই যে জিনিসটি আপনার নজরে পড়বে তা হল এখানে ইসরায়েলি সংস্কৃতির এক ঝলক। আপনি এখানে ইসরায়েলি ক্যাফে, হিব্রু…
জন্মদিন ব্রতীন বসু দূর গ্রামের রেল স্টেশনটায় রাত আসে খোলা আকাশ কখনো চাঁদ বা তারা অন্ধকারে অমৃত ঢালে মানুষ কম তাই অপেক্ষা আরও কম রেলগাড়ি দেশলাই কাঠি জ্বলার মত আসে, নিভে যায়। রেললাইন আর প্ল্যাটফর্ম যতদূর চোখ যায় মাটিতে ঘাসে মিশে থাকে। সুখ নেই দুঃখ নেই নির্জনতায় পাশে থাকে। বন্ধুত্ব কেমন হয়, কি ভাবে হয়, কে জানে কে বোঝে ছাই আমি ব্যস্ত জীবনে যাবার পথে ফস করে জ্বলে ওঠা ট্রেনের জানালা দিয়ে শুভ জন্মদিন বলে যাই।
শীত শীত লেখা কিশলয় গুপ্ত শরীর জুড়ে মন খারাপ স্মৃতির পাতায় খুচরো পাপ আর ওদিকে শব্দ দানব দাপিয়ে হাঁটে। কী লাফ ঝাঁপ! মনের কোঠায় অন্য গান হাতের রেখায় বন্য টান পর্ণমোচী ফাঁদ পেতেছে বলছে “আরও ঠান্ডা আন” পায়ের কাছে পথ বাঁকা বাঁক পেরোতেই সব ফাঁকা দু’চোখ খোঁজে ক্যানভাস কই কোন্ তুলিতে সুখ আঁকা। বুকের ভিতর অনেক চাপ ক্ষণেক দুখে হালকা ছাপ অন্ত্যমিলের আঙুল জানে শরীর জুড়ে মন খারাপ।
বাক্যহারা সুদীপ্ত বিশ্বাস রাতদুপুরে আসছে উড়ে একটা দুটো স্বপ্ন পাখি হারানো সেই সোনালি দিন, এখন একে কোথায় রাখি! আবছা আলোয় চমকে দেখি সেই যে তুমি মেঘের মেয়ে কলসি নিয়ে দুপুরবেলা একটু দুলে ফিরছ নেয়ে হাল্কারঙা কল্কাশাড়ি, দুলছে বেণী ইচ্ছেমতো স্তব্ধ চোখে থমকে থাকি, আরে এটাই সেই ছবি তো! সেই যে যেটা হারিয়ে গেছে একটুখানি অসাবধানে আজ পুরোটা রাখব ধরে, আজকে লিখে রাখব প্রাণে। গভীর রাতে আবছা আলো, হতেও পারে চোখের ভুল বলো না তুমি সত্যি করে, তুমি কি সেই…
মণিকোঠা স্বাতী ধর রাতজাগা পাখি ডেকে যায় ইদানীং আমার ঘরে সে ডাক শুনি কেবল, পাখি খুঁজে পাই না। মা’র কথা শুনি কেবল, রাত জেগো না শরীর খারাপ করবে। মাকে খুঁজে পাই না। জানালার ওপার থেকে স্নেহদৃষ্টি নিয়ে চেয়ে থাকেন বাবা। বাবাকে খুঁজে পাই না। সব হারিয়ে যায়, এসব হারায় না মণিকোঠা তৈরি হয় অন্তরে
২৫ এর প্রথম লেখা কিশলয় গুপ্ত শব্দগুলো পাশের বাড়ি পাঠাই নিঃশর্ত পড়শী তখন সীমানায় ব্যস্ত তার ব্যস্ততার মাঝে একটা চালাক চড়ুই ধান খেয়ে যায় উঠান থেকে। ওদিকে জ্বলন্ত উনানে জল ফোটে আর হাঁড়ির তলা কালো হয়, অবলা শুকনো কাঠের নিঃশব্দ প্রতিবাদ এই আদালতে ধোপে টেকে না। এই তো আমাদের পরিবেশ পরিচিতি গোটা দেশ জুড়ে হল্লা পাশের বাড়ির পরকীয়া এসে পড়ে আমার একান্ত নিজস্ব বেচারা উঠানে। আমি রামায়ণ রাখি কোরানের উপরে বাইবেল রাখি মহাভারত মুড়ে তারপর অজু করে প্রসাদ খেতে…