বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

কাঁচ ফেলে

বলাই দে

নিলাম হীরা, কাঁচ ফেলে
জীবনযাপন হেসেখেলে,
নিমেষে দূর জটিলতা-
উড়ছি নিত্যই ডানা মেলে।

আর হবে না হয়রানি
মিলবে সদাই দানাপানি,
এই দেখোনা এই দেখোনা-
আলাদীনের প্রদীপ খানি!

যখন যাহা ইচ্ছে হবে
পেয়েই যাবো চাইবো যবে,
উৎবাহুতে নেচে বেড়াই-
বারোমাসি এই উৎসবে।

স্বপ্নের কুঁড়ির হয় না ফুল
ছিল সে এক মস্ত ভুল,
ভুলের স্রোতে ভেসেই চলি-
নাই পারাপার তাই ব্যাকুল!

হাসিটুকু যায় মিলিয়ে
সময় কাটে অতীত নিয়ে,
দুখের সময় সুখের স্মৃতি-
হাহাকারে বুক ভরিয়ে।

লেজটা এখন ভীষণ ভারী
আর কী তেমন নাড়তে পারি,
ঘেউ ঘেউও বারণ আছে-
চলছে ভীষণ দুনিয়াদারি।


প্রাচীর টুটবে

বলাই দে

যাঁরা জানেন দিতে দিশা
তাঁরাই আজ ব্রাত্য,
তাঁদের অঙ্কে লুকিয়ে আছে
কোটি লোকের স্বার্থ।
দিশেহারা গতিবিধি
দিশা দিক ভ্রষ্ট,
আমজনতা পথে পথে
বেড়েই চলে কষ্ট।
কষ্টটুকু লাঘব করার
নাই কোথাও চেষ্টা,
আকাশ ভারী বাতাস ভারী
দাঁড়িয়ে কোথায় দেশটা?
বুড়িয়ে যারা ফুরিয়ে যারা
দেহে নাই শক্তি,
আছে তাদের চেতনাতে
দেশের প্রতি ভক্তি।
দলে দলে স্রোতের মতো
ধমনীতে রক্ত,
কোটি কোটি যুব জোয়ার
ঠেকানো খুব শক্ত।
একদিন সেই জ্বালামুখী
ফুলকি দিয়ে ফুটবে,
যতই কঠিন হোক সে প্রাচীর
তারও বাঁধন টুটবে।


একলা সারাবেলা

বলাই দে

একলা সকাল একলা দুপুর
একলা সারাবেলা,
কেমন করে কাটে সময়
খেলি সে এক খেলা।

গাছের নীচে গাছের ছায়ায়
গাছে’রে কই কথা,
পাখি এসে কিচিরমিচির
ভাঙে নীরবতা।

বাড়ি ছেড়ে বেরোই প্রাতে
নীরব চারিদিক,
গুনগুনিয়ে হনহনিয়ে
চলি যে নির্ভীক।

নদীর কাছে যাই ছুটে
নদী বন্ধু ভীষণ,
ঢেউগুলো সব যায় যে ডেকে
কেমন আছিস ‘মিশন’?

ফেরার সময় খালের মোড়ে
একটু খানি দাঁড়াই,
ভেল জালে বন্ধু মোহর
করছে বাছাই ঝাড়াই।

রাতের বেলায় চক্ষু মুদে
স্বপ্নের সেই দেশে,
ফেলে আসা অতীত ডাকে
বেড়াই ভেসে ভেসে।