বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

ছোট্ট পরিসর

বলাই দে

আর বাকিসব অন্তরালে
কিছুটা তার দৃশ্যমান,
পরিসরের ব্যাপকতায়
ভেঙেচুরে খানখান।

অবাক হয়ে শুধুই ভাবি
জীবনের কতই তাড়া,
হঠাৎ করেই সুড়ুৎ পাখি
হবেই হবে খাঁচাছাড়া।

মিছেমিছিই অহর্নিশি
করে ফেলি বাড়াবাড়ি,
মুহূর্তের এই আনাগোনায়
কত কিছুই দিতে পারি!

একান্তেই ভাবছি বসে
নিজেই নিজের মুখোমুখি,
দুখের ভারে নুইয়ে পড়া
সুখপাখিটা দেয় যে উঁকি!

আজকে যেসব দিতে পারি
আগামীতে রাখি তুলে,
ছোটো ছোটো কথার জটে
আসল কথা যাই যে ভুলে।

ফুরায় সময় ঘনায় আঁধার
নীরবতা চরাচরে,
ঘুরপাক খায় চড়কি যেন
শুধুই ছোট্ট পরিসরে!


একটা ঝড়

বলাই দে

খারাপ যাঁরা তাঁদের ঠেলে
ভালোয় নিলাম উল্লাসে,
সহসাই মিলায় হাসি
মহাত্মন আজ নাই পাশে।

তুলনাটা করতে পারি
বসিয়ে দিই মুখোমুখি,
বৈষম্যটা নজর কাড়ে
স্পষ্ট এখন দেয় উঁকি।

কথামালায় স্বপ্ন কতই
সেই স্রোতে যাই ভাসি,
বুকের বাতাস হয়রে ভারী
মিলিয়ে যায় শেষ হাসি।

ঘেউ ঘেউ রব নীরব এখন
পালন করি মৌনতা,
বুকের ভিতর মিলায় কথা
দৈন্য থেকে দৈন্যতা।

ফেনিয়ে ওঠে বুকের ভিতর
হতাশার এক করুণ সুর,
বন্ধু কেহ নাই যে পাশে
বুঝেছি দূর সমুদ্দুর!

হিসাবনিকাশ উঠলো লাটে
ছিঁড়ে ফেলি ধারাপাত,
মনের ভিতর গর্জে ওঠে
একটা ঝড় অকস্মাৎ!


স্নেহের জারণ

বলাই দে

সবার কাছেই শেখার আছে
লাগে শুধু দেখার চোখ,
মনের অহং ঝেড়েঝুরে
এই মনটা সরল হোক।
নিজেদের আপন খেয়াল
খেলেই চলে চরাচরে,
গতিময় এই পৃথিবীটা
দিয়েছে খুব উজাড় করে।
নদীর স্রোতের ধারা বহে
বাঁধো কেন তাহার গতি,
পাখিরা ওই গাইছে নিতুই
করে না সে কারও ক্ষতি।
যে যার মতো আছে বনে
প্রকৃতির এই আজব খেলা,
তুমিই সেরা তুমিই সেরা
লাগাম লাগাও এই বেলা।
কালের স্রোতে হবে বিলীন
পৃথিবীটা থাকবে তেমন,
আগামীকে বাসো ভালো
নিজেকে বাসো যেমন।
চেয়ে দেখো ওই যে সাগর
শেখায় কত শেখায় কত,
সূর্য কেবল ছড়ায় দ্যুতি
স্নেহের জারণ অবিরত!

দুলছে হাওয়ায়

বলাই দে

ভীষণ ভারী ঋণের বোঝা
মুক্তি পাওয়া নয়কো সোজা,
প্রজন্ম রয় অন্ধকারে-
নিরন্তর চলে আলো খোঁজা।

নুন আনতে পান্তা ফুরায়
ওই যে দেখো ফানুস উড়ায়,
থামলে কী আর চলে রে ভাই-
চড়তে হবে পাহাড় চূড়ায়।

হাওয়া যেন বিষেই ভরা
শুকিয়ে গেছে নদী-ছড়া,
হঠাৎ যেন থমকে আছে-
ভাঙছে সবই হয় না গড়া।

উঠছে প্রাচীর চারিদিকে
ভাঙছে সেতু রয় না টিকে,
হতাশা ভাঙচি কাটে-
রং যত আজ হচ্ছে ফিকে।

এরই মাঝে পাখিটা গায়
শুনছি সে গান এই নিরালায়,
সেইতো যেন ফিরিয়ে আনে-
মনুষ্যত্ব, একটু জাগায়।

হালকা যে হয় হৃদয়ের ভার
হয় উপসম সব হাহাকার,
দুলছে যেমন সজনে পাতা-
একটু হাওয়ায় এই বারেবার।

কথার কথা

বলাই দে

প্রচারের ঢেউ বয়ে যায়
অহরহ,
ভালো আছি ভালোই আছি
কহ কহ।

অন্তরের কষ্টটুকু’ন
যাও হে চেপে,
সামনে’তে পা’টি ফেলো
মেপে মেপে।

যাঁরা বলেন নেইকো ভালো
খুবই কষ্ট,
আন্ বেটাকে ধরে বেঁধে
পথভ্রষ্ট!

অনাহার আর অর্ধাহারে
জীবন কাটে,
অভিশাপের বৃষ বৃক্ষ
এই ললাটে।

অথই জলে ভেসেই চলে
পানসি তরী,
ডোবো ভাসো যেমন পারো
নাই প্রহরী।

ছাড়ো ছাড়ো ছাড়ো সবই
নির্ভরতা,
‘দেখছি আমি দেখবো আমি’
কথার কথা!


যাওনা উড়ে

বলাই দে

সহজ জীবন করো জটিল
মিছেই কেন?
সহজিয়ায় যাও না ভেসে
পানসি যেন!

তুচ্ছ কথায় অহর্নিশি
গুমোটে ভাব,
সবই আছে হাতের মুঠোয়
কিসের অভাব?

সময় দেখো যায় ফুরিয়ে
থমকে না রয়,
কেবলই হিসেব কেবল
জয় পরাজয়।

পিছনে কতই কথা
দিয়ো না কান,
এগিয়ে চলো এগিয়ে চলো
হও আগুয়ান।

মনের ভিতর যে সুর আছে
রাগরাগিনী,
নিজেকে জানায় মাতো
জীবন বাণী!

ভেবে ভেবেই নাকাল হবে
মিছেমিছি,
পাখি হয়ে যাওনা উড়ে
কিচিমিচি!