
সংসার (অনুগল্প)
স্বাতী ধর
দুদিন ধরে দেখা নেই, মুক্তামাসির। আজ তৃতীয় দিন, আজও আসবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। গত দুদিন মুক্তামাসি না আসার ফলে, ঘর ঝাড় দেওয়া থেকে বাসন মাজা — সব কাজ নিজের হাতে ইলাকে করতে হচ্ছে। এখন সকাল সাড়ে আটটা বেজে গেছে। আজও মুক্তামাসির আসার সময়টা গড়িয়ে যাচ্ছে আর ইলার মেজাজটাও তরতর করে ওপরের দিকে উঠে চলেছে।
এইসময়েই কিনা সুধন্য বলে ওঠে, এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেলে কিন্তু মন্দ হয় না।
কথাটা শুনে এবার সত্যিই মেজাজ হারায় ইলা। চেঁচায়, পারব না কফি করতে এখন। রাজার হালে আছেন তো, চারিদিকে কী হচ্ছে টের পান না।
সুধন্য মোলায়েম সুরে বলে, এত রাগ করছো কেন ?
— করব না ? আমি কী করছি তুমি দেখতে পাচ্ছো না ?
— আচ্ছা ঠিক আছে, আমি ঘর ধুয়ে মুছে দিচ্ছি।
— তোমাকে দিয়ে ঠিক মতো কিছু হয় ? তোমার ধোয়া-মোছা করা মানেই আবার আমাকে হাত লাগাতে হবে। থাক, তোমাকে কিছুই করতে হবে না।
— ঠিক আছে, তাহলে কফিটা আমিই করছি। তুমি খাবে কিনা বলো।
— তুমি কফি করবে ? তাহলেই হয়েছে। কফি, জল চারিদিকে ফেলে তোমাকে আর কষ্ট করে নোংরা করতে হবে না। আমিই করে আনছি।
কফি করতে ইলা চলে গেছে। ইলার অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন সব কিছুই সুধন্যর জানা। ইলা তাকে সবসময় বলে — তার দ্বারা নাকি কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না। সবজি বাজার থেকে শুরু করে সব সাংসারিক কাজ। তবে ইলাকে নিয়ে তার কোনো টেনশন নেই। কারণ সে গুরুজির কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। গুরুজি বলেছিলেন, পুরুষদের ছোটোখাটো ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করতে নেই। সাংসারিক সব কাজই ছোটোখাটো ব্যাপার। পুরুষদের চিন্তা করতে হবে বড়ো বড়ো ব্যাপার নিয়ে — আমেরিকা, রাশিয়া, চিন ইত্যাদি সব নিয়ে। ট্রাম্প আজ কী বলেছেন, পুতিনের মন্তব্য কী, আমেরিকা-ইরান আবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কিনা, মোদিজি এবার কোন দেশ সফরে যাবেন — এইসব অনেক বড়ো বড়ো ব্যাপার নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত থাকে সুধন্য। ফলে তার সংসারে কোনো অশান্তি নেই।