জয় মহাকাল – প্রসেনজিৎ রায়

জয় মহাকাল – প্রসেনজিৎ রায়

জয় মহাকাল

প্রসেনজিৎ রায়

আজ আমি মধ্যপ্রদেশের আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা লিখব। ২০২২ সালের একটি এক মাসের ট্রেনিংয়ে আমি মধ্যপ্রদেশের ভোপাল গিয়েছিলাম। ত্রিপুরা থেকে ভোপাল গিয়েছিলাম তিনবার ফ্লাইট চেঞ্জ করে, প্রথমে আগরতলা থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট, তারপর কলকাতা থেকে হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্ট এবং সর্বশেষে হায়দ্রাবাদ থেকে ভোপাল এয়ারপোর্ট। এয়ারপোর্টে নামার সাথে সাথেই দেখলাম ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমাদের নিয়ে যাবার জন্য বাস এসেছে। আমরা ছিলাম মোট ১০ জন, আমরা দশজনেই সেই বাসে হাসতে হাসতে উঠে গেলাম – এরপর সোজা গিয়ে ট্রেনিং সেন্টারে নামলাম। আমাদের ট্রেনিং শুরু হল ইনডোর এবং আউটডোর মিলিয়ে এক মাসের জন্য, তার মধ্যে প্রথম তিন সপ্তাহ শুধুমাত্র ট্রেনিং সেন্টার-এর মধ্যেই আমাদের ট্রেনিং ছিল। আমাদের ট্রেনিংয়ে ত্রিপুরা ছাড়াও রাজস্থান, গুজরাট আর উত্তরাখণ্ড – এই তিন রাজ্যের ট্রেনিরা ছিল। তিন সপ্তাহ শেষ হওয়ার পর শেষ সপ্তাহে আমাদের ছিল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পালা। মধ্যপ্রদেশেরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ট্রেনিংয়েরই অঙ্গ হিসাবে। প্রায় তিন বছর আগের ঘটনা, তাই কোথায় কোন্ দিন কিভাবে গিয়েছিলাম তা আমার ঠিক মনে নেই তবু যা মনে আছে তাই লিখব, যেসব জায়গায় ঘুরতে গিয়েছিলাম সেই জায়গার বর্ণনা এবং সেখানে কেমন অভিজ্ঞতা আমাদের সঞ্চয় হয়েছিল। শুধু মনে আছে ঘোরার প্রথম দিন আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মরেনা ডিস্ট্রিক্টের চম্বল নদী দেখার জন্য আর শেষ দিন আমরা গিয়েছিলাম উজ্জয়িনী।

চম্বল শব্দটি শোনার সাথে সাথেই আমরা যারা বলিউড সিনেমার ফ্যান আর আশি দশকের পুরাতন সিনেমা দেখে অভ্যস্ত তাদের মনে হবে চম্বল তো ডাকাতের কার্যকলাপের জন্য বিখ্যাত বা কুখ্যাত যাই বলা যাক তবে খুব পরিচিত নাম। আমরা ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাসে করে বেশ লম্বা দূরত্ব পাড়ি দিয়ে সে জায়গায় পৌঁছেছিলাম। পৌঁছেই প্রথমে দেখলাম বিশাল চম্বল নদী, সেখানে আমরা নেমে তাড়াতাড়ি করে সুন্দর সুন্দর জায়গা কিছু দেখে কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম মধ্যপ্রদেশ ঘোরার স্মৃতি হিসেবে। যেহেতু প্রায় তিন সপ্তাহ পরে আমরা ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাইরে যেতে পেরেছিলাম তাই সবাই খুব খুশি ছিল, সেখানে পৌঁছেই ছবি তোলার পাশাপাশি স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানলাম সেখানকার ইতিহাস এবং বর্তমান। তারা জানাল এ জায়গাটা আগে কোনো এক সময় ডাকাতদের ভয়ে খুব সন্ত্রস্ত থাকত এবং সে আমাদের কিছু রাস্তা ও দেখাল যেদিকে ডাকাতরা তাদের ঘোড়ায় চড়ে এসব জায়গায় আসত ডাকাতি করার জন্য, তবে বর্তমানে এই সমস্যা নেই। এরপর আমরা আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলো খুব ভালোভাবে দেখে পরখ করে নিলাম। এরপর আমাদের চোখ গেল সেখানকার পাশে খুব উঁচু একটা মন্দিরের দিকে। এই মন্দিরটাও দেখলে বলিউডের আশি-নব্বই দশকের ছবিগুলোর কথা মনে পড়বে যারা আমার মত সিনেমা প্রেমী আছেন। তখনকার বলিউডে সিনেমাগুলিতে এ ধরনের মন্দির খুব বেশি দেখা যেত। মন্দির যেতে হলে অনেকগুলি সিঁড়ি বেয়ে যেতে হবে, তাই যাকেই জিজ্ঞেস করছিলাম তারা কেউ যেতে রাজি হচ্ছিল না। সবশেষে আমার সাথে একজন রাজি হল সেখানে যাবার জন্য। তাকে নিয়ে প্রায় দেড়শ-দুশোটা সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে গেলাম। মন্দির খুব সুন্দর ছিল, সেখানে হনুমানজি, রাম-সীতা, দুর্গা সবার মূর্তি রাখা ছিল। আমরা সেখানে প্রণাম করলাম সব মূর্তির সামনে, এরপর সেখান থেকে নেমে আমরা আবার বাসে চড়ে চলে এলাম ট্রেনিং সেন্টারে। যেহেতু আমি আগেই বলেছিলাম যে কোথায় কবে গেছি শুধুমাত্র প্রথম আর শেষ দিনের যাত্রার গন্তব্য ছাড়া আর কিছুই আমার মনে নেই কিন্তু কোথায় কোথায় গিয়েছি তা আমার মনে আছে তাই সেই জায়গাগুলির বর্ণনাই আমি নিচে লিখছি।

এরপর আমরা গেছিলাম ভোজপুর মন্দিরে যাকে অনেকে ভোজেশ্বর মহাদেব টেম্পলও বলে। সেই মন্দিরটিও আমরা কোথাও একটা যাচ্ছিলাম তখন যাবার সময় রাস্তার পাশে একটি পাহাড়ের চূড়ায় মন্দির দেখা যাচ্ছিল। সবাই বললাম যে আমরা সেখানে যাব। যারা আমাদেরকে ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিয়ে যাচ্ছিল তারা আমাদেরকে সেখানে নামালো, কিছুটা জায়গা হেঁটে সে মন্দিরে পৌঁছতে হয়। মন্দিরে একটা বিশাল একটা শিবলিঙ্গ ছিল, শিবলিঙ্গের নিচে বেদী এবং শিবলিঙ্গ মিলিয়ে টোটাল উচ্চতা ছিল প্রায় ১২ মিটারের মতো। পাশে কিছু বসার জায়গা ছিল, সেখান থেকে দূরে খুব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। আমরা সেখানে কিছু ছবি তুললাম। মন্দিরটাও খুব ঐতিহ্যবাহী মন্দির, তার সামনে আমরা অনেকগুলো ছবি তুলে নিয়েছিলাম। এরপর আমরা গেছিলাম আরেকটা মন্দিরে যার নাম ছিল শিবপুর মন্দির। তারপর সেখান থেকে আমরা পৌঁছেছিলাম ভীমবেটকাতে। ভীমবেটকা আমরা সবাই ছোটবেলায় ইতিহাস বইয়ে পড়েছি, ভীমবেটকা হচ্ছে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন-এর স্থান যেখানে পাথরের গায়ে খোদাই করা ছিল বিভিন্ন ধরনের লিপি। লিপিগুলির পাশে পাশে তার অর্থ মোটামুটি লিখে রাখা ছিল নইলে আমাদের পক্ষে লিপিগুলির পাঠোদ্ধার কিছুতেই সম্ভব হত না, তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের গুহাও ছিল সেখানে আর তাছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল অতুলনীয়। ঘুরতে ঘুরতে আমাদের দুই ঘন্টার উপর সময় লেগে গিয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের বড় বড় পাথরের অবশেষ ছিল তার উপর দাঁড়িয়ে আমি একটি ফটো নিয়েছিলাম, বিশাল বড় জায়গা জুড়ে বিস্তৃতি ছিল ভীমবেটকা, যেটা নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রদেশের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম।

আমরা এছাড়াও গেছিলাম টেকেনপুরে যেখানে বিএসএফের ট্রেনিং সেন্টার ছিল সেখানে বিএসএফের বিভিন্ন ধরনের কাজ দেখার পাশাপাশি আমাদের দেখানো হয়েছিল সেখানে কিভাবে পুলিশ বা অন্যান্য ফোর্সের কাজে লাগানো কুকুরদের ট্রেনিং করানো হয়। সেই কুকুরগুলি খুবই পারদর্শী ছিল এবং তাদের ট্রেনিং-এর একটি পার্ট আমাদেরকে সরাসরি দেখানো হয়েছিল যা দেখে আমরা সবাই খুবই মুগ্ধ হয়েছিলাম, তাদেরকে যা যা ইন্সট্রাকশন দেওয়া হচ্ছিল তারা ঠিকঠাক ভাবে পালন করতে পারছিল। এত ট্রেইনড্ কুকুরের কার্যকলাপ দেখে আমরা সবাই তো মহাখুশি। সেখানে আমরা এক রাত্র থেকেছিলাম হোস্টেলে, সেখানে দুটো তিনটে হোস্টেল ছিল। যার মধ্যে আমরা যে হোস্টেলটা তে ছিলাম সেটা একটু পুরনো দিনের ছিল, আর আমাদের মধ্যে কিছু লোক একটু ভালো হোস্টেল পেয়েছিল। তাই নিয়ে খুব মজা হত আমাদের দুই গ্রুপের মধ্যে।

আমরা এছাড়াও গেছিলাম গোয়ালিয়র ফোর্টে, গোয়ালিয়র ফোর্টে আমরা পৌঁছে প্রথমে বড় বড় দুর্গগুলোর সামনে কিছু ছবি তুললাম তারপর আমরা আস্তে আস্তে ভেতরের দিকে গেলাম, যেখানে মন্দিরও ছিল। তাছাড়া আমরা সেখানে সেখানকার স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলেও কিছুটা গাইড পেলাম, এরপর আমরা দেখলাম দুর্গের নিচে যেখানে বন্দিদের রাখা হত সেই জায়গাটা। এরপর আমরা দুর্গের একদম উপরে উঠলাম, দুর্গের উপরের পরিবেশটা ছিল পুরো অন্যরকম, সেখান থেকে গোয়ালিয়র শহরটা পুরো দেখা যাচ্ছিল ছিল — যেন একটা পুতুলের শহরের মতো। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষেরা এসে গান গাইছিল ঐ জায়গায়, কেউ গিটার বাজিয়ে গান গাইছিল ঐ জায়গায়, কেউ খালি গলায় গান গাইছিল, কেউবা নাচছিল। এইসব আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুব উপভোগ করলাম। সুইমিং পুলের মত একটা জায়গা ছিল যেটা হয়তো রাজারা আগের সময় তাদের সৌখিনতার জন্য ব্যবহার করতেন, কিন্তু আমরা যখন গেছিলাম তখন ওই জায়গায় কোন জল ছিল না। প্রায় ৪ ঘন্টা সময় আমরা কাটিয়েছিলাম গোয়ালিয়র ফোর্টে কিন্তু আমরা বুঝতেই পারিনি এত সময় কিভাবে চলে গেল, এতটাই মুগ্ধ হয়ে আমরা ছিলাম।

সবচেয়ে শেষের দিন আমরা উজ্জয়িনী গেছিলাম। উজ্জয়িনী আমাদের ট্রেনিং সেন্টার থেকে যেতে প্রায় ৭-৮ ঘন্টার মত লেগেছিল। মাঝখানে আমরা যাবার পথে ধাবায় ঢুকে খেয়েছিলাম। ধাবাটাও খুব সুন্দর কারুকার্য করা। উজ্জয়িনী পৌঁছেই আমরা প্রথমে গেছিলাম মহাকাল মন্দিরের কাছে, কিন্তু মহাকাল মন্দিরটা দুপুরের সময় হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছিল তাই আমরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারিনি। বরং আমরা বাইরের দিকে এসে কিছু স্নানঘাট দেখলাম যেখানে কুম্ভমেলার সময় প্রচুর মানুষ পুণ্যস্থান করেন। সেখানকার পুলিশ আমাদের বলছিল যে এখানে ১২ বছর পর পর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং কুম্ভমেলায় কোটি কোটি মানুষের আগমন হয়, সেই সময় বিভিন্ন ঘাটে বিশেষ করে রামঘাটে মানুষ সবচেয়ে বেশি স্নান করার জন্য আকুল হয়ে থাকে, এত বেশি ভিড় তারা কীভাবে সামলায় আমাদেরকে বলেছিল, যেটা আমাদের জন্য খুব শিক্ষনীয় ছিল। ঐ জায়গার জেলাশাসক স্যারের সাথে সেদিন আমাদের লাঞ্চ করার কথা ছিল। তাই মন্দির বন্ধ দেখে আমরা লাঞ্চ করতে চলে গেলাম। সেখান থেকে লাঞ্চ করে আমরা ফিরে এসেছিলাম আবার মহাকাল মন্দিরে সন্ধ্যার দিকে। মন্দিরে এসে আমরা মন্দিরে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখি যে প্রচুর ভক্তদের সমাগম সেখানে, তাতে মনে হচ্ছিল আমরা হয়তো ওই দিন ঠাকুর দেখতে পারবো না বা মন্দিরে প্রবেশ করতেই পারব না। কিন্তু ভগবান সহায়- ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমাদের যারা নিয়ে এসেছিল তারা মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমাদের আরেকটা রাস্তা দিয়ে মন্দিরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছিল যাতে আমরা সহজেই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারি এবং একদম সামনে থেকে গিয়ে মহাকাল বাবাকে আমরা দর্শন করে প্রণাম করতে পারি। ওই সময় সন্ধ্যা আরতি চলছিল, আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম উল্টোদিকে প্রচুর প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়ে আরতিতে অংশগ্রহণ করেছে এবং তারা সবাই যেন ভগবানের নামে কোথাও একটা হারিয়ে গেছে ! আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মহাকাল মন্দিরের সামনেও কতগুলো ছবি নিলাম। সামনে আরো একটি মন্দির ছিল সেখানেও আমরা গেছিলাম। সেখান থেকে ফিরে আসার পথে আমরা ভোপালে পরের দিন একটি শপিংমলে ঢুকেছিলাম সেই শপিংমলটা ভীষণ বড় ছিল, সম্ভবত চারতলা ছিল শপিং মলটা এবং আমাদের মনে হচ্ছিল পৃথিবীতে হয়তো এমন কোন জিনিস নেই যা এই শপিংমলে পাওয়া যাবে না। হঠাৎ করে শপিংমলে ঘুরতে ঘুরতে আমি বুঝতে পারলাম যে আমার মোবাইলটা কিভাবে যেন খারাপ হয়ে গেছে, সেটা অন হচ্ছে না। আমি শপিংমলে বাকিদের রেখে একা একা হেঁটে সামনে চলে গেলাম মানুষকে জিজ্ঞেস করে কোন দিকে মোবাইল রিপেয়ারিং-এর দোকান আছে। সেখানে গিয়ে আমি মোবাইল ঠিক করে এরপর আবার সবাই একসাথে মিলে আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে চলে এসেছিলাম। আমাদের ট্রেনিং সেন্টার ছিল একদম ভোপাল শহরের পাশে তাই ভোপাল শহরটাও আমাদের দেখা হয়ে গেছিল। এরপর একমাস শেষ হলে আমাদের ট্রেনিংও শেষ হল, যেখানে আমরা বিভিন্ন চারটে আলাদা রাজ্য থেকে গেছিলাম কিন্তু আমরা এক মাস থাকতে থাকতে সবাই যেন এক পরিবার হয়ে উঠেছিলাম বিশেষ করে লাস্ট এক সপ্তাহে আমরা যেভাবে সবাই মিলে ঘুরেছি, কেউ অসুস্থ হলে একজন আরেকজনকে সাপোর্ট করেছি তাতে আমাদের বন্ডিংটা আরো স্ট্রং হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু আমরা ট্রেনিং-এ গিয়েছিলাম এবং ট্রেনিং শেষ হলে তো আমাদের ফিরে আসতেই হত তাই যথারীতি ট্রেনিং শেষের পর আমরা আবারো আমাদের রাজ্য ত্রিপুরাতে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে আমাদের ট্রেনিং এর উপলক্ষে ভালোভাবেই মোটামুটি ভ্রমণ হয়েছিল এবং সেই ভ্রমণস্মৃতি মনের মনিকোঠায় সারাজীবন অমর হয়ে থাকবে।