হিমাচল প্রদেশের খাজ্জিয়ার – সদানন্দ সিংহ

হিমাচল প্রদেশের খাজ্জিয়ার – সদানন্দ সিংহ

হিমাচল প্রদেশের খাজ্জিয়ার

সদানন্দ সিংহ

বর্তমানে সবার মধ্যে ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। আপনি যদি গরম থেকে স্বস্তি পেতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে ভারতের মিনি সুইজারল্যান্ড খাজ্জিয়ারের সুন্দর উপত্যকায় দ্বিধাহীনভাবে চলে যেতে পারেন। সুইজারল্যান্ডের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ না করে এবং ভিসার ঝামেলা ছাড়াই ভারতের মিনি সুইজারল্যান্ডের মতো সুন্দর এই উপত্যকায় চলে আসতে পারেন।
সারা বিশ্বের ১৬০টি “মিনি সুইজারল্যান্ড” স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত খাজ্জিয়ার হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় ডালহৌসি থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি ছোট পাহাড়ি স্টেশন, যার বিশাল সবুজ তৃণভূমি, পাইন বন এবং সুন্দর হ্রদ — ইত্যাদি জায়গাটাকে বিখ্যাত করে তুলেছে। জায়গাটাকে ভারতের মিনি সুইজারল্যান্ডও বলা হয়। কারণ ১৯৯২ সালের ৭ জুলাই সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত উইলি ব্লেজার (Willy Blazer) স্থানটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামাকরণ করেছিলেন। সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের স্মারক হিসেবেও এখানে একটি পাথরও রাখা আছে।

খাজ্জিয়ারে দেখার জায়গা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই হল খাজ্জিয়ারের প্রধান আকর্ষণ। মনোরম খাজ্জিয়ারে প্রবেশ করা মাত্রই ‘হাইকিং পাথ’-এর জন্য একটি হলুদ সুইস চিহ্ন চোখে পড়বে, যেখানে লেখা আছে “মিনি সুইজারল্যান্ড”। ঘন পাইন, দেবদারু এবং সবুজ তৃণভূমির পটভূমিতে, খাজ্জিয়ার পশ্চিম হিমালয়ের সুবিশাল ধৌলাধার পর্বতমালার পাদদেশে চমৎকারভাবে অবস্থিত থালার মতো আকৃতির এই খাজ্জিয়ার দর্শনার্থীদের জন্য এক বিস্তৃত ও শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য চোখের সামনে এনে দেয়। এটি পাইন ও দেওদার বনে ঘেরা একটি সবুজ মালভূমি। এর ঠিক মাঝখানে একটি ছোট হ্রদ ও তৃণভূমি রয়েছে।

খাজ্জিয়ার লেক
এই সুন্দর সমতলভূমির মাঝে একটি সুন্দর প্রাকৃতিক হ্রদ রয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ আর হ্রদের স্ফটিক স্বচ্ছ জল প্রকৃতির খুব কাছাকাছি অনুভব এনে দেবে।

কালাতপ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
এখানে আপনি কালো ভাল্লুক, চিতা, হরিণ এবং আরও অনেক বন্যপ্রাণী দেখতে পাবেন। এই জায়গায় আপনি অনেক ধরনের পাহাড়ি গাছ দেখতে পাবেন।

ডানকুন্ড পিক
আপনি যদি ট্রেকিংয়ের শৌখিন হন তবে অবশ্যই খাজ্জিয়ার কাছে অবস্থিত এই চূড়াটি পরিদর্শন করুন। এখান থেকে পুরো উপত্যকাটা খুব সুন্দর দেখায়।

খাজ্জি নাগ মন্দির
এই মন্দিরটি খাজ্জিয়ার হ্রদের খুব কাছে। খাজ্জিয়ার সর্প দেবতা খাজ্জি নাগ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরটি দশম শতাব্দীর এবং এর ছাদ ও কাঠের স্তম্ভগুলিতে বিভিন্ন নকশা ও চিত্র খোদাই করা আছে। ছাদ ও কাঠের স্তম্ভের খোদাইকর্মে হিন্দু এবং মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অদ্ভুত মিশ্রণ প্রতিফলিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, এই খোদাই করা মূর্তিগুলো কৌরবদের, যাদেরকে পাণ্ডবরা এই গোপন আস্তানায় বেঁধে রেখেছিলেন। মন্দিরটিতে একটি প্রশস্ত সভাগৃহ রয়েছে, যা কাঠের খুঁটি দিয়ে ভালোভাবে ঘেরা। গম্বুজাকৃতির এই মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে চুনাপাথরের খনি থেকে আহরিত স্লেট পাথর দিয়ে নির্মিত। এর সংলগ্ন শিব এবং হাড়িম্বা দেবীর অন্যান্য মন্দিরও রয়েছে।

খাজ্জিয়ার পরিদর্শনের সেরা সময়
মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এখানে ভ্রমণের সেরা সময়। আপনি যদি তুষার উপত্যকা দেখতে চান, আপনি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে যেতে পারেন। এ সময় এখানে বরফে ঢাকা পাহাড় দেখা যায়। আপনি খাজ্জিয়ারে জোর্বিং, প্যারাগ্লাইডিং, ঘোড়ায় চড়া এবং ট্রেকিংয়ের মতো মজাদার কার্যকলাপ করতে পারেন।

কিভাবে পৌঁছাবেন?
আপনি যদি আকাশপথে যেতে চান, তাহলে খাজ্জিয়ারের নিকটতম বিমানবন্দর হল কাংড়ার গাগ্গাল বিমানবন্দর, যা এখান থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।
আপনি যদি ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে প্রথমে পাঠানকোট রেলওয়ে স্টেশনে নামুন, যেখান থেকে খাজ্জিয়ার ৯৫ কিমি দূরে। আপনি স্টেশন থেকে একটি ট্যাক্সি বা বাস নিতে পারেন। চাম্বা থেকে ডালহৌসি পর্যন্ত এই মনোরম যাত্রাটি হিমাচল প্রদেশ পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশন পরিচালিত বাসে যেতে পারেন।
ডালহৌসি থেকে সড়কপথে খাজ্জিয়ার মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে। আপনি সহজেই বাস বা গাড়িতে ডালহৌসি যেতে পারেন এবং সেখান থেকে খুব সহজেই খাজ্জিয়ার পৌঁছাতে পারেন।