
কবিতা আমায় ডাকে না
সংহিতা চৌধুরী
অন্ধকারে চলতে গিয়ে ছায়া ও আলো দেখি না বহুকাল
হারিয়ে ফেলেছি দিগ্দর্শন
ছাদ নেই,
বালিশ নেই,
ঘুম নেই,
সারা শরীরে চন্দ্রগ্রহণ।
চাঁদ এবং সূর্য আমার অপছন্দ
ওদের দৃশ্যে আমি অদৃশ্য হই।
যখন দেখি ফেবুতে কবিদের দর্শনের তালিকা আমার মগজধোলাই করছে
আমার তখন মৃত্যু হয়!
কিচ্ছু জানি না, বুঝি না
শুধু জানি–
কদমতলার নদীঘাটে রোজ রবিবার আসর বসে,
আমিনুর সেখানকার মাওলা,
আমাকে একদিন সুধা খাওয়াবে বলেছিল
কিন্তু সেসব জলাঞ্জলি দিয়ে জন্ম দেয় কবির আতুরঘর!
আমি প্রশ্ন করি না
খুব ভয় পাই
সে আমার প্রিয়,
খুব ভালোবাসি।
হঠাৎ উত্তরের বাতাস বুকের লোমকূপে ধাক্কা দিলে
কবিতার শহরের কথা মনে পড়ে,
বগিতে বসে বয়স পাখনা মেলছে,
তাকে ধরতে পারছি কই!
এক কবিবন্ধু রোজ আমায় নেশার ট্যাবলেট খাওয়ায়-
নেশার ঘোরে তাকে ঢিল ছুঁড়ে দিই,
ধুর শালা, সব গেল আমার
প্রেমে হাবুডুবু,
প্ল্যাটফর্ম নেই,
অসহ্য জীবন,
রোদঘামে স্নান করি।
শূয়োরের পাল্লায় পড়ে মাসশেষে পসরা সাজাই
টাকা নেই
প্রতি সন্ধ্যায় পলিসি বিক্রি করি
অথচ, প্রেম বসের কোলে
পাপের সাম্রাজ্যে কবিতারা জন্ম নিচ্ছে,
বেশ্যাপাড়ায় ঝোলা ঝুলিয়ে মঞ্চে উদ্বোধনী সংগীতে দালালি চলছে।
আমি দালাল হতে পারবো না,
পরে তুমিই বলবে-
আমি শব্দ বসাতে পারি না,
বাক্যের গঠন হয় না।