প্রিয় পাঠক

# এটা SEPT-OCT 2022 সংখ্যা # আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ # ঈশানকোণ নিয়মিত পড়ার জন্য আপনার প্রতি রইল আমাদের একান্ত অনুরোধ # ফেসবুকে আমাদের পেজ লাইক করুন, আমাদের সঙ্গে জয়েন করুন # আপনার লেখা আমাদের কাছে অমূল্য, লেখা পাঠান এই ঠিকানায়ঃ singhasada4@gmail.com # ঈশানকোণ-এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ Google Play Store-এ দেওয়া হচ্ছে # পরবর্তী সংখ্যা হচ্ছে NOV-DEC 2022 সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে নভেম্বর ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে।

ঝাল – সদানন্দ সিংহ

ঝাল    (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ মেজাজ কার নেই? একটু কম-বেশি মেজাজ সবারই থাকে। কিছুদিন আগেও একটু মেজাজ চড়লেই সুকান্ত বলে উঠতো, লে-লে-লে-লে। এই লে-লে-লে-লে জিনিসটা কি সেটা অবশ্য সুকান্ত নিজেও জানতো না। আর এই লে-লে-লে-লে আওয়াজটা শুনলেই সুকান্তর বৌ রেবা একদম ক্ষেপে লাল, ছিঃ তুমি অভদ্রের মতো কীসব শুরু করলে! তাতে সুকান্ত আরো বেশি করে রেবাকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্যে এই আওয়াজটা আবার করে যেতো। সুকান্ত-রেবার সংসারটা প্রায় পনের বছরের। একমাত্র ছেলে পিকুর বয়স বারোর কাছাকাছি এবং সে এবার দুপুরের…

Read More

মিত্তিরদের বাড়ি – ব্রতীন বসু

মিত্তিরদের বাড়ি        (অনুগল্প) ব্রতীন বসু আমাদের গলিতে লাল বাড়িটা মিত্তিরদের বাড়ি। ওখানে সব কিছু পালন করা হয় উল্টোভাবে। ছোটো থেকে দেখছি। জামাইষষ্ঠীতে বাড়ির বউকে শাশুড়ি পাত পেরে খাওয়ায়। ভাইফোঁটায় ভাই ভাইকে ভাইফোঁটা দিত, রাখি পরিয়ে দিত দেখতাম।সেই কবে থেকে। বউমা আইটি-তে কাজ পেয়ে বরকে নিয়ে বিদেশ গেল। বর ডিপেন্ড্যান্ট ভিসাতে বাড়িতে বসে রান্না করে, ঘর সামলায়, শুনি, বলি সবাইকে। আমাদের বউরা খোঁটা দেয়, বলে, দেখেছ কি উন্নত মানসিকতা মিত্তিরদের। তোমরা পারবে? আমি শুনি। না এতটা পারব…

Read More

ঢেউ – সোমনাথ বেনিয়া

ঢেউ      (অনুগল্প) সোমনাথ বেনিয়া সমুদ্রের পাড়ে সমুদ্র থেকে বেশ কিছুটা দূরে বসে আছে সুমিত। সুমিত ঢেউ দেখতে ও গুনতে খুব ভালোবাসে। ঢেউ গুনতে-গুনতে হঠাৎ ওর মনে হয় আচ্ছা, সমুদ্র কি তার নিজের সমস্ত ঢেউকে মনে রাখে ? কোন ঢেউ পূর্ণতা পায়, কোন ঢেউ অপূর্ণ থেকে যায়। কোন ঢেউয়ে তার গর্ব হয় কিংবা কোনটায় অপমানিত। আবার কোনটায় তার সুখ থাকে, কোনটায় দুঃখ। অন‍্যদিকে কোনটিতে তার ঘৃণা এবং কোনটিতে তার ভালোবাসা থাকে। সুমিতের এইরকম মনে হ‌ওয়ার কারণ সমুদ্রের এই…

Read More

বজ্রপাত ও স্মৃতি – সুদীপ ঘোষাল

বজ্রপাত ও স্মৃতি  (অনুগল্প) সুদীপ ঘোষাল সংশোধনাগারের ভিতরে কয়েকজন মহিলা কয়েদী স্মৃতিমন্থনে ব্যস্ত। বিজুলি বলে চলেছে, আজও বাহান্ন বসন্তের পরে আমি ভুলতে পারিনি অতৃপ্ত প্রথম রোদবেলার কথা। ষোল বছর বয়সে আমার প্রথম প্রেমিকের কাছে জেনেছি, প্রথম প্রেম পরিণতি পায় না কখনও। মাঝ রাস্তায় থমকে পড়ে, তারপর আজীবন পুড়িয়ে মারে। আমি বুঝতে পেরেছি এখন চালাক প্রেমিকের এটা প্রথম প্রেম ছিল না। তার ছিল বিবেকহীন আঙুলের কারসাজি। পশুর মত কামপ্রবৃত্তি পূরণের ফলে আমার শরীরের ভিতর একদিন পাপ ঢুকিয়ে গা ঢাকা দিল…

Read More

ছুতো – ব্রতীন বসু

ছুতো       (অনুগল্প) ব্রতীন বসু পাড়ার দীপকদা, বছর পঞ্চাশেক বয়স, খেলাধুলো পাগল। গ্রীষ্মের প্রথমে এক সাথে সাঁতার ক্লাবে ভর্তি হলাম। দীপকদা ফর্ম তুলতে যাবার সময় আমাকে ফোন করল, কিরে সাঁতার কাটবি তো এই সেশনে? – হ্যাঁ, ইচ্ছে তো আছে। – আমি ফর্ম তুলে দেব, তুই ফিল আপ করে টাকা জমা ফিয়ে দিস স্টেট ব্যাঙ্কে। – দারুণ হবে। রোজ সন্ধের স্লটে অফিসের পর দেখা হতে লাগল। হপ্তা দুয়েক বাদ থেকেই দীপকদা অনিয়মিত আসা শুরু করল। এক দিন আসে তো…

Read More

দুর্জয়ের মানুষরা – সদানন্দ সিংহ

দুর্জয়ের মানুষরা      (অনুগল্প) সদানন্দ সিংহ দুর্জয় বসেছিল বাসের প্রায় পেছনের দিকে দরজার কাছাকাছি এক সীটে। দরজার কাছাকাছি বসলে একটা সুবিধা আছে। অফিস টাইমের গাদাগাদি ভিড়ের মাঝেও টুক করে নেমে পড়া যায়। দুর্জয়ের স্টপেজ আসতে আরো প্রায় মিনিট দশেক বাকি। সে তাই জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। এইসময় তার মুখের সামনে বাড়ানো দুশো টাকার এক নোট দেখে সে। এইসঙ্গে সে এও শুনতে পায়, “ধরুন তো এটা।” যে লোকটি নোটটি বাড়িয়ে ধরে কথাগুলি বলেছিল তাকে দেখেই দুর্জয় নোটটি…

Read More

শোভনানন্দ – সুদীপ ঘোষাল

শোভনানন্দ        (অনুগল্প) সুদীপ ঘোষাল শোভনকাকা ফাল্গুনে হোলিকার কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে কি নাচ নাচতেন। নাচতে নাচতেই আমরাও সমস্বরে বলতাম, ধূ ধূ নেড়া পোড়া, হোলিকার দেহ পোড়া। শোভনকাকা বলতেন, অশুভ শক্তিকে পুড়িয়ে শুভ শক্তির উন্মেষ। পরের দিনে রং আর আবিরে ভরিয়ে দিতেন আকাশের নরম গা। বাতাসের অদৃশ্য গায়ে আবিরের আনাগোনা। সে এক অনির্বচনীয় আনন্দের প্রকাশে রাধাকৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের আকুতি ছিল তাঁর মনে। আশ্বিনের আকাশে বাতাসে বেলুন গ্রামের শোভনকাকা অর্থাৎ শোভন পাঠকের রঙের খেলা দেখতাম। শিল্পী একমাটি, দু’মাটি…

Read More