সমর চক্রবর্তীর কবিতা
কবিতা শিক্ষা সমর চক্রবর্তী দূরে কেনো দাঁড়িয়ে থাকবি ? কবিতার আসরে, তোকে কেউ ডাকুক না ডাকুক সোজা সামনে এসে বসবি। কোন মাস্টারের মতো নয় কিন্তু! যদিও আমিও এক মাস্টার। তোদের সাথে ঘুরে ঘুরে শিক্ষা গ্রহণ করি ।
কবিতা শিক্ষা সমর চক্রবর্তী দূরে কেনো দাঁড়িয়ে থাকবি ? কবিতার আসরে, তোকে কেউ ডাকুক না ডাকুক সোজা সামনে এসে বসবি। কোন মাস্টারের মতো নয় কিন্তু! যদিও আমিও এক মাস্টার। তোদের সাথে ঘুরে ঘুরে শিক্ষা গ্রহণ করি ।
কতখানি নীতা বিশ্বাস কতখানি কাছে এলে লতা-গুল্ম হয়ে যায় মন! যেন এক সুর তোলা অনন্ত বাঁধন… পাতায় মুর্ছনা নিয়ে সোহাগী চাঁদের সাথে জলসা বসাই আসরের চমৎকৃত ধুলো দিয়ে মনটি রাঙাই ভালোবেসে… গানের কলির গায়ে আতরগন্ধী কত স্নান লেগে থাকে গান ফোটে কলি ফোটে লতাগুল্মের স্তরে স্তরে রাগ ফোটে নম্র অনুরাগে নিজস্ব নদীটির কলস্বিনী শাখায় শাখায়… দুইজনে কতখানি কাছে এলে এ পৃথিবী একটিমাত্র দেশ হয়ে যায়… দীর্ঘ চলাচল নীতা বিশ্বাস বটের ঝুরির কাছে দীর্ঘ অতীত শুনতে যাই আমাকে সে বেঁধে…
অশ্রু জল সুবিনয় দাস চেওনা যেতে, যেতে হবে কি কথা আছে ? ভেবে দেখো আমি কত কাছে, সবুজে সমারোহে, যথেষ্ট লোভে অনুতাপে, অশ্রু জলে। তক্ষুনি সুবিনয় দাস তখনই বাড়িয়েছি স্বর গলার, ক্ষয় কেশে, উস্তাদ চলে যাই কোমায়, ভেবেছি ফস করে জ্বালাবো দেশলাই কাঠি, সটান বাপধন বারুদে মরি, তখনই
আগুন হামিদুল ইসলাম ক্লান্ত পায়ে তখনও দাঁড়িয়ে জীবন কথাঘরে অকথার বদ্ধ উবাচ স্বরবর্ণের দেশে আজও ভুখা মিছিল। গলছে ফুটপাত কারা আসে কারা যায় খোঁজ রাখে না তোতা বোষ্টমী কেবল তোতা হয়ে কন্ঠ মেলায় একতারার মায়ায় আমরা ভুলতে থাকি সব কথা একে একে পটে আসে রাজা ও রানী শাসনের নামে চলে শোষণ দুর্বৃত্তের বর্বর অত্যাচার তখনো বুকের ভিতর জর্জরিত আঘাত চেনায় অশরীরী আগুন আগুন পোড়ে রাজপথ আগুন পোড়ে কথা আগুন পোড়ে সম্পর্ক। পুড়ে যায় বুকের ভিতর নীল দরিয়া এ আগুন…
ভালোবাসি দেবাশ্রিতা চৌধুরী পৌষালী হাওয়া ঝিরঝিরে কুয়াশায় সকাল থেকে পাখিটা গুনগুন করছে ভালোবাসি ভালোবাসি। ভালোবাসি আলুথালু বাসি চুলের গন্ধ ভালোবাসি রাতজাগা দুটি চোখ ভালোবাসি আশ্লেষে ভরা স্মৃতি ভালোবাসি যা কিছু তোমার। সেই থেকে পাখিটা গুনগুন করছে ভালোবাসা মুগ্ধতা ভালোবাসা আকুলতা ভালোবাসা স্তব্ধতা ভালোবাসা বিষণ্ণতা । বেহায়া পাখিটা গুনগুন করে ভালোবাসি ভালোবাসি এক পৃথিবী ভালোবাসি এক আকাশ ভালোবাসি এক সমুদ্র ভালোবাসি এক শূন্যতা ভালোবাসি…
চারুলতা রায় কিশলয় গুপ্ত সমুদ্র তাক করে দৃষ্টি বিলিয়ে দিলে চারুলতা – বলো কি পেলে? আমি তো এখনও একা ঝিনুকে অন্তরালে মুক্তার দেখা পেতে আঁকড়ে আছি পৃথিবীর মাটি চারুলতা রায় – শীতলপাটি জড়িয় স্বজনেরা অনেকদিন অন্ধকার কঠিন নোনতা স্বপ্ন সমাধি মাড়িয়ে চলে গেছে পার্থিব সবকিছু ছাড়িয়ে। আমি শুধু বসে আছি – ভালোবাসায় তুমি তো আসবেই চারুলতা রায়।
কুটুম সমর চক্রবর্তী তোমার কপালে রাজটিকা দেখে মনে হয় তুমি শিকারি গোত্রের। মিঠা হলে বা টক হলে সেই পথের কথা বলো – স্মৃতির কাছে আগামী প্রার্থী। আমার গোত্র কিন্তু সাদা-লাকড়া! সাদা লাকড়া মানে ‘সাদা বাঘ’। বদহজম ছাড়া যারা কখনো এই ঘাস খায় না।
উত্তর হেমন্ত অজিতা চৌধুরী হেমন্ত জড়িয়েছে দেহ ডাল পালা মাথা থেকে পা , আপাদমস্তক — ধূসর বিকেল বিদায় শেফালি ! পড়ন্ত রৌদ্র খেলায় বাজে সানাই। আজও অপেক্ষায়, শুকনো মালা চৈত্রের ঝরা পাতা —- এসেছিল নবীন মুকুল , বেগবতী বন্যা চলে গেল, একূল ভাসিয়ে পৃথিবী অজিতা চৌধুরী রোদ বৃষ্টি, আলো অন্ধকার ভালো, মন্দ — মানুষ ও পৃথিবীর ক্রমশঃ বিস্ময় — সূর্য ডুবেছিল, উঠেছিল চাঁদ শান্ত পৃথিবী সর্বংসহা ধরিত্রী মাতৃসমা যুগে যুগে বস্ত্রহরণ বজ্র, ত্রিশূল, খড়গ প্রতিঘাত, প্রতিশোধ নির্দয় আঘাত —…
যোগাযোগ সুজিত বসু আলোছায়ার খেলা তোমার মুখে যতই কেন থাকি আলোর খুঁজে মুখ ঢাকলো ছায়াই অসংকোচে ভাগ্য হাসে বিদ্রুপ কৌতুকে ওষ্ঠাধরে অনেক মধু জমা দাওনি পেতে কখনো তার স্বাদ একটা ছোট বিচ্যুতিকে ক্ষমা করলে জীবন হতো না বরবাদ চাঁপার সুবাস ছিল তোমার দেহে দূরে থেকেই উপভোগের স্নান চেয়েছিলাম, লুকোলে সন্দেহে সহ্য করি তীব্র অপমান অস্নাত সেই অবস্থাতেই বাঁচি জল পারে না মেটাতে তৃষ্ণাকে সুখের সঙ্গে রোজই কানামাছি মন ক্রমশ পাথর হতে থাকে হারিয়ে গেছে যা ছিল সব প্রিয় নিষ্প্রাণ…
অরুণা সঞ্জীব সেন অক্ষর থেকে ধাতবপ্রিন্ট যাওয়ার আগে প্রুফ পড়ার সময়ই মনে হল আমার ছায়াটি আসলে সূর্যজাত নয়, মুক্তি চাইছে! কোথায় যেতে চাও আজ! ঘাটশিলা, সুবর্ণরেখার পারে, যেখানে গচ্ছিত আছে আমার বাল্যকাল, যেখানে গচ্ছিত আছে কিছু শব্দহীন সংলাপ, নারীর উদ্ধত পণ ভালবাসি আমি, যেখানে আবেশে প্রেম হয়, আসলে সেটা ঠিক প্রেম নয়, তবুও সব নারী প্রথমে সবুজ পরে গমরঙ হয়ে ওঠে, উঠবেই, মনে আছে তোর, সেদিনের কিশোর ছেলেটাকে একটুও জায়গা না দিয়ে এগিয়ে গেছিস একপাল কিশোরীর মধ্যমণি হয়ে, লেডিস…