সামান্য’টা
বলাই দে
সামান্যের মালিক জানেন
হারানোর দুঃখটাকে,
যাদের আছে অঢেল অঢেল
তাদের কী সে দুঃখ থাকে?
জড়ো যে হয় সামান্য’টা
ঝড় বাদলে রোদে পুড়ে,
মনের ভিতর ভিন্ন ভুবন
ঠাঁই মেলে তায় ঘূর্ণিঝড়ে।
যাদের আছে অনেক অনেক
জীবন কাটায় হেলাফেলায়,
রং বেরঙের ফানুস উড়ায়
মত্ত সদাই আজব খেলায়।
সামান্যের মালিক যিনি
সামান্যটা’ই অসামান্য,
যত্নে রাখে পরম পাখি
বেঁচে থাকে তারই জন্য।
দিনের পরে বছর ফুরায়
সামান্যতেই বাঁচতে শেখে,
এইটুকুতেই ধন্য যে হয়
এরই আলোয় পৃথ্বী দেখে।
সামান্যের ভার অসামান্য
জাগে যদি হারানোর ভয়,
আগল দিয়ে জড়িয়ে রাখে
দুঃখ কষ্ট সবই যে সয়।
ভানুমতী
বলাই দে
জড় বুদ্ধি লোকের মাঝে
একাই বুদ্ধিমান,
বিষয় ভিত্তিক পারঙ্গম খুব
ধরেন মস্ত জ্ঞান।
পায়রা উড়ান তুড়ি মারেন
নিত্য নতুন ঢঙে,
কতইনা গুণের ঝিলিক
তিনির একার অঙ্গে।
কথায় কথায় নাটকি ঢঙ
যেন ভানুমতী,
দেখিয়ে চলেন নিত্য নতুন
চালু রাখেন গতি।
জলোচ্ছ্বাসের ভয়াল রূপে
কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে,
দেখেন কেবল মুগ্ধ চোখে
দাঁড়িয়ে ভাবনগরে।
ভাবেন তিনি নবযুগের
ত্রাতা, তিনি ত্রাতা,
ছন্নছাড়া দুনিয়াদারির
তিনিই বিধাতা।
উপরের বেশ সাধারণের
ভেতরে ভিন্ন রোখ,
ঘৃণা কেবল ঘৃণাই পোষেন
বলেন, আমি তোমাদেরই লোক।
আগামী
বলাই দে
লাভের চিনি সবাই পায়
পায়না কেবল চাষা,
ব্যাংক, মহাজন, পোকা, খরা,
হায়রে সর্বনাশা।
নদী, খাল, ডোবা, নালা,
শুকিয়ে আজ কাঠ,
দুঃখী জনের দুখী জীবন
এই বুঝি ললাট।
কেইবা ভাবে তাদের তরে
বারমাস্যা প্রলাপ,
কপালে হাত চাপড়ে মরে
এ-বিধির অভিশাপ।
ভোটের আগে নেতা আসেন
আশায় ভাসায় বুক,
দিন চলে যায় দিনের টানে
আগামীতেই সুখ!
আগামীটা আসে না আর
আগামীতেই থাকে,
বেঁচে বর্তে কোনোমতে
বর্তমানের ডাকে।
দুলছে হাওয়ায়
বলাই দে
ভীষণ ভারী ঋণের বোঝা
মুক্তি পাওয়া নয়কো সোজা,
প্রজন্ম রয় অন্ধকারে-
নিরন্তর চলে আলো খোঁজা।
নুন আনতে পান্তা ফুরায়
ওই যে দেখো ফানুস উড়ায়,
থামলে কী আর চলেরে ভাই-
চড়তে হবে পাহাড় চূড়ায়।
হাওয়া যেন বিষে’ই ভরা
শুকিয়ে গেছে নদী ছড়া,
হঠাৎ যেন থমকে আছে-
ভাঙছে সবই হয় না গড়া।
উঠছে প্রাচীর চারিদিকে
ভাঙছে সেতু রয় না টিকে,
হতাশায় ভাঙচি কাটে-
রং যত আজ হচ্ছে ফিকে।
এরই মাঝে পাখিটা গায়
শুনছি সে গান এই নিরালায়,
সেই তো যেন ফিরিয়ে আনে-
মনুষ্যত্ব, একটু জাগায়।
হালকা যে হয় হৃদয়ের ভার
হয় উপসম সব হাহাকার,
দুলছে যেমন সজনে পাতা-
একটু হাওয়ায় এই বারেবার।