সমর চক্রবর্তীর কবিতা
পাপ সমর চক্রবর্তী পুণ্য এই তীর্থে এসে দেবীর অঙ্গবস্ত্রে তুমি মোটেই স্পর্শ করো না। ধূপের সুতীব্র গন্ধে ঢাকা আঁধার প্রকোষ্ঠে বুঝে ফেলবে তুমিও পাথরের মূর্তিতে তিনি একজন — নগ্ন পুরুষ !
পাপ সমর চক্রবর্তী পুণ্য এই তীর্থে এসে দেবীর অঙ্গবস্ত্রে তুমি মোটেই স্পর্শ করো না। ধূপের সুতীব্র গন্ধে ঢাকা আঁধার প্রকোষ্ঠে বুঝে ফেলবে তুমিও পাথরের মূর্তিতে তিনি একজন — নগ্ন পুরুষ !
নতুন জাদুঘর সন্তোষ রায় আমি হাঁটি আগরতলাও হাঁটে। হাঁটতে হাঁটতে আখাউড়া বর্ডার, এখানেই পথের শেষ। তারপর ফিরে চলি— ডানে বাঁয়ে রামনগর জয়নগর প্যারীমাস্টারের বাগান। এখন বাগান ভরা অট্টালিকা, অট্টালিকায় মরশুমী ফুল। আগরতলা উপর দিকে চায় মাথায় কোনো মুকুট নেই তার। ফার্স্ট গেইট নেই, লালমহল নেই, আস্তাবল নেই, সোনার সিংহাসন নেই, রাজাও নেই। আমরা এখন সবাই প্রজা। আগরতলা ও আমি গলাগলি করে হাঁটি পুরাতন হাবেলী থেকে স্মার্টনগরী। আসতে যেতে দেখি, প্রজারা দলে দলে খেলছে বুবাগ্রা বুবাগ্রা খেলা। চমৎকার এই লোফালুফির…
রসিক দেবাশিস মুখোপাধ্যায় গাছের শরীর পড়ি আর পুকুরের ছায়া নি নিয়ম ভাঙার পর পড়ে থাকে স্মৃতির আয়না না পাওয়ার ব্যথা থাকে থাকে এমনি সাজাই ইচ্ছেঘুড়িতে যাতে সব সহজে উড়িয়ে দি দিন নিভে এলে নিব ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে কালি লিখন অসমাপ্ত হলে লেখার জামা যেন খোলা কতদিন নক্ষত্রের মৃত্যুর পর রসের গভীরে তবু শীতকাল মিষ্টি করে শোক বাউল বেজে ওঠে দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ঝড়ের ভিতর তার ডানায় মধু কুড়িয়ে নিতে নিতে একটা কিশোরবেলা। গাছের গা জড়িয়ে কত কথা ফুঃ দিয়ে উড়িয়ে…
ভাড়া বাড়ি রহিত ঘোষাল লাল জমিনের উপর সাদা ঘরানার শাড়ি, সয়াবিনের মতো দুপুর বেলায় ফুলে ওঠা ঘড়ির চাবি হয়ে কব্জির বিন্যাস করে পরিবহনের অপেক্ষা। বিয়ের পর প্রথম আমরা যে বাড়িটা ভাড়া নিয়েছিলাম, আজ দেখলাম ওই পাড়াতে গিয়ে বাড়িটা ভাঙা হচ্ছে। তারপর তো আমরা উঠে গেছি এক মহাকাশ থেকে অন্য মহাকাশে, তুমি হয়েছ অমর্ত্যগামিনী, অষ্ট সখীর পেছনে পেছনে নবনীতা। আমাদের সেই ফেলে আসা ৮/৩ এর সংসার স্মৃতি। রুম ফ্রেশনার রহিত ঘোষাল আগে কোনো কথা হয়েনি, তার পর একদিন অনেক কথা…
কান্না জলে ভেজা রূপালী মুখার্জি উপহার স্বরূপ একটা নদী পেয়েছিলাম তোমার সাথে পরিচিত হবার পর মাঝে মাঝে ভীষণ মেঘ করে তখন ছলাৎ জলে ভেসে যায় শরীরের আনাচ কানাচ আবার জানো কখনও বিজুলি চমকিয়া কালো ভ্রমর আঁখির কোণে বান ডাকে প্রহেলিকা হয়ে আঁখি পল্লবে টলটল পদ্মপাতায় মুক্তোর আলাপ নিশ্চুপে কখনও সোহাগ নদী ভেসে যায় ঢেউ তুলে নীরব অহংকারে পলাশ বনে ভরে যায় শহরের অলিগলি কেন্দুলির মেলায় বাউল আসর পাতে পাখিরা নীড়ে ফেরে শেষরাতে নদী পাড় খোঁজে জ্যোৎস্নায় ভরে যায় মর্মর…
লোকুইয়াল দিশারী মুখোপাধ্যায় কবুতরকে কবুতর বলিনি আমরা কখনও বলিনি পারাবত, পায়রা বলেই তাকে ডেকেছি চিরকাল। কোন পায়রার বুকে কতটা ক্ষত কতদিন ধরে রয়েছে কস্মিনকালেও কেউ খুঁজতে চায়নি, বুঝতে চায়নি। না লেখা কবিতাটি, কবি যেটি উচ্চারণ করে উঠতে পারেননি এখনও, ক্লিসে ও উচ্ছিষ্ট শব্দে যাকে ধরা যায়নি, সে-ই জানে কতখানি রক্তক্ষরণ হলে কাঁচুলির নিচ থেকে কান্নার কানীন রব শব্দহীন আল্পনা আঁকে। কী কারণে করণের কতটা গুরুত্ব মানা হবে কাল জানে, কেশব জানে না। খই দিশারী মুখোপাধ্যায় খড়খড়ি তুলে ঘরে ঢুকেছে…
বিচ্ছেদ সুজিত বসু একসঙ্গে থাকা বহুদিন অতিরিক্ত পরিচয় থেকে বাড়ে ঘৃণা ভালোবাসা দিগন্তে বিলীন মুখোশের অন্তরালে লুকিয়ে যে তাকে তো চিনি না হয়তো আমারও মুখ অন্ধকারে ঢাকা আলো কি কখনো ছিল, না কি তা ছিল না একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ঘুরে যায় চাকা তৃষ্ণার সমুদ্রে ডুবে জীবনের নকশিকাঁথা বোনা । পিসায় সোনালি দিন সুজিত বসু ধূসর অতীতে স্কুলের বইতে ছবি দেখে তাকে চেনা পরেও দেখেছি বহুবার নেটে স্বপ্নিল বিস্ময়ে আজ তার পাশে দাঁড়িয়েও যেন অটুট সে মায়াজাল হেলানো টাওয়ার রোদ্দুর…
ইকিরমিকির ১ মৌ চক্রবর্তী মেঘ নেয়ে এলো বালি-কার্নিশে নতুন সকাল নতুন হলুদ গোলাপি গল্প বলা ফুল এমন ডেকে বলে এ নতুনদিনে রেখারঙ থেকে দুচোখ আলো নিমেষে তরুতট মেলে মন ভরালি হীরে কুচি সমুদ্র সাধ হাওয়ায় খেলে মেঘলবীথি জুড়ে শুধুই মন কেমন ইকিরমিকির ২ মৌ চক্রবর্তী বেলা বলে কোথা যাও বক সাদা পাখির ডানায় উড়তে উড়তে ছিটকে পলক উদাসী ভবঘুরে সঙ্গী যত এককাল থেমে থাকা নাও খুঁজে খুঁজি ধানরঙ ভুবনবালার হৃদয়ান্তরে কবে এক কবিতার মতন লিখতে চাওয়া না লেখায়…
ফিরে আসা সদানন্দ সিংহ হয়তো কিছু কৌশল শিখতে হয় বেঁচে থাকার হয়তো খুঁজে নিতে হয় জীবনদায়ী কোন আশ্রয় তবু ফিরে আসতে হয়, একবার নয় বারবার আর ক্রমে ক্রমে ভুলভ্রান্তিও সব সহ্য হয়ে যায় আকাশও আবার রঙিন হয়ে যায় কেটে পড়া ঘুড়ির দোলা আর ঢেউ একা একা আমি সব তুলে রাখি এই রাস্তা, এই কাদা, এইসব চূড়ান্ত ভাইরাস, যাবতীয় নরক-গুলজার আর শেষ হেমন্তের কথাও মনে রাখি
মার্চ সমর চক্রবর্তী শান্তিবৈঠক শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তা রক্ষীরা পাড়ায় রাস্তায় দলবেঁধে বেরোলেও আজ আমি আতঙ্কে! কথাটা শুনার পর আসরের বন্ধুরা হেসে উঠলেও, আমি তাদের সংস্রব ত্যাগ করি না। আজকের দিনের এই কবিতা পাঠ করি আর পরিচিত শব্দের মতো দেখি তাদের মুখ।