
সম্রাট অশোক (ছোটোগল্প)
সদানন্দ সিংহ
(‘সম্রাট অশোক’ গল্পটা ত্রিপুরা দর্পণ শারদ সংখ্যা ১৪৩২তে প্রকাশিত)
এক
সম্রাট অশোক একদিন কলিঙ্গ বিজয় করেছিলেন। তারপরই নাকি তিনি ধর্মানুরাগী হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। এসব স্কুলের ইতিহাস বইয়ে পড়েছিল খালপাড় বস্তির অশোক। আর সম্রাট অশোকের মতোই এই অশোকও ইদানীং জীবনযুদ্ধে একদিন বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। ভাবে, একবার বিজয়ী হলে, তারপর কী করা যায় তা নিয়ে না হয় পরে চিন্তা করবে।
কিন্তু কোনো যুদ্ধে, বিশেষ করে জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যে কী কঠিন ব্যাপার তা অশোক হাড়ে হাড়ে জানে। তাই সে সারাদিন পরিশ্রম করে আগুনে লোহা টকটকে লাল করে — সেই লোহাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে নানা কিছু বানিয়েও বিজয়ী কথাটার কোনো তল খুঁজে পায়নি। তবে কি জীবন মানেই সংগ্রাম ? আর সে সংগ্রামই বা কতদিন ? সারাজীবন ? এখনো এর কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি সে। তবে সে আশাবাদী। একদিন হয়তো এর একটা তল খুঁজে পাবে। তবে কিছু একটা করতেই হবে। সংসারের খরচ যে বাড়তে চলেছে। কারণ তার সংসারে এক নবজন্মের আগমন ঘটছে। বিয়ের ছ বছর পর এবারই তার বৌ কাজল পোয়াতি হয়েছে, গর্ভে তাদের পাঁচ মাসের সন্তান।
শহরতলির খালপাড়ের বস্তিতে তাদের ঘর। ছোট্ট সংসার। সংসারের সদস্য-সংখ্যা দুই — সে আর তার বউ। পনের বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর স্কুলের নবম গণ্ডি শেষ করার আগেই তাকে তার বাবার কামারের দোকানের ভার নিতে হয়েছিল। তার ছ বছর পর মা’ও মারা গেল। এই বস্তিরই মেয়ে কাজল এখন তার বউ। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল।
অশোকের কামারের দোকানটা বস্তির মধ্যেই, একপ্রান্তে। দোকানটা বেশ পুরানো এবং কাছাকাছি এলাকার একমাত্র কামারের দোকান বলে টুকটাক এটা ওটা লোকের ফরমায়েশি কাজ লেগেই থাকে। এইসব লোহার জিনিস বানানোও বেশ পরিশ্রমী কাজ। বস্তির একটা কমবয়সি ছেলে তার কাছে কাজ শেখে। তাকে দিয়ে কিছু হাতুড়ি পিটানোর কাজ, এটা ওটা ধরে রাখার কাজ করিয়ে নেয় সে। পরিবর্তে মাঝে মাঝে সে ছেলেটাকে পাঁচ-দশ টাকা গুঁজে দেয়। মাঝে মাঝে কয়েকজন হার্ডওয়্যার দোকানের লোক তার কাছে আসে। এইসব দোকানের লোকেরা তখন তার কাছে দা, খুন্তি ইত্যাদি সব লোহালক্কড়ের জিনিস বানানোর অর্ডার করে যায়। পরিশ্রম করে সে সেগুলি বানায়। লাভ খুব একটা থাকে না। তবে এতে তাদের দিন চলে যায়। এইসবের মাঝেও তার অদম্য ইচ্ছা জাগে — এক আলিশান জীবন কাটানোর জন্য। তাই সে সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ বিজয়ের মতো স্বপ্ন দেখে যায়। হয়তো কোনো একদিন … কোনো একদিন …
গ্রীষ্মকালে গরমে সারাদিন অশোকের দোকানের একচালা টিনের চাল টগবগিয়ে ফোটে। মাথার ওপর পুরোনো ফ্যানের ঘড় ঘড় আওয়াজ চলে। সেই ফ্যান থেকে এইসময় সারাদিন গরম বাতাস ছড়ায়। সন্ধ্যের দিকে টিনের চালা ঠান্ডা হতে শুরু করলে ফ্যানের বাতাসও একটু ঠান্ডা হয়।
কাজ না থাকলে অশোক সন্ধ্যের পরই তার দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। আজও কাজ কম বলে সে দোকান বন্ধ করে বাসার দিকে রওনা হয়।
ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগে খালপাড়ের দখল করা সরকারি জায়গায় অশোকের বাবা একদিন এক চিলতে বস্তির ঘর তৈরি করেছিল। দোকানটাও তাই। তবে এখন বস্তিটা জমজমাট। প্রচুর লোকজন। অনেক ছোটো ছোটো ঘর। সরকার থেকে বস্তির লোকদের জন্য সেনিটারি লেট্রিন তৈরি করে দিয়েছে। এই বস্তির ঘরগুলিও অনেকে এখন ভাড়া দিচ্ছে গ্রাম থেকে আসা রিক্সাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, দিনমজদুর লোকদের কাছে। এইসব লোকদের মাঝে অবৈধ ভাবে আসা বাংলাদেশি লোকেরাও ঢুকে যাচ্ছে। তবে ভোট এলে বস্তিটা আরো জমজমাট হতে থাকে। অনেক নেতা বস্তির ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটপ্রার্থনা করে থাকেন। ভোটপ্রচার এবং রাজনৈতিক মিছিলে বস্তির লোকেরাই অগ্রভাগে থাকে। তবে অশোক এসবের বাইরে। দোকান নিয়েই তার কারবার।
বাসায় ফিরে অশোক দেখে কাজল তখনো ফেরেনি। পরিবর্তে সে কাজলের স্মার্টফোন থেকে ফোন-কল পায়। স্মার্টফোনটা কাজল বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল। সময় পেলেই কাজল ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা রীল দেখে, আর নেট করার রিচার্জ সে নিজেই পাড়ার দোকান থেকে করে নেয় তার নিজের ইনকাম থেকে। ক্লাস এইট পাস করা কাজল এসব ভালোই শিখে গেছে। কাজলের এক ফেসবুক একাউন্টও নাকি সবিতা দিদিমণি করে দিয়েছেন। অশোকের এসব নেশা এখনো রপ্ত হয়নি।
অশোক তার কিপ্যাড মোবাইল টিপে উত্তর দেয়, বল।
কাজলের কথা ভেসে আসে, তুমি এখন কোথায় ? একটু আসতে পারবে এখানে ?
অশোক একটু অবাক হয়ে বলে, মানে ? কেন ? কোথায় ?
উত্তর আসে, কেন জানি না। দাদাবাবু ডেকেছেন। বলেছেন, তুমি এলে বলবেন।
অশোক একটু অবাক হয়। দাদাবাবু মানে দীপেন্দ্র নারায়ণ। এঁদের বাড়িতেই কাজল দু’বেলা বাসন মাজে। একবেলা রান্না করে এবং টুকিটাকি এটাওটা করে দেয়। মাসে তিন হাজার টাকা পায়। অশোক জানে দাদাবাবু এক সরকারি চাকরি করেন, ভালো মাইনে পান। তবে উনার স্ত্রী সবিতা দিদিমণি কিছু কাজ করেন না, বাড়িতেই থাকেন। সে এও জানে তাঁরা নিঃসন্তান এবং তাঁদের বাড়িতে আর কেউ থাকেন না, তবে তাঁদের বাড়িতে এক পোষ্য আদুরে দেশি বিড়াল আছে। তবে আজ হঠাৎ দাদাবাবু কেন ডাকলেন ঠিক বুঝে উঠতে পারে না সে। উত্তর দেয়, ঠিক আছে, আমি এখনই আসছি।
দীপেন্দ্র দাদাবাবুদের বাংলো টাইপের বাড়িটা বস্তি এলাকা থেকে খুব একটা দূরে নয়। হেঁটে গেলে মিনিট পাঁচেক লাগে। যথারীতি মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই অশোক সেখানে পৌঁছে যায়। সে দেখে, কাজল তার অপেক্ষায় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
কাজল তার স্বামীকে বসার ঘরে রেখে ভেতরে দাদাবাবুকে ডাকতে চলে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দীপেন্দ্র দাদাবাবু বেরিয়ে আসেন। পেছন পেছন কাজল এবং সবিতা দিদিমণিও। অশোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলেন, একি তুমি দাঁড়িয়ে আছ যে। বসো বসো। তোমাকে কেন ডেকেছি বলছি।
অশোক মাথা চুলকিয়ে একটু হাসে, আজ্ঞে আপনি ডেকেছেন বলেই আমি তাড়াতাড়ি চলে এলাম। বলেই সে সোফার পাশের একটা চেয়ারে বসে পড়ে।
দীপেন্দ্র জিজ্ঞেস করেন, কী খাবে বলো তো ?
অশোক জবাব দেয়, না দাদাবাবু কিছু না, সারাদিন যা গরমের মধ্যে কাটালাম। আগে ঘরে গিয়ে ভাল করে স্নান করব।
— আচ্ছা ঠিক আছে। কেন ডেকেছি বলছি। শুধু তোমাকে নয়, তোমাদের স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই বলছি। তোমরা দু’জন কুড়ি-পঁচিশ দিন আমাদের এই বাড়িতে এসে থাকো। আমরা একটু তামিলনাডু বেড়াতে যাবো। সঙ্গে একটু বডি চেক-আপও করিয়ে নেব। সেজন্যে আমি ফিরে এসে কাজলের মাইনে ছাড়াও একস্ট্রা তোমাদের দশ হাজার টাকা দেব। খাওয়া-দাওয়ার কোনো চিন্তা করতে হবে না। ঘরে চাল, চিনি, ডাল, ঘি, তেল, চা-কফি-জুস সহ অনেক কিছু আছে। যা আছে তা পঁচিশ দিনের ওপর চলে যাবে। আলু-পেঁয়াজ-ডিম পর্যাপ্ত পরিমাণে রেখে যাবো। এছাড়াও গোয়ালা প্রতিদিন যে এক লিটার করে দুধ দিয়ে যায় তাও চলবে। তাছাড়া যাবার সময় আমি তোমাদের হাতে বাড়ির অন্য খরচের যেমন মাছ-মাংস এসবের জন্যে নগদ দশ হাজার টাকা দিয়ে যাবো। কী ? ঠিক আছে ?
অশোক দাদাবাবুর কথাগুলি শুনে একটু অবাক হয়ে কাজলের দিকে চায়। সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ব্যাপারটা, কারণ গত পাঁচ বছর আগে এনারা তালাচাবি লাগিয়ে সিমলা ঘুরতে গেছিলেন। কাজলের এসব ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ নেই, সে তার স্বামীকে বলে, আমাদের কোন অসুবিধে নেই। কী বল ?
কাজলের কথার প্রত্যুত্তর দেয় অশোক, না না, কোনো অসুবিধে নেই।
— তাহলে এবার আসল কথায় আসি। মন দিয়ে শোনো, তোমাদের যেসব ব্যাপারগুলি দেখতে হবে সেগুলি হলো এইসব … …। দীপেন্দ্র নারায়ণ একে একে ব্যাপারগুলি বলতে থাকেন। তন্ময় হয়ে শোনে অশোক এবং কাজল।
দুই
দীপেন্দ্র নারায়ণরা তামিলনাডু চলে গেছেন আজ পাঁচদিন হয়েছে। দীপেন্দ্র নারায়ণদের বাড়িতে অশোক আর কাজলের দিনগুলি এখন একদম পালটে গেছে। নিজেদের বস্তির ঘরটাকে তালা মেরে ওরা দীপেন্দ্রর বাড়িতেই থাকে এখন। এখানে যা খেতে চায় সবই হাতের কাছে। কাটে যেন রাজার হালে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি, টোস্ট, ডিমের ওমলেট। আগে ক্ষিদে পেলেও ক্ষিদেটা চেপে রাখত। এখন সকালে বেশ করে ব্রেকফাস্ট করার পরও সকাল দশটা বাজলেই আবার ওদের ভীষণ ক্ষিদে পেয়ে যায়। তাই তখন কাজল পরোটা-তরকারি বানায়। সঙ্গে ফ্রিজে রাখা রসগোল্লা বা ক্ষীরতোয়া সহ পরোটা তরকারি খায় পেট ভরে। বেলা দুটোর আগেই আবার ক্ষিদে পায়। তখন কাজলের রান্না করা ভাত মাছ ডাল সহ বিভিন্ন পদের তরকারি পেট ভরে খায় দুপুরে এবং রাতে। রান্নাটা একবারেই দু বেলার করে নেয় কাজল। তারপর শুধু অবসর আর অবসর। কাজলের সময় কাটে মোবাইলে রীলের পর রীলের ভিডিও দেখে। এখানে রয়েছে দীপেন্দ্রদের ফাইবার নেটের কানেকশান। যাবার আগে তারই ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড দিয়ে কাজলের ফোনটাকে কানেক্ট করে দিয়েছিল সবিতা। অশোক অবশ্য সকাল এগারোটার দিকে তার কামারের দোকানে চলে যায়। দুপুরে ফিরে আসে। বিকেলে আর দোকান খোলে না। সে সময় কাটায় টিভিতে ফ্রী স্টাইল রেসলিং দেখে। এটা দেখতে তার খুব ভালো লাগে। এই রেসলিং না থাকলে সে চ্যানেলের পর চ্যানেল পালটিয়ে যায়। মাঝে মাঝে কাজল বলে ওঠে, ইস এভাবে যদি আমাদের জীবনটা কেটে যেত। শুনে অশোক জবাব দেয়, সত্যিই জীবনটা যদি রাজার হালে কেটে যেত।
আসলে অশোক জানে না, রাজার হাল ব্যাপারটা ঠিক কী রকম ? অশোকদের কাছে রাজার হাল মানেই পেট ভরে খেয়ে, ভালো কিছু পরে জীবনযাপন করা। এর চেয়ে বিশেষ কিছুর চাহিদা তেমন নেই। কিন্তু ঐটুকু করতে গিয়েই নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়।
দুপুরে খেয়েদেয়ে অশোক একটা ঘুম দিয়েছে মাত্র, ঠিক তখনই কাজল তাকে জাগিয়ে দেয়। চোখ খুলতেই অশোক কাজলের কথা শুনতে পায়, উঠো উঠো।
— কী হল ?
— ভীষণ একটা ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে কোনো বিড়াল এসে অশোককে কামড়াচ্ছে।
অশোক তড়াক করে উঠে বসে। বলে, কোথায় ? কোথায় ?
— ঠিক বুঝতে পারছি না।
আওয়াজ লক্ষ্য করে অশোক দৌড়োয়। পেছন পেছন যায় কাজল।
এদিক ওদিক খোঁজার পর শেষে অশোক দেখে চিলেকোঠার টেবিলের তলায় ছাই রঙের এক বড় বিড়ালের সঙ্গে দাদাবাবুদের আদরের বিড়াল অশোকের লড়াই হচ্ছে। দীপেন্দ্র এই বিড়ালটাকে চার বছর আগে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে ড্রপার দিয়ে দুধ খাইয়ে খাইয়ে বড় করে তুলেছিল। বিড়ালটা মেল না ফিমেল বোঝার উপায় ছিল না তখন। নাম দিয়েছিল পুষি। পরে আস্তে আস্তে বড় হলে বোঝা গেছিল ও হচ্ছে পুরুষ। তখন পুষি নামটার পরিবর্তে অশোক রাখা হয়েছিল। কারণ পুষি নামটা মেয়েলি বলে দাদাবাবুদের মনে হয়েছিল।
অশোক ছাই রঙের বিড়ালটার দিকে ছ্যা ছ্যা আওয়াজ করে তেড়ে যায়। বিড়ালটা তাকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। দাদাবাবুদের বিড়াল অশোকও এক ছুটে বেরিয়ে গিয়ে কোথায় জানি লুকিয়ে পড়ে। পিছে পিছে দৌড়ে গিয়েও ওরা দু জন বিড়ালটাকে খুঁজে পায় না। অশোক আর কাজল বিড়ালটাকে খুঁজতে খুঁজতে ডেকে যায়, অশোকবাবা আয় আয়। শেষে অনেক খোঁজার পর ড্রয়িং রুমের সোফার নিচ থেকে অশোককে ওরা বের করে আনে। ওরা দেখে বিড়ালটার গলার এক জায়গায় কামড়ের দাগ এবং ওখান থেকে রক্ত বেরুচ্ছে তখনো। কাজল বেশ ঘাবড়ে যায়। দাদাবাবুরা যদি জানতে পারে অশোকের এই অবস্থা, তাহলে আর রক্ষে নেই। যাবার আগে দাদাবাবু এবং দিদিমণি দুজনেই পই পই করে বারবার কাজলদের বলে দিয়েছিল অন্য বিড়ালের আক্রমণ থেকে অশোককে রক্ষার জন্য সবসময় যাতে নজর রাখা হয়। বিড়ালটাকে ওরা প্রতিদিন ভালো করেই খাইয়ে দাইয়ে রেখেছে। দাদাবাবুদের কথামত প্রতিদিন ওরা ইলিশ বা রুই মাছভাজা মাখা ভাত, দুধ এবং বেড়ালের প্যাকেট জাত খাবার পেট ভরে খাইয়ে রেখেছে। সাথে অবশ্য নিজেদের খানাপিনা আনন্দফুর্তি নিয়েও ওরা ব্যস্ত থেকেছে। তবে সত্যি বলতে কি, ওরা ঠিকভাবে অন্য বিড়ালের আক্রমণটা নজরেই রাখতে পারেনি। বিড়ালটার জন্যেই তো ওদেরকে রাখা। নইলে কি আর এভাবে ওদেরকে রাখা হত ? কাজল আহত অশোককে কোলে তুলে নিয়ে সোফায় শুইয়ে দেয়। তারপর কাজল দৌড়ে চলে যায় তুলো আর আয়োডিন আনতে।
অশোক বেড়ালটার গায়ে হাত বুলোয়। বুলোতে বুলোতে ভাবে, এই অশোক নামক বেড়ালটার জন্যেই তো ওরা মানে অশোক নামক এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী কয়েকদিন রাজার হালে এখানে আছে। সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে এইরকম রাজার হালে সবাই থাকত কিনা সে জানে না। কিন্তু এই মুহূর্তে, এখানে রাজার হালে থাকলেও কোন্ রাজার রাজত্বে সে আছে তা সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। অশোক নামক বেড়ালটা তো রাজা হতেই পারে না, কারণ সে লড়াই ব্যাপারটাই ঠিক জানে না। আর সে নিজেও তো এই পৃথিবীরই এক অতি ক্ষুদ্র অংশ, যে কিনা রাজা হতে কোনোদিনই পারবে না, তবে বিজয়ী হয়ে রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বপ্নটাই তার কাছে এখন মরীচিকার মতন, তবু স্বপ্ন দেখে যায়।