সন্তোষ রায়ের কবিতা

সন্তোষ রায়ের কবিতা

জন্মকথা

সন্তোষ রায়

আমি ও আমার গল্প,
আমি ও আমার কবিতা—
একই মায়ের সন্তান।
আমার জন্ম আগে, গল্প পরে
আমি আগে, কবিতা আমার পরে।

গল্প ও আমাকে যমজ বলেই জানে সবাই
যেমন কবিতা ও আমাকে।
মা বলেন, চেহারাতে কিছুটা তারতম্য আছে—
একদম আমি যেমন নয় গল্প ও কবিতা।
গল্পের পিঠে দেশভাগের দাগ,
কবিতায় তারও আগের বর্ণবিদ্বেষ।
আমি ছিলাম নিখুঁত। জন্মদাগ বলতে কিছু ছিল না শরীরে।

স্বভাবেও ছিল না বংশের অমিল কিছু।
আমার ঠাকুরদাদা নাকি
না লিখে গল্প শোনাতেন। তাঁর ঠাকুরদাদাতেও কবির স্বভাব ছিল— মনের যত ধুলোবালি, ঝরাপাতা ফুৎকারে উড়িয়ে সবাইকে বসতে দিতেন।
শত্রু কেউ নয়, প্রেম এমনই।

আমি বড় কি ছোট তা’ নিয়ে আমার সহোদরদের কোনো কথা ছিল না। যত কথা আমার প্রতিবেশীদের। হিসেব গণনা ওদের। কাজ ফেলে ওরাই গণনা করে চলে— কবিতা বড় নাকি আমি বড়, গল্প বড় নাকি আমি…।
সবশেষে বাড়ির সুপ্রাচীন গাছটি মুখ খোলে, বলে—
মায়ের জঠরে ছিলাম আমি
আর আমার মধ্যে গল্পকবিতা।
এভাবেই যমজ।

ভূমিষ্ঠের পর আর কোনো সম্পর্ক ছিল না
আমার ও সহোদরের—
না খেলাধুলা, না পড়াশোনায়।
তাই এত দূরত্ব— আমার ও কবিতায়,
গল্প ও আমায়—