বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

.

বাঁচার জন্য

বলাই দে

বেঁচে আছেন বেঁচে থাকেন
আয়ু পেলেন মস্ত,
ফুলে ফেঁপে বর্গাকার
সমান দীর্ঘ প্রস্থ!

প্রেসার বাড়ে, বাড়ে সুগার
বাড়ে দিবানিদ্রা,
রাতের বেলায় উড়ন্ত মেঘ
হাসেন বিশারদরা!

কোবরেজ স্বপ্নে আসেন
বাজান ডুডুম বাদ্য,
কালকে থেকে কমাও বেটা
মুখরোচক খাদ্য।

ঘুমটি ভাঙে আচম্বিতে
নিদান পেয়ে স্বপ্নে,
বছর ভর খেলি অনেক
এবার নামের জপ’নে।

রোজগারটা করিস বটে
তাই বলে সব চাটবি,
আরাম আয়েশ ছেড়ে ছুঁড়ে
যত পারিস খাটবি।

বাঁচিস কেবল খেতেই বুঝি
চলিস কেবল উল্টা,
বাঁচার জন্য একটু খানি
খেয়েই দেখো ফলটা!

আমার আছে

বলাই দে

কী আছে তোর কী আছে তোর
আমার আছে খুঁটির জোর,
দেখ্ দেখ্ দেখ্ নাচন কোদন
নেচেই চলি সন্ধ্যা ভোর!

লড়তে চাস আমার সঙ্গে
অনেক জোর আমার অঙ্গে,
বিচারক তো আমার বোড়ে
রেঙে ওঠে আমার রঙ্গে।

করছি কেমন দুনিয়াদারি
হুকুম কেমন করছি জারি,
ঘাটাসনে ভাই ঘাটাসনে আর
সরে যা, সরে যা তাড়াতাড়ি।

মনের আবেগ কী প্রয়োজন
আয়োজন তো ভাঙতেই মন,
যেথায় আমি দাঁড়িয়ে আছি
আমার ভুবন আমার ভুবন!

আছি আমি রসেবসে
মান্য করে আমায় দশে,
ছুটছে ওরা হাওয়ার দিকে
বিপরীতে ওই পড়ছে খসে!

ভবিষ্যতের নাই পরোয়া
পাওয়াই আছে নাইতো খোয়া,
হিসেব মতোই চলছে রে সব
খুঁটির জোরেই হাতে মোয়া

ব্যায়াম

বলাই দে

কী লিখি কাকে লিখি
ভাবি যত তারই সিকি,
হয় না লিখা ঠিকঠাক-
শেষে ভাবি হলো একি!

সাদা চোখে দেখি কত
ঘটনা তো শত শত,
বুকে বাজে বুকে লাগে-
ভাবাতুর অবিরত।

জাগতিক জগতের
হেরাফেরি হেরফের,
প্রতিবাদী স্রোতধারা-
সরে যায় পাই টের!

অভিনেতা অভিনয়
বাকপটু মহাশয়,
মজে যাই মরে যাই-
কাটে দিন, দিন ক্ষয়!

ভিতরে পাখি এক
তাড়া দেয় লেখ লেখ,
জড়ো করি খড়কুটো-
তাও হয় হাইজ্যাক!

স্রোতের’ই তালেতালে
উড়ে উড়ে ডালে ডালে,
হয়না যে ক্ষমা তার-
গতিটাকে হারাইলে।

.