হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

অর্জন

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

জীবনের যা কিছু অর্জন সব তার দান
কিন্তু দান তো এক সময় ফুরিয়ে যায় ঠাকুর
প্রকৃতির গ্রাসে, তাহলে ?
বিমূর্ত পথিক যায় চলে পাখিদের ডাকে
নৌকো পারাপার করে যে মাঝি তার গানের উজানে
ক্রমশ শস্যদানা শ্যামল হয়ে ওঠে নদীর দুই তীর
শুধু রাতের কল্লোলে নক্ষত্রগুলো ঝরে ঝরে পড়ে …

তখন রাত জাগে দিনের গভীরে
তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় আলো এসে অন্ধকারে লুকোয়, তখন চাঁদকে আর চাঁদ মনে হয় না

তবু তুমি চলে যাও দূরে, আমি জানি
যেতে হবে, সকলেই যায়
আর যেতে যেতে কিছু প্রশ্ন রেখে যায়

বাঁশিও কি রেখে যায় রাধার আকুতি
অনন্ত অভিসারে …..


ভালবাসার কথা

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালবাসার কথা কাউকে কখনো মুখ ফুটে বলতে নেই, চোখে মুখে প্রাণবন্ত অভিব্যাক্তিতে সে যদি বুঝতে না পারে কিংবা না চায় তাহলে থাক না
তার মানে এই নয় যে তুমিও তাই করবে …

কোনও কিছু জানান না দিয়েও ভালবাসা যায়
ভালবাসা এক অভ্যেস, এর মূলে প্রতিদিন জল দিতে হয়, যত্ন করতে হয় ….
ভালবাসার কথা কখনো কাউকে মুখ ফুটে বলতে নেই, তাতে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়
খেলো মনে হয়, তাতে স্বার্থপরতার গন্ধ পাওয়া যায়
কত কী যে সয়ে যেতে হয় ভালবাসা হলে…..

পাশাপাশি সমুদ্র আর পাহাড় নিয়ে চৌরঙ্গী পেরোতে হয়, করবী আর গাঁদা দুজনের ভালবাসা এক নয়
জবা আর শিউলি তাদেরো না যেমন শুকতারা কালপুরুষ. ..তার মানে এই নয় যে তোমার নামের
সাথে যুক্ত হয়েছে কারো নাম সিরি ফরহাদ লায়লা মজনু রামী চণ্ডীদাস, ভোরবেলায় সন্ধ্যাবেলায় ট্রেন
চলে যাবে দিকশূন্যপারে ….
দূর দেশে নৌকায় বসে তখন কে যেন গাইছে …
সোনা বন্ধুরে আমি তোর নাম লইয়া কাঁদি..
আড় বাঁশির সুরে যমুনা লজ্জা পাচ্ছে,পাছে আস্ত একটা চাঁদ এসে তার হাত ধরে ……