বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

একবছরে

বলাই দে

একবছরে হাসছে সবাই
থেমে গেছে কান্না,
হেসে বলছে, অনেক হলো
আর না, আর না।
‌হাসতে হাসতে ধরেছে খিল
চামেতে খুব ব‍্যথা,
মরেই যাবো, মরেই যাবো
থামাও এবার কথা।
দিনগুলো, রাতগুলোও
রঙিন কি যে রঙিন,
নাই রে জ্বালা, যন্ত্রনাও
তবুও আজকে সঙিন।
মনটি খুলে বলতে কথা
শিখেছি এই প্রথম,
চিন্তায় চেতনায় আ-হা
লাগছে মনোরম।
নিরাশা দূর, শুধুই আলো
ভিড় করেছে আশা,
জীবন যেন কাব্য গাঁথা
খাসা ভীষণ খাসা,
পুরোনো দিন, পুরোনো স্মৃতি
হারিয়ে গেছে ভিড়ে,
গুনগুনিয়ে গাইছে ভ্রমর
মধুমাস এলো ফিরে!


চাষাভূষা

বলাই দে

দুদিক থেকে দুটি বাঁশ
মধ্যিখানে জুড়ে,
‘জলম’ গাঁয়ের লোকগুলো-
যায় যে ‘মোহিতপুরে’।
দুগাঁয়ের সীমানাটায়
ঐ যে বিশাল খাল,
পুব থেকে পশ্চিমে বয়
যখন বর্ষাকাল।
দুর্দিনে থাকে না জল
জলের হাহাকার,
প্রার্থনা আর দোয়া মাগে
আয় বর্ষা আবার।
জারি, সারি, গম্ভীরা-
আর ভাটিয়ালি গান,
ঘন্টা বাজে মন্দিরে
আর মসজিদে আজান।
অভাব আর অনটনে
সুখ-দুঃখের দোলা,
খেটেখুটে ভরায় সদা
মহাজনের গোলা।
টগবগিয়ে ওঠে চাষা
বৃষ্টি যদি নামে,
খেটে চলে জানে-প্রাণে
রক্ত ঝরায় ঘামে।
অনেক কষ্ট অনেক দুঃখ
থাকেই বারোমাসে,
সোনার ফসল ফললে তখন
মাতে রে উল্লাসে।


উদ্বৃত্ত

বলাই দে

জনসম্পদ সম্পদ নয়, এ যে কেবল বোঝা,
কর্মবিহীন দিনযাপনের হিসেব বড় সোজা।
দেশ বলো রাষ্ট্র বলো, পায় না দিতে দিশা,
সকাল-সন্ধ্যে হন‍্যে হয়ে বিচিত্র অন্বেষা।
ঘরে ঘরে ডিগ্রি হাতে, ঘুরছে পথে পথে,
একটা কিছু জুটলে পরে বাঁচে কোনো মতে।
ভাটিয়ালির মধুর সুরে মন মজে না কারো,
যাদের আছে, চাই যে তাদের, আরো এবং আরো।
বেগ কেড়েছে আবেগখানি, জীবন গদ‍্যময়,
এই ভাবেতেই জীবন চলে, সকাল-সন্ধা হয়।
জলের দামে বিকোয় সবই, জীবনই বরবাদ,
ফলিয়ে ফসল, কৃষক এখন গুনছে রে প্রমাদ।
বুক ফুলিয়ে ভাষণের ঢেউ, আছড়ে পড়ে নিত্য,
কৃষি নাকি ভিত্তি দেশের, কৃষকই উদ্বৃত্ত।
জীবন এবং জীবিকা, উভয়েই এখন গর্তে,
আলো কোথায়, আঁধার শুধু আঁধার এখন মর্তে।


ছড়ায় গান

বলাই দে

হলো যদি সর্দি, ডাকো কেন বদ‍্যি,
সাত দিনে সেরে যাবে সত্যি সত্যি।

পেটে যদি হলো ব‍্যথা, কেন করো চিৎকার,
এ যে ব্যামোর ব‍্যামো, তারে দাও ধিক্কার,
যদি মনে হয় গোল, করো তবে সোরগোল-
বইটাকে ধরো কষে, এই হোক্ পথ‍্যি-কুল।

গাঁটে যদি থাকে কড়ি, যাও তবে প‍্যারিসে,
লোকগুলো ভোগে খুব, না ভিজেও বারিষে।

ওমরের দেশে যাবে যদি, যাও পারস‍্য-ফারসি,
রুবাইয়্যাতে আঁকা আছে, জীবনের আরশি,
না পারো যেয়ো না, বেশি কিছু খেয়ো না-
নিজ ভূমে বসে ভাবো, ছিলো যে এক দত‍্যি।