
তোমাকেই
অভিজিৎ চক্রবর্তী
১
জন্মদিনের পরে আসে মৃত্যুদিন
মৃত্যুদিনের পরে জন্মদিন
শুধু সে আসে না
২
তোমাকে বিশ্বাস করে ঘরে আসি
অবিশ্বাস করে ফিরে যাই
দু’দিকেই তোমাকে পাই
৩
আলো নেভালে ঝকঝক করে চাঁদ
চাঁদ ডুবে গেলে তুমি
যতদূর পেতে চাই, খা খা মরুভূমি
৪
জোছনারও সীমা আছে, পথেরও আছে শেষ
আয়নার কাছে এসে দেখো
এরপরেও থাকে রেশ
৫
যে মেঘ তোমার কথা জানে
তাকে বিরহ নামে ডাকি
যে অশ্রু একা, তাকে প্রেম
৬
তোমাকে ভালোবেসে বুঝেছি
তুমি বহুমুখী নদীপরিকল্পনা,
আমারও বিদ্যুতের বড় অভাব
৭
যেতে যেতে দেখি তারপরও আছে পথ
ভেতরে গোপন কোনও ঘর
যতদূর ফিরে যাই, ততদূর তোমার শহর
৮
মাঝরাতে পাহাড়ের নিচ থেকে যে ব্যথা জাগে
তাকে তুমি অভিমান নামে ডাকতে পারো
কিন্তু কুয়াশা বলে ডেকো না, তারও তো মন আছে
৯
শরীরে শরীর দিয়ে বোঝা যায় ক্ষুধা
বোঝা যায় ক্ষুধা নিবারণ
এত যে বারণ, কী কারণ
১০
তোমাকে চুমু দিলে কেঁপে ওঠে বন
ঝড়ের মত আসতে থাকে পশুর স্রোত
তবু আমি তো শিকারী নই
১১
তোমাকে দেখি না দেখি না করে দেখি
তোমাকে লিখি না লিখি না করে লিখি
আমাদের এই খেলা পুরাতন
কেবল আমি তুমি নতুন
১২
পথের ওপাশে ঝোপ
ঝোপের ওপাশে চাঁদ
আগে তো বুঝিনি প্রেম
অতলস্পর্শী খাদ
১৩
কখনো দেখিনি তোকে,
প্রেম না বিষাদ বুকে
একা পেয়ে আজ খুলে দেখি
ফুল ফুটে আছে
১৪
বহুদিন লেখালেখি করে বুঝেছি
বহুদিন কিছুই লিখিনি
১৫
এখন তোমার গালেও ব্রণের দাগ,
মনে আছে আগে কত যত্ন নিতে
কিন্তু জেনো চাঁদেরও কলঙ্ক লাগে
১৬
কী টান ছিল তোমার প্রতি, হাতের ফুল নিয়ে কত বিশ্লেষণ
এখন তেমনই নির্জন
তোমার প্রেমিকদের দেখি ঘরে ঘরে
তুমিহীন বিষণ্ণ সংসার করে
১৭
একসময় তুমিই ছিলে নেশা
এখন যদিও না
তবু পুরানো কোনো বন্ধু এলে
এখনো তুমিই বিষয়, গোপন যন্ত্রণা
১৮
সাঁচির স্তূপের মত তোমার বুকের ঢিপি
যেন প্রাচীন জনপদ
উপাসনাহীন
একদিন সেখানেই জ্বালব দীপ
১৯
সব ধ্যানমগ্ন চোখ নয় বুদ্ধের উপমা
প্রেমে কি বুক কোনও দরকারি সুষমা!
কিন্তু ঐখানে গোপন রেখেছ যারে
তারই ছবি আঁকি অক্ষরে
২০
তোমার শুধু চাঁদ তোমার শুধু বন
আমার খালি চাওয়া, রোদের গায়ে ছায়া
তোমার ভীষণ বর, অর্থনির্ভর
আমার কাতরতা অশ্রুজলচর
রহস্যময় জন একাকী নির্জন
আমার শুধু ভর কবিতানির্ভর