বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

তুলে মূলে বিনাশ

বলাই দে

“কামের নামে ঠন ঠনাঠন
আকামের দোকানদারি”,
হাওয়ায় চলে আলোচনা
হাওয়ায় হাওয়ায় দেয় পাড়ি।
উড়ে বেড়ান ঘুরে বেড়ান
তরঙ্গেতে ছড়ান বাণী,
ভক্তকূল মাতেন তাতেন
কাড়াকাড়ি টানাটানি!
জ্ঞানের প্রতীক ধ্যানের প্রতীক
মানুষ হারায় স্রোতধারায়,
পিছন দিকে ছুটছে ঘোড়া
কিসের ভয়ে কিসের তাড়ায়?
অন্নদাতা পায় না খেতে
হাতড়ে মরে অন্ধকারে,
জোড়াতাপ্পি চলছে না আর
কোনোমতেই ছেঁড়া তারে।
আশার ফানুস ফাঁসলো জবর
বিনাশ হলো তুলেমূলে,
ভালো রাখার ভালো থাকার
বাঁধন খানি গেল খুলে।
জীবন যাপন কঠিন কঠোর
কোথায় দাড়ি কোথায় কমা?
এলোমেলো সবকিছু আজ
ইতিহাস কি করবে ক্ষমা?


ছন্নছাড়া

বলাই দে

আলো ঝলমল চারিদিকে
আশার আলো কেবল ফিকে,
সারাজীবন বইছে বোঝা
ধুঁকে ধুঁকে রয় যে টিকে।

পা ঢাকলে বেরোয় মাথা
মাথা ঢাকলে পায়ের পাতা,
চারিদিকে এই প্রবাহ
সাধারণের জীবন গাঁথা!

শ্রম বিকিয়ে রুটি রুজি
বেঁচে থাকার রসদ খুঁজি
পায় না ঠাঁই নাই রে ঠাঁই-
শোষণ চলে সোজাসুজি।

যেই মোড়কেই আসুক শাসন
চলে কেবল, কেবল ভাষণ,
জীবন জুড়ে কালোর খেলা
সব ভুলে যায় পেলে আসন।

জীবন যুদ্ধে গেলে হেরে
মেনেই নেয় গ্রহের ফেরে,
এটাই ভবী ভবিতব্য-
সবাই দূরে যায় যে ছেড়ে!

এটাই নিয়ম যুগের ধারা
সব থেকেও সর্বহারা,
কালো মুখে হাসির মুখোশ-
জীবন কেবল ছন্নছাড়া।

বুকটা জুড়ে

বলাই দে

নানান রঙের দিন
তারই কাছে বাড়ে ঋণ,
ফিরে যাই তারই কাছে
সুখ যেন অন্তহীন!

হয়তো সে সামান্য
তবুও যেন ধন্য,
তাকিয়ে থাকা তারই দিকে
আজও সে অনন্য।

হয়তো একটু কষ্টের
সময় হয়তো নষ্টের,
তবুও সে চোখে ভাসে
তবুও সে আনন্দের।

নানান রঙের দিন সব
জীবনের সৌরভ,
ফিরে ফিরে আসে সে
অনন্য অনুভব।

নেচে চলে অবিরত
সজনে পাতার’ই মতো,
ভারহীন দিনলিপি
ভিড় করে শত শত।

ডানা মেলে উড়বার
মানা ছিল না তার,
সেদিন ফিরেনা কভু
বুক জুড়ে হাহাকার!


নাক গলানো দাদা

বলাই দে

ভালো মন্দ কোনো কাজেই
দেয় না কেহ বাধা,
তাইতো তিনি সব খানেতে
নাক গলানো দাদা।
তোমার বা আমার কাজে
সব খানেতেই আছেন,
দুঃখ পেলে তুমি,
তিনি, তাথৈ থৈয়া নাচেন।
মাতব্বরি ঢংখানি তার
এক্কেবারে খাসা
কেমন করে বুঝাই বলো
নাই যে তেমন ভাষা!
তত্ত্ব কথা শোনান তিনি
যারেই কাছে পান,
বিপদেতে থাকেন দূরে
এমনি যে তার মান।
সেদিন দেখি জটলা ভীষণ
হাসপাতালের মোড়ে,
নাক গলানো দাদা আছেন
বদ-অভ‍্যাসের জোরে ।