রহিত ঘোষালের কবিতা

রহিত ঘোষালের কবিতা

ভাঙা গড়া

রহিত ঘোষাল

আমরা সবাই ক্লান্ত
শূন্যতার সমাধান খুঁজতে খুঁজতে,
সীমান্তরেখা প্রহর গুনছে,
আমরা হৃদয়ের চিড় দেখে
বহ্নিশিখা দিয়ে আবেগ ঝলসে নিচ্ছি,
শুধু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই,
ভাঙা আয়নার তীক্ষ্ণতা,
এ আমাদের ঠাণ্ডা রক্তে ডুবে মরার ইতিহাস।

যে চিঠিতে ক্ষত আছে

রহিত ঘোষাল

আমি পরের জন্মে সব ভুল চিহ্নিত করতে
পারব এটুকু আশা রাখি,
তোমার মুখ একটি লাল খাম যেটা ক্রমাগত
বড়ো হয়ে চলেছে,
তার মধ্যে দেখলাম একটি গুলি বা বীজের
মতো শব্দ, একটি ট্রেন দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে,
লাল পতাকার অপেক্ষা না করেই,
ধোঁয়া ট্রেনটিকে থামাতে চায়,
ধোঁয়া ট্রেনটিকে চলে যেতে বলে,
প্রতি সাত বছরে শরীরের কোষ সম্পূর্ণ পালটে যায়,
তার মানে কি যে ছেলে জলে ডুবে মারা গেছে—
সে আজো উঠে আসবার চেষ্টা করছে ঘাটে,
তবে কি জলাশয় হয়ে যায় স্বর্গ নরকের মাঝে সেতু,
আমিও তো হতে চেয়েছিলাম ডুবন্ত মানুষ,
এবং সাঁতার দিয়ে উদ্ধারকারী ডুবুরি,
শূন্য স্টেশনে একটি আলো
যা আমাদের চলে যেতে‌ বলে বা থেমে যেতে বলে।