সুদীপ ঘোষালের কবিতা

সুদীপ ঘোষালের কবিতা

সেতু

সুদীপ ঘোষাল

এক একটা দুঃখ কেমন কবিতার ছন্দ হয়ে ধরা দেয়
আমার সহস্র কবিবন্ধুর উন্মুক্ত খোলা মনে

প্রেমের বন্যা এনে দেয়

অই দুঃখগুলো এক একটা বিজয়ের শঙ্খনিনাদ
সাধনায় তাকে কাছে টানলেই জন্ম নেয় স্বপ্ন

তুমি আমি আমরা সবাই রঙিন গোধূলির আলোয় হারিয়ে যাই কোন মায়ায়

এসো বিবাদ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে, মিলনের সেতু গড়ি….

ঘরের মালিক নই

সুদীপ ঘোষাল

আমার ফিরে যাওয়ার শেষঝোলা তৈরি আছে
ভরে নিয়েছি লোভ, লালসা, হিংসার বোঝা
যত আশা, আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন শখের আকাশ ছেড়ে উড়ে যাবে বাবুইপরাণ তার শিল্পবাসার মায়া তার যত ঘাম প্রেম আর ভালোবাসার ক্ষত
সারিয়ে দেবে, নিশ্চিত আলোজগতের প্রলেপ
ঝোলা ভরে গুটিয়ে নিয়েছি মানুষের মনকষ্ট, ঝোলার পাশ পকেটে রেখেছি পৃথিবীর যত ক্লেদ, গ্লানি আর জাতিভেদ প্রথার মত সমস্ত আবর্জনা। ঝোলায় ভরে পার হব ভালোবাসার নৌকায়। আর যেন মন হিংসা, ঘৃণা বাড়িও না।
মানুষের শেষ যাত্রাপথ, দিশা দেয় সাদা খইয়ের সুখ।


ঈশ্বর

সুদীপ ঘোষাল

ঝিঁ ঝিঁ পোকার গানে
আমার শান্ত সন্ধ্যা কাটে
   নিজেকে বড় ছোটো মনে হয়
   নীরব সন্ধ্যার শুকতারার কাছে
আমি নতজানু হই বটগাছের কাছে
   সত্য সুন্দরের আস্বাদন পেলে
   পদ্মের মত হৃদয় কুসুম ফোটে

আমি কখনও ঈশ্বর দেখিনি
মাঠে, ক্ষেতে, কল-কারখানায় কাজ করা
   পাইন গাছের মত উঁচু ভাবনার মানুষ
   শান্ত সমুদ্রের মত সেবাধর্মের গভীরতা
দুহাতে মাটি, কালি মেখে, ঘামে নেয়ে হাসছেন
জীবনের কারিগর, খিদে পেটে প্রশান্ত মুখে
   প্রতিটি দেশের প্রকৃত ঈশ্বর।