
মেয়েটি (অনুগল্প)
সুদীপ ঘোষাল
মেয়েটা মুঠো মুঠো জ্যোৎস্না কুড়িয়ে অপরের মুখমন্ডলে চাঁদ দেখত।
দুই করকমলে তার স্নেহের পরশ রোগীকে অচিরেই সুস্থ করে তুলত। মায়ের মত যত্ন করে সে সেবা করত রোগীদের আর রোগীদের মনে পড়ত মায়ের লাল পলা, ছাপা আঁচল আর করবী বেণীর কথা।
কলকাতার এক ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ছেলের সঙ্গে তার বিয়ের একটা কথা চলছিল।
শিউলি, তাকে বলেছিল যে, সে মেডিকেল কলেজের পড়াটা শেষ করে বিয়ে করবে।
শিউলির বাবা বলে দিয়েছেন পাশ করে চাকরিটা পেলেই তোর বিয়েটা দিয়ে দেব।
শিউলি চাকরি পেলো। দিনরাত এক করে বিভিন্ন ঘৃণার পাহাড় পেরিয়ে সে মানুষের সেবা করে যাচ্ছিল, আর শিরদাঁড়াটা শক্ত করছিল। অমেরুদণ্ডী প্রাণীরা ভয় পেলো।
রাত গভীর হল। হায়নাগুলোর মাঝেই সে সেবাব্রতে নিয়োজিত থাকত। এই শয়তানের দল কিন্তু একদম মানুষের মত দেখতে। সরল, সহজ মেয়েটা বুঝতে পারেনি একথা, সে ভাবত, মানুষ তো, আর যা হোক অমানবিক হবে না নিশ্চয়।
শিউলি টানা কয়েক ঘন্টা কাজ করার পর বিশ্রাম নিতে নিজের ঘরে বিছানায় শুয়ে পড়ল।কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ শিউলি তাকিয়ে দেখল, একজন মহিলা হাসতে হাসতে তার হাত, পা বেঁধে দিল আর মুখ চেপে ধরল আর একজন। কয়েকজন দাঁড়িয়ে, এক পা মাটিতে ঠেকিয়ে, এক পা তার খাটে তুলে তাকে আঘাত করছে। বন্যদৃষ্টির ফাঁদ পেতেছে লোলুপতা। শিউলি চিৎকার করলেও নির্জন ঘরে তার স্বর শোনা গেলো না।
শিউলির বমি পেলো। তার বমির সঙ্গে বেরিয়ে এলো বিপ্লবের চাপ চাপ রক্ত, শিক্ষার আলো আর জাগ্রত বিবেকের অশ্রু। অত্যাচারীরা ভয় পেল শিউলির শিরদাঁড়ার জোর দেখে। তারা আরও নিষ্ঠুর হল।
পরেরদিন সকাল হলে দেখা গেল গতরাতের শিউলি গাছটা ঝড়ের কোপে পড়ে আছে মাটিতে। লাশ হয়ে।