বিজয়া দেবের কবিতা

ও মশাই

বিজয়া দেব

আপনাকে রোজই দেখি মশাই।
বাজারের থলে হাতে গুটি গুটি পায়ে
আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যান।
চোখেমুখে একটা চাপা মধ্যবিত্তসুলভ
উড়ো হাওয়ার ঝাপট লেগে থাকা চাদরের মত।

হ্যাঁ, আমি আপনাকেই দেখি রোজ,
যদিও আপনি আমাকে দেখতে পান না।

উড়ো খইয়ের মত জীবন যাদের,
তাদের মধ্যে শুধু আপনি কেন, আমিও
পড়ি। বাজারে গিয়ে দরদাম করে যা
পছন্দ হয় না, এর একটা আলতো
কলঙ্কের ছাপ সারা দেহে সারাদিন জুড়ে
জড়িয়ে থাকে।

ও মশাই, আপনাকে যা বলছি তা আসলে
আমার আপনারই কথা। জীবন বড্ড
কৃপণ হাতে আমাদের যা দিয়েছে
তার গণ্ডির ভেতর পড়ে থাকাটাই
আমরা ভবিতব্য ভেবে নিয়েছি।

এভাবে তিলতিল করে আসে মৃত্যুর পল।
আমরা ডালে ডালে ঝুলে ঝুলে ক্ষিপ্র
হাতের ব্যবহার করি, জানি হাত ফসকে
গেলেই “প্রপাত ধরণীতলে”।

কিন্তু মশাই, এভাবে ঝুলন্ত জীবনটাকে
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি করার
জন্যে আমরা যে লুকোচুরি খেলি, তার পেছনে
কুয়াশানীল আশা ছাড়া আরও কিছু কি আছে?

কে জানে মশাই! উত্তর খুঁজে খুঁজে ফেরা ছাড়া
আমারও আর কিছু কাজ নেই।

আচ্ছা, এমন করে বেঁচে
থাকার জীবনটাকে নিয়ে দু’দণ্ড লোফালুফি
করার ইচ্ছেটাও কেন মরে গেল বলতে পারেন ?
অথচ আমি আর আপনি ট্রাপিজের খেলা দেখেছি
সার্কাসে, হাততালি দিয়েছি।

আমাদের জন্যে হাততালি দেবার জন্যে
গুটিকয়েক দর্শকও অবশিষ্ট নেই মশাই!
সন্ধ্যাছায়ার বিষণ্ণ পলকা শাখার ছায়া
দেখি আর শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলি।

আপনারও তাই হয়? ও মশাই?