তৈমুর খানের কবিতা

ভাষাহীন আজ

তৈমুর খান

আজ হৃৎপিণ্ড কথা বলতে চাইছে
কিন্তু আশ্চর্য সে কথার কোনও শব্দ নেই
নিষ্পলক চোখ কোনও দূরের দিকে
তাকিয়ে আছে একা
কাকে খুঁজছে ? কাকে ?
কার সঙ্গে তার বহুদিন হয়নিকো দেখা?

অনুভূতি একা একা কাঁদে
ভাষা নেই তার, কোথা পাবে ভাষা?
নীরবতা নিরুত্তর প্রশ্নের কাছে আসে
প্রশ্ন শুধুই ব্যাকুল হয় উদাসীন বিকেলের কাছে
একখণ্ড মেঘ ভেসে গেলে
অলৌকিক ওড়নার গান মনে হয়
সন্ধ্যা নামার ছায়ায় হেসে ওঠে আবছা মুখ
দু-একটা নিশাচর অলক্ষে ফেলে যায় শ্বাস
শূন্য এসে ধরে এই হাত-ধরা হাত
গোলাপি হাতের তালু স্মৃতি এঁকে দেয়
রজনীগন্ধা দেয় অদ্ভুত ঠোঁটের ঘ্রাণ
পিচ্ছিল বেদনার কাছে বসে আনমনে ছুঁয়ে ফেলি এ মাটির বুক

আমার ভাষার শস্য এখনও অধরা
বেলা পড়ে আসে বলে লুকিয়ে রাখি যৌবনের দীপ্র সংরাগ


শুধু বিকেল হয়ে গেছে

তৈমুর খান

ক্ষতগুলি শুকিয়ে যায়নি
শুধু বিকেল হয়ে গেছে
শেষ রশ্মিটুকু ঝরে পড়েছে ক্ষতের উপর
কয়েক ফোঁটা অশ্রুর শুকনো দাগ
সভ্যতার বারান্দায় চিহ্ন হয়ে আছে

পাখিরা চলে গেছে নিজস্ব বাসায়
যদিও সমস্ত বাসা জুড়ে অন্ধকার

আমি শূন্যতা নিয়ে খেলা করি শুধু
সমস্ত যুদ্ধের ইতিহাস কালের আবর্তে ঘুরপাক খায়
সেসব জানে না কেহ
মৈথুন ভরা ঘরে বিরামহীন মদনের শর ছুটে যায়

ক্ষতগুলি স্মৃতির বিস্ময়ে কেবলই নির্বাক হতে থাকে
সভ্যতা বদল করে বাঁক
আলো নিভে এলে কালের সীমানা জুড়ে বিষাদের কাক ডাকে


ছদ্মবেশী

তৈমুর খান

দু-একটি ছদ্মবেশী মেঘ
কখনো কখনো ভেসে আসে মাথার ওপর
তারা বৃষ্টি আনে না, শুধুই বজ্র আনে;
এ মাঠে আমি একা, খুঁজতে থাকি কাকে?
দেখা হয় না কারও সাথেই, সূর্য ঢাকে মেঘে।

আঁধারের আবছা রাক্ষস নামে পথে
আদিম অস্ত্রের মতো আতঙ্ক নাচে;
পিছিয়ে আসি, আবার এগিয়ে যাই
যেতে যেতে থামি;
আমার সহিষ্ণু ইচ্ছাগুলি নষ্ট হয়।

সুড়ঙ্গের কোনও ব্যাকরণ নেই,
অন্ধকারের কোনও ভাষাও থাকে না
নীরবতা এসে আমাকে বোঝায়—
তবু কি বুঝি না আমি?
বিশ্বাস হারিয়ে গেলে শুধু তাকে খুঁজে ফিরি।

এই অন্ধকারের মুখ মানুষের মতো
এই অন্ধকারের হাত মানুষের হাত
বিজ্ঞাপনেও বেশ উজ্জ্বল চকচকে;
আমার আকাশে তাদের কণ্ঠস্বর
নম্র মেদুর মেঘ হয়ে ছবি আঁকে…

ছবিগুলি সব শিকারি পাখির মতো
                     আমাকেই তাড়া করে!