লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের কবিতা

গোবিন্দ দাদু হাঁটছেন

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল

গোবিন্দ দাদু হাঁটছেন। তার নিশ্বাসের সাথে লাঠি ঠুকবার শব্দ মিশে যাচ্ছে বাতাসে – সাদা সাদা ফতুয়ার সাথে ময়লা ধুতির খুঁট গায়ে আঁকাবাঁকা ছায়ার নিচে এগিয়ে যাচ্ছেন আরও দীর্ঘদিন, এই বাকল পথে আমার পায়ে উঠতে থাকে কালো পিঁপড়ের সারি – অনন্ত আর বিধুকাকার ভিটেগড়ার উৎসব দেখছে আকাশ – কোনো বিপরীত কাজ নেই

কাশগুচ্ছের থেকে দূরত্ব বাড়ছে ক্রমশ

যত দিন যাচ্ছে ধস নামছে রাস্তায়। আস্ত পুটলির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে শাড়ির লাল পাড়। দুখুর রেড়িও থেকে ছুটে আসে সুর — আর একলা বাতাসের তীব্রতাগুলি খুবই শীতার্ত – কাঁটা বাঁশঝাড়ে জড়িয়ে থাকা চিতিসাপের গায়ে মরা পাখির পালক, গমনকাল ছাড়িয়েও কিভাবে টিকে আছে সেই ঘর

এই মেঘের বাষ্পায়নে আমি কেবল অশোকের নিচে দাঁড়াই


নিরীহ চোখের ফাটল

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল

ভরদুপুরে পা ছড়িয়ে বসে আছে মেয়েটি। তার কথার দিকে তাকতেই দূরত্বটা বেড়ে গেল হঠাৎ। ফাঁকা ডালের রিপুতে একচল্লিশ ডিগ্রি তাপ, আমি কচুপাতার নিচে কিছু বিষ পোকার আলাপ দেখছি। বেঁচে আছে তারা আমার নিরীহ চোখের ফাটল নিয়ে — দরজার দিকে সে তীব্র আলো — ভেদ করে রাধা কোম্পানির শাড়ি, এগিয়ে যায় সুতোর গন্ধ — নতুন পুরাতন দেশজ মূল্যবানে

আমার টান অনেক দিনের। সঠিক বলতে পারব না কবে বীজ কুড়িয়ে ছিলাম। এ ধরায় সবই তো কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনা, অথচ তা নিয়েই যত আমিত্ব ফলানো। বাতাস অবশ্যই নাড়াতে পারবে গর্ভাশয়

যতই গরম পড়ুক যতই চৈত্র সেল দিক শ্রীকৃষ্ণ বস্ত্রালয়, আমি ঝোপের দিকে তাকিয়ে থাকব — আর পাখিরা ঝটপট করবে