হামিদুল ইসলামের কবিতা

লাশ পোড়া গন্ধ

হামিদুল ইসলাম

একাকী দাঁড়িয়ে আছি দরজায়
রোদের উঠোন ঢেকে যায় দুচোখের আলোয়
ঘরের ভেতর ঘর

সাড়া নেই

দুচোখে উঠোন মাড়াই
রোদ মুঠোয় নিয়ে ফিরে আসি। দরজা বন্ধ।

সাড়া নেই

পোস্ট অফিসের রানারের মতো ডাক দিয়ে যাই
কথা আছে কথা আছে
বারবার হাঁক দিই। সাড়া মেলে না

দরজা বন্ধ ভেতর থেকেই

হঠাৎ কে যেনো দরজা খুলে দেয়
ভেতরে ঢুকি। মানুষ নেই

শ’ শ’ কঙ্কাল

লাশ পোড়ে। লাশ পোড়ার গন্ধ পাই

ছায়ামানুষ

হামিদুল ইসলাম

নিবিড় জলের ছায়া খুঁজি রোজ
ছায়া ছায়া মানুষ। মানুষকাব্য। কাব্যমানুষ

মানুষে ভরে যায় ছায়া
ছায়ায় ছায়ায় ভরে যায় মানুষ
মুখ ও মুখোশ পাশাপাশি

যারা এসেছিলো তারা ফিরে গেছে
যারা ফিরে গেছে তারা এখানে আসেনি
তবু তাদের কথা ভাবি
বিষম খাই

আদতে আমরা সবাই মানুষ
আদতে আমরা মানুষের মতোই ছায়ামানুষ
আমাদের ঠিকানা নেই


ইতিহাসবিদ

হামিদুল ইসলাম

নতুন ইতিহাসের পদধ্বনি শুনি
দিন বদলের ডাক শুনি
নতুন ইতিহাসবিদ দিনরাত লেখেন ইতিহাস

দুচোখ ঠেকে যায় সেদিকেই
ভাবনারা আটকে যায়। নতুন ভাবনায় হাবুডুবু খাই

সাঁতার জানি না
তবু সাঁতরে পেরিয়ে যেতে চাই এই সমাজ
কবর থেকে টেনে তুলি প্রাচীন ইতিহাস। প্রত্নদিন

প্রাচীন ইতিহাসবিদরা ঘুমিয়ে আছেন
পাশে কারুকাজ করা দিন

পালাতে গিয়ে আটকে যাই
দেখি স্বপ্নের মতো দাঁড়িয়ে আছে নয়া ইতিহাসবিদ
ওঁদের হাতে বিকৃত ইতিহাস