দেবারতি দের কবিতা
শ্রমের স্তাবক দেবারতি দে প্রতিদিন তোমার মোজা পালটানো দেখি আর বর্ণনাধর্মী রোদের কাঁধে মেলে দিই একজোড়া শ্রমের স্তাবক। উপেক্ষিত প্রতিজ্ঞা দেবারতি দে উপেক্ষিত প্রতিজ্ঞা বড় মাধুরীময় হয় তাই বিবাহ মন্ত্রে দীক্ষিত হয় বেদনার কাছে।
শ্রমের স্তাবক দেবারতি দে প্রতিদিন তোমার মোজা পালটানো দেখি আর বর্ণনাধর্মী রোদের কাঁধে মেলে দিই একজোড়া শ্রমের স্তাবক। উপেক্ষিত প্রতিজ্ঞা দেবারতি দে উপেক্ষিত প্রতিজ্ঞা বড় মাধুরীময় হয় তাই বিবাহ মন্ত্রে দীক্ষিত হয় বেদনার কাছে।
মধ্যবিত্ত নম্বর রণজিৎ রায় নদী চিরকাল বাঁকা পথের পথিক সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে একদিকে ভাঙে অন্যদিকে গড়ে অদ্ভুত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সময়ে কত কী রূপ বদলে বহুরূপী প্রবীণদের দীর্ঘশ্বাসে উচ্চারিত হায়রে যুগের ধর্ম! দ্রব্যমূল্য কখনো দাঁড়িয়ে না থেকে রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে থাকে মানুষের যন্ত্রণা ভ্রূক্ষেপ করে না সময়ের মতো বেপরোয়া গতিতে দৌড়ে চলে। আমাদের সময়ে পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর সেন্টিগ্রড মাত্রার মতো সীমিত…
কে লিখে দেয় শুভেশ চৌধুরী এক কে লিখে দেয় মা লিখে দেন তার সদানন্দ আমিটি লিখে দেয় কেন কিছুই তাকে গ্রাস করে না আনন্দ — বেদনায় কেন তার ভাষা পার্থক্য রচে না কোন বিভেদের সাথে ক্ষোভ কেন তার নেই কালস্রোতে তার রচনা সুন্দরের প্রকাশ করে জীবনের শূন্য ডেকচিতে আবার চাল দেয় ভাত ফোটে তুমি মা স্বপ্নচারী চোখের কোণে তাই ইশারা লেখ বালক কবি লেখ তোমার কবিতা দুই দেহে আগুন মনে আগুন ছাই থেকে জেগে ওঠে পাখি ফিনিক্স দেখিয়া তুমি…
হারপুন সুবিনয় দাশ তপ্তভূমি দীর্ঘশ্বাস, মাঠ কই শুধুই ঘাস, ময়ূর, হাঁস সরোবর ঘুমের শহর, উদাসীন পাগল, দেশ ডোবা পুকুর, বাতিল অফিস ট্যুর লুটপাট মরণ কামড়, ঝড়, জিন, জোমেটু পরীদঙ্গল, ক্ষয়ক্ষতি হারপুন একহাত সুবিনয় দাস খবরদার চোরাচালান, রুটির পাশে গোলাল শোকের মুখে মায়াকান্না, একহাত তাস হয়ে যাক, ছাইরং লেভেল ক্রসিং সমালোচক, একচোখা পুরোহিত, পেয়াদা নিন্দায় ভরানো সংসার, মাঝিগিরি মাঝ দরিয়ায়, লম্বাদুল ক্ষীণকটি, বাহুমূল, পরনে জিনস্ কৌতূহল সুবিনয় দাশ হিংসা, ছড়িয়ে ছিটিয়ে, কৌতূহল প্রতিযোগিতা, শার্ট, ট্রাউজার, বর্ণপরিচয় ইস্কুল কলেজ, ছুটির ঘন্টা,…
কালিপদ অঞ্জলি দে নন্দী পোষা কালিপদ বৃদ্ধ হয়েছে উঠোনের কোণে পড়ে আছে হাঁটতে পারে না সে আর গায়ের কালো লোমগুলোও কমেছে দেহ হাড় কঙ্কালসার পাড়ার আরেক পোষা কুকুর বাঘা। কালিপদের কাছে অনেক কুকুর সবাই কালিপদকে দেখে রাখে হঠাৎ বাঘা দৌড় দিল সব কুকুর তার পিছু নিল অনুসরণ করল থামল ভাগাড়ে এসে সবাই। এক মরা গরুর মাংস বাঘা মুখে নিল, ওকে দেখে সবাই তাই করল। ফের দৌড়ল সবাই। তারপর কালিপদের মুখের কাছে সবাই রাখল কালিপদ সবার বয়ে নিয়ে আসা সেইসব…
দাম্পত্য পর্যায় যশোধরা রায়চৌধুরী হঠাৎ রাগের ফেটে পড়া। সারাদিন কেটেছে সুসার সারাদিন ধন্য হয়ে আছি সারাদিন কর্মময় খুব কত কত সূর্যালোক স্নাত জলের ছলচ্ছল ঢেউ নেওয়া সুরেলা ভাবনা শয়নকক্ষের মায়া, সাদা বিছানার মায়া জাগে সুস্নাত পায়ের কাছে রাখা আছে সুন্দর পাদুকা মনে হয় জীবন সুস্বাদু এক পানপাত্র যেন হঠাৎ রাগের ফেটে পড়া দাম্পত্যে হঠাৎ বিকট এক অযাচিত অমঙ্গল যেন লালচোখ বিগ্রহ বিশাল উঠে আসে শয্যাসুখ ফুঁড়ে দৈত্যাকার রাগের ঝলসে জীবন অধন্য হয়, জীবন বিপর্যস্ত হয় তাসের ঘরের মত খসে…
চিত্রপটে রাজকুমারী সুজিত বসু কখনো আসে আনন্দ আর কখনো ঘন শোক কখনো সুখের শ্রাবণধারা, দুঃখে কড়া রোদ কখনো জ্বলে নিয়নবাতি, কখনো চন্দ্রালোক দুর্গ ভাঙে সেনানী ছয়, লুপ্ত প্রতিরোধ বৃথাই আমি একাকী লড়ি, বৃথাই ছুঁড়ি তীর আকাশ ভরে ভস্মমেঘে, ঝিলিক দেয় আশা ক্ষণিক সুখে মগ্ন, ভুলি ছলনা অশনির দস্যু ছয়ের অস্ত্রাঘাতে ছিন্ন ভালোবাসা জানি না কেন তবুও করি অলীক আয়োজন ভেনাস দেবী আরাধনার, নৌকো কেন জলে ভাসাই যাতে আসবে কেউ একান্ত গোপন অভিসারের ঘোমটা পরে নীরব কৌতূহলে টুকরো এই স্বপ্ন…
তাগিদ, ভেতরে তাগিদ অজিতা চৌধুরী আয়নায় দেখে গোল্লাছুট খেলা, দুরন্ত দুপুর হেঁটে যেতে একটু ছোঁয়া সামনে যেতে হোঁচট খাওয়া ছোট ছোট সময় স্বজন বন্ধুরা স্থির চিত্র তাগিদ এখনও সময় ঘুরিয়ে আয়নায় দেখি।
তর্পণ স্বর্ভানু সান্যাল কতকাল হল দাহটির পাশে বসে আছি চুপ করে প্রহর গড়ালো সন্ধ্যা নামছে এই প্রাচীন শহরে সম্পর্কের ভারে মাটি ডুবে আছে হতঃশ্বাস অশুচির মত রক্তে ও হাড়ে লেগে আছে পুরাতন। বিধিসম্মত। সূর্যাস্তের কালে এই সব গাঢ় রক্তিম ধরি চোখের তারায় রাত্রি পোহালে আসবে ন হন্যতে ক্ষীণকায় অদৃশ্য প্রায় তৃষিত হৃদয় বসে থাকে সেই আশে অতৃপ্তের মত রিক্ত অপচয় জেগে থাকে প্রাণে। সম্পর্কের ক্ষত। সে যে বড় ছিল কাছে…সে যে বড় আপনার জন কোন মন্ত্রে বলো কবি আমি…
খোঁজ মলয় মজুমদার নধর দুপুরের রোদ, ছায়াহীন মেঘের আশেপাশে তোমাকেই খুঁজে ফেরে অনেক পুরুষ। ভাঙা, শব্দহীন আকাশের পাশে একা তুমি, তোমাকেই খুঁজি আমি ভিড়রাতে তোমার কালো ভরাট শরীর, নদীও তোমার কাছে হেরে গেছে কয়েক যুগ, তারপরই তো আমি এলাম, হেরে যাবার জন্যে প্রতিবারের মতো। তুমি দেখালে তোমার বাড়ির যাতায়াতের পথ, তোমার স্কুল, বালিকার ফ্রক দুটো গলি পার করলেই পাবো তোমার ঠিকানা। আজ আঠাশ বছর আট মাস তেরদিন, হারিয়ে ফেলা মোবাইলটা আর কথা শোনে না। কথা বলে না কাগজ পেন্সিল,…