ভারতের বরফকুচির হিলস্টেশন

ভারতের বরফকুচির হিলস্টেশন

সদানন্দ সিংহ

 

 

হিমাচল প্রদেশের সোলং উপত্যকা

হিমাচল প্রদেশের সোলং উপত্যকা বিয়াস কুন্ড এবং সোলং গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত এবং মানালি থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে। উপত্যকাটি তুষারময় পাহাড় এবং হিমবাহ দ্বারা আবৃত। সোলং-এ আপনি বছরের বেশির ভাগ সময় প্যারাগ্লাইডিং, কোয়াড বাইক চালানো, রোপওয়ে, ঘোড়ায় চড়া এবং প্যারাশুটিং এর মতো কার্যকলাপ করতেই পারেন। নিকটতম রেলস্টেশন হ’ল যোগিন্দার নগর রেলস্টেশন, যা উপত্যকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কুল্লু মানালি বিমানবন্দরটি সোলং উপত্যকার নিকটতম বিমানবন্দর। এটি উপত্যকা থেকে ৬৩ কিলোমিটার দূরে । এখানে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করার সেরা সময় এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। স্কীয়িং করতে গেলে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আসা ভাল। গ্রেট হিমালয়ান জাতীয় উদ্যান, কোঠি এবং রোহতাং পথ ইত্যাদি হল কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান।


মানালি

হিমাচল প্রদেশের মানালি

উত্তর ভারতে গ্রীষ্মের জন্য মানালি হল ছুটির একটি আদর্শ গন্তব্য। এই হিল স্টেশনে বিভিন্ন মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এটি মধুচন্দ্রিমার জন্য ভারতের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি। এখানে আপনি কাছাকাছি রক ক্লাইম্বিং, আইস ক্লাইম্বিং এবং স্কি ট্যুরিং সুবিধাগুলি করে আপনার ছুটি উপভোগ করতে পারেন। নিকটতম রেলস্টেশন হ’ল যোগিন্দার নগর রেল স্টেশন, যা মানালি থেকে ১৪৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কুল্লু মানালি বিমানবন্দরটি মানালির নিকটতম বিমানবন্দর। এটি মানালি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে । উপভোগ করার সেরা সময় এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। স্কীয়িংইয়ের মজা নিতে গেলে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আসা ভাল।
কাছাকাছি দেখার জায়গা হল ভৃগু লেক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। গ্রেট হিমালয়ান জাতীয় উদ্যান, ১৮০টিরও বেশি প্রজাতির জীবজন্তু এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল, অন্যদিকে মানালি অভয়ারণ্য হল এমন একটি স্থান, যেখানে কস্তুরী মৃগ, চিতাবাঘ ও স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতাকে দেখা যায়। ঘন দেবদারু, আখরোট ও ম্যাপল বৃক্ষের অরণ্যের মধ্যে দিয়ে পদচারণা যে-কাউকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে।


নারকান্দা

হিমাচল প্রদেশের নারকান্দা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, নারকান্দাকে হিমাচল প্রদেশের আপেল বাগানের সান্নিধ্যের জন্য আপেল দেশের প্রবেশদ্বার বলা হয়। নারকান্দাতে ঘুরতে গেলে আপনি বিভিন্ন শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য এবং মনোরম স্থান দেখতে পাবেন। সিমলা থেকে নারকান্দার দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। নিকটবর্তী রেলস্টেশানের দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার এবং বিমানবন্দরের দূরত্ব ৮৮ কিলোমিটার। প্রতিবছর হিমাচলপ্রদেশ ট্যুরিজমের পক্ষ থেকে এখানে স্কীয়িং কোর্সের আয়োজন করা হয়। কাছাকাছি দেখার জায়গা হচ্ছে হাটু পিক, কাচেরি, কোটাগড় ও থানেদার এবং জাল্লোরি পাস। কালকা থেকে সিমলার রেলপথের দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার। দিল্লি থেকে সড়কপথে সিমলার দূরত্ব ৩৫৫কিলোমিটার।

কুফরি

হিমাচল প্রদেশের কুফরি

কুফরি সমুদ্রৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫১০ মিটার উপরে অবস্থিত। কুফরি হল হিমাচল প্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় হিল স্টেশন। সিমলা থেকে ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত এই হিল স্টেশনটি অগণিত পর্যটকদের আকর্ষণ করে। জায়গাটিতে কিছু মনোরম দৃশ্য রয়েছে, যা আপনাকে শিথিল করতে সাহায্য করবে। কুফরির প্রধান আকর্ষণ হল ‘হিমালয়ান ওয়াইল্ডলাইফ জু’ যা হিমালয় বন্যপ্রাণী এবং ভাল্লুক, তুষার চিতা, কস্তুরী হরিণ, হরিণ, হিমালয় মোনাল, ফিজ্যান্ট এবং তুষার মোরগ সহ বেশ কয়েকটি হিমালয়ের বন্যপ্রাণী এবং পাখির প্রজাতির আবাসস্থল। কাছাকাছি দেখার জায়গা – মাহাশৃ শৃঙ্গ, ইন্দিরা ট্যুরিস্ট পার্ক, কুফরি ফান ওয়ার্ল্ড, গ্রেট হিমালয়ান জাতীয় উদ্যান, ফাগু ইত্যাদি।


আউলি

উত্তরাখণ্ডের আউলি

আপনি এই সুন্দর জায়গার অপূর্ব দৃশ্য দেখার জন্যে একবার ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে লম্বা লম্বা তুষারময় শিখরগুলির পটভূমিতে আলপাইন চূড়া এবং সবুজ গাছপালা এবং তুষার আচ্ছাদিত উপত্যকার মনোরম দৃশ্য দেখার মতো। নিকটবর্তী রেলস্টেশান হচ্ছে হৃষিকেশ, দূরত্ব ২৫৫ কিলোমিটার। নিকটবর্তী বিমানবন্দর দেরাদুনের জলি গ্র্যান্ড বিমানবন্দর, দূরত্ব ২৮৬ কিলোমিটার। সড়কপথে হৃষিকেশ থেকে যোশীমঠ অনেক বাস যায়। যোশীমঠ থেকে আউলির দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। ট্রেকিং করার জন্য আদর্শ স্থান এই আউলি। আউলি থেকে ট্রেকিং করে নন্দাদেবী, কামাট, মানা পর্বত, দোনাগিরি ইত্যাদি পাহাড়ে ওঠা যায়। স্কীয়িংযের আনন্দ নিতে গেলে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে আসতে হয়।


পহেলগাঁও

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও

শ্রীনগর থেকে ৯৬ কিমি দূরে ‘প্রথম গ্রাম’ বা ‘পহেলাগাঁও’ থেকেই পহেলগাঁও। পহেলগাঁও জম্মু ও কাশ্মীরের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। আপনি গ্রীষ্মকালে এখানে একটা সতেজ সময় কাটাতে পারেন, কারণ এটি সূক্ষ্ম তুষারে আচ্ছাদিত এবং পহেলগাঁওয়ের পিছনে লম্বা পাইন বন এবং হিমালয় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত। পহলগাম, মেষপালকের উপত্যকা নামেও পরিচিত। ফার, পাইন, উইলো, চিনার গাছের প্রাকৃতিক পরিবেশ, অন্যদিকে বরফমোড়া পাহাড়, ছবির মতো বাড়ি, রঙীন বাহারি বাগিচা – সব মিলিয়ে যেন ভূস্বর্গ। কাছাকাছি দেখার জায়গা হল বেতাব ভ্যালি, লিডার নদী, আরু ভ্যালি, গলফ কোর্স এবং শেষনাগ লেক। শ্রীনগর থেকে পহেলগাঁওয়ের দূরত্ব ৯৪ কিলোমিটার। কাছের বিমানবন্দর হল শ্রীনগর ইন্টারন্যাশানাল বিমানবন্দর, কাছের রেলস্টেশান হচ্ছে উধমপুর, দূরত্ব পহেলগাঁও থেকে ২১৭ কিলোমিটার।


গুলমার্গ

জম্মু ও কাশ্মীরের গুলমার্গ

আপনি যদি এক উত্তেজনাপূর্ণ স্নো স্পোর্টসের মাধ্যমে ছুটি কাটাতে চান তাহলে গুলমার্গে আপনি ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। তাছাড়া হানিমুনারদের জন্যেও এটি আদর্শ স্থান। এটি ভারতের অন্যতম মনোরম স্থান। এই হিল স্টেশনটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্যও উপযুক্ত জায়গা যারা ট্যুরে এসে নতুন কার্যকলাপ শেখার চেষ্টা করতে চান। নিকটবর্তী রেলস্টেশান জম্মু, দূরত্ব ৩১৫ কিলোমিটার। নিকটবর্তী বিমানবন্দর শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেখান থেকে কোনো ক্যাবে গুলমার্গ যেতে সময় লাগে দেড় ঘন্টার মতো। সড়কপথে শ্রীনগর থেকে দূরত্ব ৫১ কিলোমিটার।

বোমডিলা

অরুণাচল প্রদেশের বোমডিলা

সমুদ্রপৃষ্ঠা থেকে বোমডিলার উচ্চতা ৭২৭৩ ফুট। Bhalukpong থেকে বোমডিলার দূরত্ব ১০৯ কিলোমিটার। বোমডিলা থেকে কংটো এবং গরিচেন শৃঙ্গ, যা রাজ্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, তার বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলিও দেখতে পাবেন । বরফে ঢাকা হিমালয় পর্বতশ্রেণী, গর্ব করার মতো সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। বোমডিলা অরুণাচল প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। হিমালয়ের বরফে আবৃত পর্বতশ্রেণীর দর্শনীয় ফটোগ্রাফিক দৃশ্যে আপনি মোহিত না হয়ে পারবেন না। প্রকৃতির নির্যাসকে বৈচিত্র্যময় রূপে উপভোগ করার জন্য, আপনি বোমডিলার চেয়ে ভাল জায়গার কথা ভাবতে পারবেন না। এখানকার কারুশিল্প কেন্দ্র, মঠ, নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর এবং এম্পোরিয়াম ইত্যাদি দেখার মতো। বোমডিলা মঠটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। বোমডিলা আপেল বাগানের জন্য বিখ্যাত। এখানে আসতে গেলে ইনার লাইন পারমিট দরকার। ইনার লাইন পারমিট আপনি অনলাইন অ্যাপ্লাই করতে পারবেন এই লিংকেঃ https://arunachaltourism.com/ilp/  আর বিদেশিদের জন্যে লাগে প্রোটেকটেড এরিয়া পারমিট যার খোঁজখবর পাওয়া যাবে এই লিংকেঃ https://arunachaltourism.com/protected-area-permit/
তবে এখানে সাধারণত শীতকালেই তুষারপাত হয়। তুষারপাত দেখতে গেলে শীতকালেই এখানে আসতে হবে। নিকটবর্তী বিমানবন্দর তেজপুর এয়ারপোর্ট, দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার। নিকটবর্তী রেলস্টেশান রঙ্গাপাড়া, দূরত্ব ১৪৫ কিলোমিটার। সড়কপথে গুয়াহাটি থেকে দূরত্ব ৩৩০ কিলোমিটার।


তাওয়াং

অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং

বোমডিলা থেকে তাওয়াং-এর দূরত্ব প্রায় ১৭৭ কিলোমিটার। সড়কপথে বাস গাড়িতে সময় প্রায় ৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট। তাওয়াং তুষার-পরিহিত হিমালয় পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এবং নির্মল বাতাসের প্রাকৃতিক প্যানোরামায় আশীর্বাদপ্রাপ্ত। তাওয়াং উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি পর্যটন স্থান যেখানে বিশেষ পরিচিতি  দেবার আর প্রয়োজন নেই। হ্যামলেটের উদ্দীপক আভা এবং অপরিসীম প্রশান্তি দিয়ে সমস্ত উদ্বেগ এবং উত্তেজনা থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে যে-কাউকেই পুনরুজ্জীবিত এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। তাওয়াং নিঃসন্দেহে এক সৌন্দর্য সন্ধানীর স্বর্গ, এটি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্যও স্বর্গ। ট্রেকিং এবং হাইকিং থেকে শুরু করে মাউন্টেন বাইকিং এবং ওয়াইল্ড লাইফ স্পটিং পর্যন্ত ছোট্ট গ্রামে প্রচুর অ্যাডভেঞ্চার অফার নিয়ে এটি সত্যিই অরুণাচল প্রদেশের সেরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি। এখানেও ইনার লাইন পারমিট দরকার যা বের করা খুবই সহজ (বোমডিলার বিবরণ দেখুন)।

মেচুকা

অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থকে ৬০০০ ফুট উঁচু মেচুকার নিকটবর্তী বিমানবন্দর হচ্ছে আসামের ডিব্রুগড়, ওখান থেকে মেচুকার দূরত্ব ৪৩৬ কিলোমিটার। মেচুকা যাওয়ার জন্যে আলাং আসতে হবে। আলাং থেকে মেচুকা যেতে গাড়িতে ৮ ঘন্টার মতো লাগে। ট্রেনে আসতে গেলে গুয়াহাটি থেকে লাচিত এক্সপ্রেস ধরে শিলাপাথার স্টেশনে আসতে হবে, সময় লাগবে ৯.৩০ ঘন্টা। সেখান থেকে আলাং শেয়ার ট্যাক্সিতে যেতে সময় লাগবে ৬ ঘন্টা। মেচুকা থেকে চিনের সীমান্ত ২৯ কিলোমিটার। ডিসেম্বর থেকে সাধারণত তুষারপাত শুরু হয় এখানে। তাই বরফ নিয়ে খেলতে গেলে এইসময় আসা ভালো। শীত এড়াতে চাইলে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসতে পারেন। থাকার জায়গা নিয়ে একটু সমস্যা হতে পারে যদি না আগে থেকে বুক করে যান। বুক করার জন্যে সরকারি ওয়েবসাইট ভিজিট করুনঃ https://arunachaltourism.com/ । মেচুকা উপত্যকা বছরের বেশিরভাগ সময় সবুজ উপত্যকা হওয়ার পরেও, শীতের মৌসুমে মেচুকা উপত্যকার প্রকৃত সৌন্দর্য ফ্রেমে চলে আসে, যখন ছাদগুলি বরফে ঢেকে যায় এবং জানালার কাচগুলি বরফের পাতলা স্তরে শোভিত হয়। শীতপ্রেমীদের জন্য এই জায়গাটি কোন আশ্রয়ের চেয়ে কম নয়। একবার মেচুকা উপত্যকার ভূমিতে পা রাখলে, আপনি অবশ্যই এর সাদা সৌন্দর্যে বিমোহিত না হয়ে পারবেন না। ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় ফেস্টিভ্যাল চলে কয়েক সপ্তাহ। ইনার লাইন পারমিটের জন্যে বোমডিলার বিবরণ দেখুন।

নাথুলা পাস

সিকিমের নাথুলা পাস

নাথুলা পাস সিকিম-তিব্বত Old Silk Route-এ অবস্থিত। যদিও বহু পুরোনো এই রাস্তাটি দিয়ে সংযোগ চিনের তিব্বত আগ্রাসনের পর থেকে sealed হয়ে ছিল চার দশক ধরে। পরে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উদ্যোগে কথাবার্তার ফলে ২০০৬ সালে আবার রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়। এখন এই রাস্তাটি বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত। নাথুলা পাস সমুদ্র লেভেল থেকে ১৪৪৫০ ফুট ওপরে। যারা বেশি শ্বাসকষ্টে ভুগেন তাদের হয়তো একটু অসুবিধে হতে পারে তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে আসা দরকার। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে গাড়িতে করে খুব সহজেই এখানে আসা যায়। এখানে আসতে পারমিশান নিতে হয় যা খুব সহজেই ট্র্যাভেল কোম্পানি সংগ্রহ করে দেয়। খুব ভোরে ট্র্যাভেল কোম্পানির গাড়িগুলি নাথুলা পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, আবার সন্ধ্যার দিকে গ্যাংটকে ফিরে আসে। শীতে বেশি তুষারপাত হলে অনেকসময় রাস্তায় বরফ জমে পর্যটকরা আটকে পড়েন, এইসময় টেম্পারেচার মাইনাস পঁচিশ ডিগ্রিতেও নেমে যায়। তাই বরফ দেখার জন্য শীতের শুরুতে বা শেষে এখানে এলেই ভাল হয়।

কাটাও

সিকিমের কাটাও

কাটাও গ্যাংটক থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি তাই এই জায়গাটি দেখার জন্য আপনার সেনা কর্মকর্তাদের অনুমতির প্রয়োজন হবে। কাটাও সিকিমের তুষারপাত পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। সবচেয়ে কাছের শহর হল লাচুং, দূরত্ব মাত্র ৭৪ কিলোমিটার। লাচুং-এ থেকে কাটাও ভ্রমণ করাই সুবিধাজনক। গ্যাংটক থেকে লাচুং-এর দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটারের মত, জার্নিতে সময় লাগে ৪ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা। কাটাওয়ের ঢালু জায়গাগুলি পপি, রোডোডেনড্রন এবং প্রিমুলার মতো গাছ এবং গুল্মে ভরা, তাদের বেশিরভাগই আবার তুষারাবৃত যা আমাদের চোখের কাছে এ্যাতো দৃষ্টিনন্দন যে সহজে ছেড়ে আসতে মন চায় না। বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ গাছপালা, জলপ্রপাত নিয়ে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য কাটাওকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সুইজারল্যাণ্ড নামে ডাকা হয়। স্নোবোর্ডিং, স্কিইং, স্টোন গ্রাইন্ডিং থেকে শুরু করে স্নো টিউবিং পর্যন্ত অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করার জন্য এখানে প্রচুর আয়োজন রয়েছে।

লাচুং

সিকিমের লাচুং

সমুদ্র লেভেল থেকে লাচুং ৯৬০০ ফুট উঁচু। গ্যাংটক থেকে ৪ ঘন্টার উপর সময় লাগে জার্নিতে। টেম্পারেচার  (-)৫ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকে। সুন্দর জলধারা, প্রাচীন জলপ্রপাত, উঁচু তুষারময় পাহাড়, পীচের প্রাকৃতিক বাগান, আপেল এবং এপ্রিকট, আল্পাইন উপত্যকায় ট্রেকিংয়ের ট্রেইল, পরাবাস্তব তিব্বতীয় মঠ, সুপার মজাদার ইয়াক রাইড এবং সবচেয়ে সুন্দর গুরুদংমার লেক আপনার ইন্দ্রিয়কে মোহিত করবে। এখান থেকেই আপনি য়ুমথাং এবং কাটাও ঘুরে আবার লাচুং ফিরে আসতে পারবেন।

সান্দাকফু

দার্জিলিংয়ের (পশ্চিম বঙ্গ) সান্দাকফু

দার্জিলিং থেকে সান্দাকফুর দূরত্ব মাত্র ৫৮ কিলোমিটার। দার্জিলিংয়ের সব জায়গায় বরফ না পড়লেও শীতকালে সান্দাকফুতে তুষারপাত হয়। সমুদ্র লেভেল থেকে সান্দাকফু ১১৯২৯ ফুট উঁচু। বর্তমানে মানেভঞ্জন থেকে গাইরিবাস নামক স্থান পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রুটটি আংশিকভাবে টার্মাক এবং আংশিকভাবে কংক্রিট দিয়ে পাকা করা হয়েছে। শেষ ১২ কিলোমিটার এবং সান্দাকফু থেকে ফালুত পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার একই রয়ে গেছে। বয়স্ক এবং সাধারণ লোকের পক্ষে বরফের বিপদজনক রাস্তায় চলাচল একটু কঠিন। সাধারণত ট্রেকিং করার জন্যেই লোক সান্দাকফুতে যায়। বর্তমানে সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান এলাকায় কোন বাইক এবং কোন ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলের অনুমতি নেই।