পনের মিনিটের রেসিপি

পনের মিনিটের রেসিপি

স্বাতী ধর, সংগ্রাহকঃ ফীড মিডিয়া

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত এই জীবনে আমাদের অনেক কিছুই যেন বাকি থেকে যায়। খাওয়া-দাওয়াও হয়ে যায় টুকটাক। বাড়ি ফিরেও বাড়তি কিছু করতে ইচ্ছে হয় না। বেশির ভাগ সময়ই হয়তো বাইরের খাবার খেয়ে কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় যদি নিজেই চটপ্ট ১৫ মিনিটে একটা খাবার বানিয়ে ফেলতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এইরকম নিজে বানানো যায় কিছু খাবারের সন্ধান রইল এখানে। তাড়াতাড়ি সেরে ফেলা যাবে রান্না। আর খেতেও হবে সুস্বাদু। আর তা একটা পাত্রের মধ্যেই বানিয়ে ফেলা যাবে এই সব পদ। দেখে নেওয়া যাক, এমন ওয়ান-পট রেসিপিগুলো।

ভেজ পোলাও

অত্যন্ত সুস্বাদু আর উপাদেয় একটি নিরামিষ খাবার ভেজিটেবল পোলাও বা ভেজ পোলাও। রকমারি সবজি দিয়ে তৈরি এই খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকরও বটে। বানানোও অত্যন্ত সহজ আর রান্নাতেও বেশি সময় লাগবে না। সাইড ডিশ দিয়ে উপভোগ করা যেতে পারে। আবার এমনিও খাওয়া যেতে পারে। দেখে নেওয়া যাক, সেই রেসিপি।
একটি প্রেসার কুকারে ২ চা-চামচ তেল গরম করে নিতে হবে।
এ-বার তাতে ১টা তেজপাতা, ১ ইঞ্চি দারচিনি, ৪টি লবঙ্গ, ৪টি গোলমরিচ এবং ১ চা-চামচ গোটা জিরে ফোড়ন দিতে হবে।
ফোড়নটা কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করে হালকা ঘ্রাণ বেরোলে তাতে ২টো পেঁয়াজ কুচিয়ে যোগ করতে হবে। পেঁয়াজ কুচিটা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিতে হবে।
এর পর ১ টেবিল-চামচ আদা-রসুন বাটা যোগ করে কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত নাড়াচাড়া করতে হবে।
ভাল করে ভাজা হলে একটা টম্যাটো মিহি করে কুচিয়ে নিয়ে ভাজা হওয়ার মশলাটার মধ্যে যোগ করতে হবে। মশলায় টম্যাটো মিশে না-যাওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
এর পর আধ চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চা-চামচ শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, ১ চা-চামচ ধনে গুঁড়ো এবং স্বাদ মতো লবণ দিতে হবে।
এ-বার এর মধ্যে কাটা সবজি যোগ করার পালা। ২টো আলু ডুমো ডুমো করে কাটা, আধ কাপ মটরশুঁটি, আধ কাপ ফুলকপি, আধ কাপ কুচোনো বিনস এবং ১টি গাজরের কুচি যোগ করতে হবে।
এ-বার প্রেসার কুকারে ২ কাপ জল যোগ করে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে।
এর পর প্রেসার কুকারের ঢাকনা আটকে দিয়ে ২টি হুইসল দিয়ে নিতে হবে। তার পর ওভেন বন্ধ করে দিতে হবে। প্রেসার বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ-বার তা পাতে ঢেলে পোলাওয়ের উপর ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে সাজিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করতে হবে।

ভেজিটেবল সিমাই বা ভার্মিসেলি:

সাধারণত আমরা সিমাইয়ের পায়েসই খেয়ে থাকি। তবে নানা ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি সিমাই-ও কিন্তু অতীব উপাদেয়। ট্রাই করতেই পারি আমরা পুষ্টিকর এবং উপাদেয় এই খাবার। দেখে নেওয়া যাক, মশলাদার ঝাল-ঝাল ভেজ সিমাইয়ের রেসিপি।
প্রেসার কুকারে ২ টেবিল-চামচ তেল গরম করে নিতে হবে।
এর পর তাতে ১ চা-চামচ গোটা সর্ষে, ১টা শুকনো লঙ্কা এবং ১০ থেকে ১২টি কারি পাতা ফোড়ন দিতে হবে। ঘ্রাণ বেরোনো পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করতে হবে।
ফোড়নের সুগন্ধ বেরোলে তাতে একটা বড় পেঁয়াজ কুচিয়ে তাতে যোগ করতে হবে এবং এক মিনিট পর্যন্ত নাড়াচাড়া করতে হবে।
এবার সবজি কুচিয়ে তাতে যোগ করতে হবে। ১টি গাজর, ১০টি বিনস, আধ কাপ ফুলকপির কুচি, আধ কাপ মটরশুঁটি এবং আধ চা-চামচ শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো ওই মিশ্রণে দিতে হবে।
মশলার সঙ্গে সবজি কুচি ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে দুই মিনিট পর্যন্ত ভেজে নিতে হবে।
এর পর ১ কাপ সিমাই বা ভার্মিসেলি শুকনো খোলায় ভেজে নিয়ে বা রোস্ট করে নিতে হবে। রোস্টেড ভার্মিসেলি প্রেসার কুকারে যোগ করতে হবে। তাতে আধ কাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে।
এ-বার প্রেসার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে ১টি হুইসল পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রেসার বার হতে দিতে হবে।
এর পর প্রেসার কুকার থেকে পাতে ঢেলে গরম গরম ভেজ সিমাই পরিবেশন করা যাবে।

গুজরাতি খিচুড়ি

খিচুড়ি খেতে কার না-ভাল লাগে। আর তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ভাল। আর এর মধ্যে নানা প্রকার সবজি পড়লে তো কথাই নেই। খিচুড়ির স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। আর তা হবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেখে নেওয়া যাক, এই খিচুড়ির রেসিপি।
একটি বড় বাটিতে আধ কাপ ডালিয়া এবং ১/৪ কাপ অড়হর ডাল নিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
এ-বার একটি প্রেসার কুকারে ২ টেবিল-চামচ ঘি গরম করতে হবে। এর মধ্যে ১ চা-চামচ গোটা সর্ষে, ১০টি কারি পাতা, ১/৪ চা-চামচ হিং, একটি শুকনো লঙ্কা এবং আধ চা-চামচ গোটা জিরে ফোড়ন করতে হবে। আধ মিনিট মতো নাড়াচাড়া করতে হবে।
ভিজিয়ে রাখা ডালিয়া এবং অড়হর ডাল থেকে জলটা ছেঁকে নিতে হবে। এর পর উভয় উপকরণই কুকারে যোগ করতে হবে।
এবার মশলা যোগ করার পালা। ১/৪ চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো, আধ চা-চামচ শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো এবং স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিতে হবে।
অর্ধেক করা গাজর কুচি, অর্ধেক আলু কুচি এবং ৩ টেবিল-চামচ মটরশুঁটি যোগ করতে হবে।
কুকারে এর পর ৩ কাপ জল দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে।
প্রেসার কুকারের ঢাকনা আটকে দিতে হবে এবং মাঝারি আঁচে ৩ থেকে ৪টি হুইসল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রান্না হয়ে গেলে ১/৪ চা-চামচ গরম মশলা গুঁড়ো এবং ২ টেবিল-চামচ ধনেপাতা কুচি ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে।
ব্যস, খিচুড়ি একেবারে প্রস্তুত। পাতে ঢেলে গরম-গরম খিচুড়ি পরিবেশন করার পালা।

ভেজ পাস্তা বা ভেজিটেবল পাস্তা

পাস্তা তো অনেকেই খেতে ভালোবাসেন। সবজি, কর্ন, চিজ দিয়ে পাস্তা বানালে তা খেতেও হবে উপাদেয়। আর চোখের পলক ফেলতে না-ফেলতেই তৈরি হয়ে যাবে এই ভেজ পাস্তা। দেখে নেওয়া যাক এই সুস্বাদু খাবারের রেসিপি।
একটি প্যান গরম করে তাতে ২ টেবিল-চামচ তেল দিতে হবে। তেলটা গরম হলে থেঁতো করা ৪ থেকে ৫ কোয়া রসুন, ১টি বড় পেঁয়াজ কুচি যোগ করতে হবে। ১ থেকে ২ মিনিট পর্যন্ত তা নাড়াচাড়া করতে হবে।
এখন ২ টেবিল-চামচ পাস্তা স্যস এবং ২ টেবিল-চামচ জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে।
এর পর ১ কাপ পাস্তা এবং ১/৪ কাপ কর্ন যোগ করতে হবে। তাতে স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিতে হবে।
একটা পাত্রে ২ কাপ জল যোগ করে তা ফুটিয়ে নিয়ে প্যানে যোগ করতে হবে। খানিক নাড়াচাড়া করে প্যানের ঢাকনা আটকে দিতে হবে।
১০ মিনিট মতো পাস্তা রান্না করে নিতে হবে। এর পর ১টি ক্যাপসিকাম কুচি এবং পছন্দমতো চিজ গ্রেট করে যোগ করতে হবে।
পাস্তার মিশ্রণটি শুকনো হয়ে এলে তাতে ১/৪ কাপ গরম জল দিতে হবে। এ ভাবে আরও ৩ থেকে ৪ মিনিট মতো রান্না করে নিতে হবে।
পাস্তার মধ্যে গোলমরিচের গুঁড়ো, ওরিগ্যানো এবং চিলি ফ্লেকস যোগ করে তা সিজনিং করতে হবে।
এই ভাবে আরও এক মিনিট রান্না করে গ্যাসের আঁচ বন্ধ করে দিতে হবে।
এর পর সুন্দর করে পাতে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

চিকেন রাইস

যাঁরা চিকেন খেতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এই পদটি অতুলনীয়। আর এটা খেতেও অসাধারণ। রান্না করতেও সময় লাগে অত্যন্ত কম। দেখে নেওয়া যাক, পুষ্টিকর এই খাবারের রেসিপি।
একটি বড় বাটিতে ৫০০ গ্রাম বোনলেস চিকেন নিতে হবে। তার মধ্যে ১/৪ চা-চামচ লবণ, ১ চা-চামচ শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, ৩ টেবিল-চামচ টক দই এবং স্বাদ অনুসারে লবণ দিয়ে ম্যারিনেট করে রাখতে হবে। ৩০ মিনিট মতো এই ভাবে রেখে দিতে হবে।
একটি পট বা পাত্রের মধ্যে ২ টেবিল-চামচ তেল গরম করে নিতে হবে। এবার তার মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা চিকেন যোগ করে তা ভেজে নিতে হবে। দুই পাশ সোনালি হওয়া পর্যন্ত চিকেনটা ভাজতে হবে। রান্না হয়ে গেলে চিকেনের টুকরোগুলিকে তুলে নিতে হবে।
পাত্রের মধ্যে থাকা তেলের মধ্যে আরও ১ টেবিল-চামচ তেল গরম করতে হবে। তার মধ্যে ২টো স্টার অ্যানিজ, ২টো তেজপাতা এবং ১ ইঞ্চি দারচিনি ফোড়ন দিতে হবে।
এবার ২টো বড় পেঁয়াজ কুচি যোগ করে তা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে। তার মধ্যে ১ টেবিল-চামচ আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে।
ওই মিশ্রণের মধ্যে ভেজে নেওয়া চিকেনের টুকরোগুলি যোগ করতে হবে।
এবার মশলা যোগ করার পালা। তাতে ১ টেবিল-চামচ ধনে গুঁড়ো এবং আধ চা-চামচ গরম মশলা গুঁড়ো মিশিয়ে ভাল করে ভাজতে হবে।
এর মধ্যে ১০০ মিলিলিটার নারকেলের দুধ বা কোকোনাট মিল্ক এবং ১০০ মিলিলিটার জল মিশিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে।
প্রয়োজন মতো লবণ দিতে হবে এবং মিশ্রণটিকে ফোটাতে হবে।
মাংসটা সেদ্ধ হয়ে এলে ২ কাপ চাল এই মিশ্রণে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে।
পাত্রটাকে ঢেকে দিতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ মিনিট রান্না করতে হবে। চালটা পুরোপুরি সেদ্ধ না-হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে।
চাল ও মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে পাতে ঢেলে ধনেপাতা কুচি দিয়ে সাজিয়ে গরমগরম উপভোগ করতে হবে।

(Feed Source: news18.com)