বলাই দে’র ছড়া

বলাই দে’র ছড়া

ফেরাও দৃষ্টি

বলাই দে

আছে অঢেল আরও চাই
চাওয়ার যুদ্ধ জীবনভর,
সুন্দর এই আকাশ বাতাস
সুন্দর এই চরাচর।

নিত্য বলে নাই যে কিছুই
ঢেউটি আছে অনিত্যের,
মনে সদাই হিসেব নিকেশ
হয় না তার হেরফের।

অতৃপ্তিটা লেগেই থাকে
শয়নে বা জাগরণে,
বোঝা কেবল বেড়েই চলে
বেড়েই চলে হৃৎকাননে ।

আগে চলে ‘মন মদীনা’
হৃদয় থাকে অনেক পিছে,
লক্ষ্য কেবল পাহাড়চূড়া
বাকি সব শুধুই মিছে।

মুখে হাসির ঝলক থাকে
অতৃপ্তির ভাবটা তেতো,
সুখ পাখিটির গানটি মধুর
যদি সে গান শুনতে পেতো!

‘কবিগুরু’বলে গেছেন
‘যাহা অল্প তাহাই মিষ্টি’,
পাহাড় দেখো নদী দেখো
অন্তরে তে ফেরাও দৃষ্টি।


থামবে ঝড়

বলাই দে

যতই কঠিন হোকনা জীবন
একদিন তার হবেই ইতি,
সহজ ধারায় বইবে জীবন
এই জগতের এইতো রীতি।

যুগের পরে পেরোয় যে যুগ
নতুন নতুন সমস্যাতে,
পেরিয়ে যায় অমানিশা
অরুণ রেখা ওই প্রভাতে।

ভালো সময় খারাপ সময়
জীবনেরই একটি ধারা,
হাজার বছর হাজার হ্যাপা’য়
নানান আঘাত করে তাড়া।

ইতিহাসের পাতায় পাতায়
ছড়িয়ে আছে নানান কথন,
গড়ে ওঠে সভ্যতা ফের
পুরাতনের হলে পতন।

নতুন গানের ফুটবে কলি
গাইবে সে গান নতুন পথিক,
নতুন বাঁকে বইবে নদী
দিশা দেবে আবার সঠিক।

যতই আসুক হুঙ্কারে ঝড়
একদিন সে থেমেই যাবে,
পাহাড়, নদী, সাগর, মাটি,
সাধারণে পথ দেখাবে।

ভ্রান্তি

বলাই দে

নিশ্চিত বলে হয়না কিছুই
এসব নেহাত ভ্রান্তি,
ভ্রান্তিটুকু আছে বলেই
আসছেনা তো ক্লান্তি!

নিশ্চয়তা নিয়েই বাঁচি
নইলে হতো কষ্ট,
ভ্রান্তির বশে এই বাঁচাটাই
সুখটি যেন স্পষ্ট।

বুঝতে পেলে ভ্রান্তিটুকু
কী যে হতো হালটা, করে
এলোমেলো হয়েই যেতো
ছিঁড়ে যেতো ‘পাল’টা।

দিগ্‌বলয়ে রঙের ফানুস
কাটে দিবারাত্রি,
বে-সুমার সেই স্বপ্ন দেখা
অচিনপুর যাত্রী।

বিপর্যয়ের সময়টাতে
যখন সবই রুদ্ধ,
নতুন করে নতুন দিশায়
শুরু জীবন যুদ্ধ।

যারা এখন এগিয়ে আছে
পিছিয়েও পড়ে দৌড়ে,
ইতিহাস তো সেইটে শেখায়
লাগাও যতই ফেউ রে!