কবিতা

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন শরৎ পর্যায় অগাস্ট-সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং 

দিশারী মুখোপাধ্যায়ের কবিতা  

সার্নের চিঠি  


টিনের কৌটো প্লাস্টিকের বালতি স্টিলের টিফিনক্যারিয়ার 

বাটি ঘটি গেলাস বয়ামে 

জমিয়ে রেখেছি অন্ধকার 

প্রয়োজনে কাজে লাগবে 


তোমার চিঠিতে জানতে পারলাম 

এ যাবৎ ছুট হয়ে যাওয়া সব গাড়িগুলো 

গ্রাহ্য হয়ে উঠছে তাদের ডিপারচারে 

আর ভালবাসার ল্যাব-বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে 

লভ মানে লয় 

মানে সো-অহম 


চাতকের ভাষা অনূদিত হচ্ছে 

ক্রমশ ফুটে উঠছে 

অনাবিষ্কৃত কোটি কোটি ভাষা 

দৌড়ের মাঠে এবার ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড উঠে যাবে 

উঠে যাবেই 



পার 


লোকটা মরে যাবে 

তাই 

বাড়িতে ঢোকার মুখে 

অত বড় ক্রিসমাস গাছটা 

শুকিয়ে গেল 

পাতাল পর্যন্ত টইটম্বুর ইঁদারাটা 

বোবা হয়ে গেল 

আর গুটি কেটে বার হতে গিয়ে 

প্লাস্টিকের মথ হয়ে গেল 

আস্ত একটা পাগল 


যারা জানতো লোকটা মরে যাবে 

তারা এখন রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দেখছে 

মরে যাবার পর লোকটা 

জেব্রাক্রসিং পেরিয়ে গেল দিব্যি 

আর 

রাত্রি এখন বোকার মত ভাবছে 

কতটা নিশুতি হবে আরো 



ট্যারেন্টুলা 


যখন তখন সে আমার বিছানায় উঠে পড়ছে 

খোলা জানালার গ্রীল থেকে 

আলো কিংবা অন্ধকারকে অগ্রাহ্য করে 

দিনরাত উঁকি মারছে 


বিছানা ঝেড়ে পরিষ্কার করে 

বালিশের ঢাকা পাল্টে 

টানটান করে নতুন চাদর পেতে দিলেও 

সে কখন এসে পড়ে মাঝখানে 

যেন এই যত্নআত্তি প্রাপ্য তার 


খুব সূক্ষ্ম মায়ার রশ্মি টেনে 

বেঁধে ফেলতে চাইছে আমাকে সাতপাকে 

সে আমার জীবনের অন্তিম প্রেম


HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন