অনুগল্প

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০১৮ ইং

রূপকথার গপ্পো এক
সত্যেন্দ্যু মুখোপাধ্যায় 


একদেশে এক রাজা ছিলেন। তাঁর হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, লোক-লস্কর সেপাই-সান্ত্রি ঢাল-তরোয়াল সব ছিল। কিন্তু মনে কোন সুখ ছিল না। রাজার শোবার ঘরের ঘুলঘুলিতে একটা ভূত থাকতো। সেটা রাজাকে খুব জ্বালাতো।
সারাদিনের ভোগ, রাগ, খাটাখাটুনির পর পরিশ্রান্ত রাজা যখন সোনার পালঙ্কে শুতে যেতেন এবং যেই ঘুম এসে চোখের পাতায় নেমে আসত ঠিক তখনই কালোকেলু ছায়াশরীরে গোল গোল লালচোখ নিয়ে ভূতটা ঘুলঘুলি থেকে নেমে আসত। আর রাজাকে তার সারাদিনের কাজের হিসাব চাইত।
--- হারু গোঁসাইকে মারলি কেন ?
--- পদ্মমণির মুক্তোমালা তুই ঠকিয়ে নিলি কেন ?
--- কামাল মিঞার সাদা ঘোড়াটা ছাড়া কি তোর চলছিল না ?
--- আদিত্য পণ্ডিতকে তোর পায়ে মাথা ঠেকাতে বাধ্য করলি কেন ? … … ইত্যাদি ইত্যাদি।
এসব শুনে রাজা জেগে উঠে হুঙ্কার দেন, আমি রাজা। আমার কাজের কোনো কেন নেই। আমি কাউকে উত্তর দিই না।
কিন্তু জেগে উঠে সামনে কাউকে দেখতে পান না তিনি। চিৎকার শুনে বিনিদ্র দ্বাররক্ষী ছুটে আসে। আভূমি প্রণাম করে বলে, প্রভু, আজ্ঞা করুন।
রাজা গুম হয়ে থেকেছেন। বলেছেন, না।
তারপর রাজার হাতের ইশারায় দ্বাররক্ষী ফিরে যায়।
রাজা ভাবেন, ভূতটা কি বোঝে না ? এসব না করলে যে রাজ্যপাট চালানো যায় না। এসব না করলে যে কালু বাউরির সঙ্গে তাঁর কোন ফারাক থাকবে না। আর এই ফারাকটাই তো তাঁকে রাজা বানিয়ে রেখেছে।
                                                                                                                                     HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন